• ই-পেপার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

হাছান মাহমুদ-নওফেল-ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

নিরাপত্তা চেয়ে পিয়া জান্নাতুলের জিডি, তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপত্তা চেয়ে পিয়া জান্নাতুলের জিডি, তদন্তের নির্দেশ
ফাইল ছবি

নিরাপত্তা চেয়ে করা আইনজীবী ও আলোচিত মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ওরফে পিয়া জান্নাতুলের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে জিডির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, পিয়া জান্নাতুলের জিডির বিষয়ে বনানী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর আগে গত ৮ জুলাই পিয়া জান্নাতুল বনানী থানায় জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অতীত বা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নন তিনি। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। সম্প্রতি একজন নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সম্পূর্ণ মানবিক ও আইনসম্মত অবস্থান গ্রহণ করার পর গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আপত্তিকর বার্তা পাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকিমূলক ফোনকল আসছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন পিয়া।

শুধু তাই নয়, প্রায় তিন মাস ধরে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণ করছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কবোধ করছেন। তার আশঙ্কা, যে কোনো সময় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ পুলিশি সুরক্ষা কামনা করেন পিয়া জান্নাতুল।

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট

বাসস
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ টুথপেস্টে  ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে এই রিটটি করেন।

বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী। 

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। তাদের গবেষণায় ২৬টি নমুনায়, অর্থাৎ প্রায় ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা : ২১ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ ৩ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা : ২১ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ ৩ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালত এই দিন ঠিক করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ঠিক করা ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই আদালতের প্রতি অনাস্থার বিষয়ে এক আসামির শুনানি চলমান থাকায় আবেদনের ওপর শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ঠিক করেন।’

এর আগে, ১৯ জুলাই ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান মাহমুদুল হাসান মাহিন নামে এক আসামি। মাহিনের পক্ষে তার আইনজীবী মাশরুর হোসাইন এই আবেদন জমা দেন। তবে ওই আবেদনের ওপর শুনানি এখন নিষ্পত্তি হয়নি। 

মামলার আসামিরা হলেন— মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি,  রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়ি পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে  কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।

তবে মামলাটির তদন্তে ত্রুটি থাকায় পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। 

চলতি বছরের ১০ মে তদন্ত করে আবারও ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ। গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। 

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।

ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ধর্ষণ মামলায় বর্তমানে (ওএসডিপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত ডিআইজি ও মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৭ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার নথী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এদিন আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় ওই প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাদীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। আসামিকে বাদী বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে বাদী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে বাদীর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় বাদীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বাদীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং একই সময় পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে গত ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি পুনরায় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ১৪ জুলাই ওই ঘটনায় সত্য পেয়েছেন মর্মে আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক।

সর্বশেষ সংবাদ
হাছান মাহমুদ-নওফেল-ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ | কালের কণ্ঠ