• ই-পেপার

তোমাদের আঁকা

ফউ

লেখা : ইমদাদুল হক মিলন, আঁকা : তানভীর মালেক

ফউ

মেসি মেসি

রেবেকা ইসলাম

মেসি মেসি
অলংকরণ : তানভীর মালেক

 মেসি, মেসি, মেসি, মেসি

নেই রেষারেষি,

মেসি, মেসি, মেসি, মেসি

ভালোবাসি বেশি।

 

বল নিয়ে ছুটে চলে

দেখি আমি, তুমি,

পৃথিবীটা যেন তার

নিজ বাসভূমি।

 

কে‌উ দেখি টিভি খুলে

কেউ গ্যালারিতে,

মেসি এসে গোল দেয়

দল যায় জিতে।

 

বল পায়ে ছোটে মেসি

অস্থির সব,

হৈ‌হৈ‌ রৈ‌রৈ‌

কত কলরব।

 

ড্রিবলিং, ট্যাকলিং

সেরা সবটাতে,

খেলা দেখে দর্শক

ফুর্তিতে মাতে।

 

মারামারি করে না সে

দেখায় না পেশি,

চারদিকে রব তাই

মেসি, মেসি, মেসি!

 

 

আম-কাঁঠালের তর্ক

বাসুদেব খাস্তগীর

আম-কাঁঠালের তর্ক

আম ধরেছে থোকা থোকা

বাতাস এলেই নড়ে

কাঁঠাল বলে, দেখেই আমার

প্রাণটা কেমন করে।

 

তোর বোঁটা ভাই এত্ত নরম

একটু হাওয়া এলে

সারা উঠোন আমের মেলা

দেখি যে চোখ মেলে।

 

আমের কথা, ঝরে পড়ি

কী হয়েছে তাতে

পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে

উঠতে কি চাই জাতে?

 

কাঁঠাল বলে, এটি নিছক

একটি প্রবাদ বাক্য

কার মাথাতে ভাঙছে কাঁঠাল

দেখে কে দেয় সাক্ষ্য?

 

পরের ক্ষতি করে নিজের

স্বার্থ আদায় অর্থে

প্রবাদটা কয়—কিন্তু তা নয়

বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বে।

 

নূপুর ভূত

পৃথ্বীজিৎ চৌধুরী, সপ্তম শ্রেণি, আগরপাড়া স্বামী বিবেকানন্দ একাডেমি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

নূপুর ভূত
অলংকরণ : নাহিদা নিশা

রাতের বেলা বাবা এসেছে। আর স্কুলে আজই শুনে এসেছি একটা ভূতের সিনেমা বেরিয়েছে, যেটা আমি ছাড়া নাকি সবাই দেখে ফেলেছে। বাবা বাড়ি ফিরতেই বায়না শুরু করলাম, আজকেই মোবাইলে  সিনেমাটা দেখাতে হবে। অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর বাবা শেষ পর্যন্ত হার মানলেন। একটাই শর্ত, পরের দিন ক্লাস টেস্টে ফুল মার্কস আনতে হবে। ব্যস, চুক্তি সই! সেটা একটা ভূতের সিনেমা। সেখানে একটা মহিলা সারা বাড়ি নূপুর পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নূপুরে ঝমঝম করে আওয়াজ হচ্ছে। সেটা দেখে ভয়ে ভয়ে শুতে গেলাম। হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেল।

কোথা থেকে যেন একটা নূপুর বাজছে, ঝুমঝুম। মনে হলো, কে যেন আমার মাথার পাশ থেকে নূপুর পরে চলে গেল। পায়ের কাছে একটা চাদর ছিল, ভয় পেয়ে সেটা টেনে গরমের মধ্যেও মাথা ঢেকে শুয়ে পড়লাম ঘামতে ঘামতে। সকালবেলা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙল। মা বললেন, ‘তোর কি কাল মাথা খারাপ হয়েছিল? এত গরমের মধ্যে চাদর দিয়ে মাথা মুড়ে শুয়েছিলি রাতে?’ বললাম, কাল জানো তো মা, ওই, ওই ভূতটা, মানে সিনেমার নূপুর পরা ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, ঝুমঝুম করে আওয়াজ হচ্ছিল নূপুরের। আমি ছায়াও দেখেছি। বিশ্বাস করো, কাল সত্যিই এসেছিল। মা বললেন, ‘ভূতের সিনেমা বা গল্প পড়তে এ জন্যই তোকে বারণ করি। তুই তো এক নম্বরের হাঁদার ডিম। কাল রাতের বেলা আমার ওড়নাটা, যেটার নিচে ঝুনঝুনি লাগানো আছে, সেটা কেচে বারান্দায় মেলেছিলাম। হয়তো রাতে হাওয়া দিচ্ছিল, তারই শব্দ হচ্ছিল, আর তুই কি না ভেবে বসলি ভূত এসে তোর মাথার ওপর নাচছে। হায়রে ভগবান, কী ভীতু আমার ছেলেটা।’

মাথা চুলকে বললাম, আরে না মা, আমি তো মজা করছিলাম, তুমি এটাকে সত্যি ভেবে নিলে? তুমি বোকা হয়ে গেলে, আজ তো এপ্রিল ফুল ডে। দেখো কেমন ফুল বানালাম তোমাকে।