হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল মিলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠন করা হয় যুক্তফ্রন্ট। এই যুক্তফ্রন্টই ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রথম নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াই শুরু করে। তবে নৌকার আগে লাঙল প্রতীক চেয়েছিল যুক্তফ্রন্ট। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যুক্তফ্রন্টকে লাঙল দেয়নি। কারণ লাঙল ছিল শেরেবাংলার অবিভক্ত ভারতের কৃষক প্রজা পার্টির প্রতীক। পরে নৌকাকেই প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় যুক্তফ্রন্ট। কেন বা কে নৌকা নির্বাচিত করেছিল আজ আর তা জানা যায় না। তবে শেখ মুজিবুর রহমানের নৌকাপ্রীতির একটা ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষে গোপালগঞ্জে সাহায্য আনার জন্য মুসলিম লীগের জাতীয় নেতাদের নিয়ে নিজের এলাকায় একটা সম্মেলনের আয়োজন করেন তরুণ মুজিব। বড় বড় নৌকার বাদাম দিয়ে সম্মেলনের প্যান্ডেল করেছিলেন তিনি। প্যান্ডেলে নৌকার একটি অনুষঙ্গ ব্যবহারের এই আইডিয়াটা ছিল অভিনব। পরে আওয়ামী লীগের অনেক অনুষ্ঠানের মঞ্চসজ্জাতেই ব্যবহার করা হয়েছে নৌকা। যুক্তফ্রন্ট ভেঙে গেলে জোটের সবচেয়ে বড় দল এবং নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনজয়ী হিসেবে নৌকা প্রতীক আওয়ামী মুসলিম লীগেরই থেকে যায়। ১৯৫৭ সালে নাম থেকে ‘মুসলিম’ বাদ দিয়ে জন্ম নেয় আওয়ামী লীগ এবং নৌকা প্রতীকও পায় তারা। কিন্তু নৌকায় চড়ে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগকে অপেক্ষা করতে হয় আরো ১৩ বছর। পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে সাধারণ পরিষদে ১৬০ এবং প্রাদেশিক পরিষদে ২৮৮ আসনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সেই থেকে আজ অবধি নৌকাতেই চড়ে আছে আওয়ামী লীগ। সূত্র : কমল জোহা খানের ‘যেভাবে এল নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল’