মেসিভক্তদের সুসময় যাচ্ছে। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোল করেছে পাঁচটি, সবগুলোই করেছেন মেসি। সেই কীর্তি স্বচক্ষে দেখেছেন বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী। স্বামীকে [অভিনেতা এফ এস নাঈম] সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচে হাজির হয়েছিলেন নাদিয়া। উচ্ছ্বাসমাখা সে সব ছবি শেয়ার করেছেন ফেসবুকে। দেশের আর্জেন্টাইন ভক্তদের কাছে রীতিমতো ঈর্ষার পাত্রী এখন নাদিয়া।
পাঠক
স্টার অব দ্য উইক : নাদিয়া আহমেদ

শুভ জন্মদিন

এ সপ্তাহে যাঁদের জন্মদিন
[২৫ জুন—২ জুলাই]
সাবরিন সাকা মীম, সৈয়দ বাবু,
সিদ্দিকুর রহমান [২৫ জুন]
আশুতোষ সুজন [২৬ জুন]
অপূর্ব, স্মৃতি ফামি [২৭ জুন]
আরজে নীরব [২৯ জুন]
রাহুল আনন্দ, মোস্তফা প্রকাশ [৩০ জুন]
সৈয়দ আব্দুল হাদী, জয়া আহসান, বিউটি দাস, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, শরাফ আহমেদ জীবন [১ জুলাই]
তমালিকা কর্মকার, বেলাল খান,
নিরব হোসেন [২ জুলাই]
ছবিটা দেখে স্মৃতিকাতর হই
ডিজিটাল এই সময়ে কারণে-অকারণে ছবি তুলি আমরা। সেগুলো জমা হয় ফোনের গ্যালারিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় পাতায়। কিছু ছবি আমাদের ভীষণ প্রিয়। অভিনয়শিল্পী প্রিয়ন্তী উর্বী জানিয়েছেন তাঁর সবচেয়ে ‘প্রিয় প্রতিচ্ছবি’র গল্প

অগণিত প্রিয় ছবির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হলে আমি এ ছবিটাই বেছে নেব। কারণ এটাই আমাদের পরিবারের সবার একসঙ্গে তোলা একমাত্র ছবি। ২০২৪ সালে বাবা মারা গেছেন, ঠিক তার এক মাস পরেই আমার বিয়ে। বাবারই আমার বিয়ে নিয়ে তাড়া ছিল, বাবাই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেছিলেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা
আমার বিয়ে পর্যন্ত বাবাকে বেঁচে রাখলেন না। তবে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উনার ঠিক করা দিনক্ষণেই আমার বিয়ে হয়। ছবিটা আমার বিয়ের আগে ঘরোয়া এক অনুষ্ঠানে তোলা। বাবা-মা, আমরা তিন বোন, বড় দুই বোনের বর আর আমার সবচেয়ে প্রিয় বিড়াল উচ্ছ্বাস। আমরা এরপর আর একত্র হতে পারিনি। বাবা মারা গেলেন। আমার প্রিয় বিড়াল উচ্ছ্বাস, যাকে দশ বছর ধরে লালনপালন করে বড় করেছি, সেও মারা গেছে। বোনেরা বরসহ বিদেশে থাকেন। দেশে রয়েছি শুধু আমি আর মা। হাজার চেষ্টা করেও এমন ছবি আর তোলা যাবে না। তাই এই ছবিটা দেখে স্মৃতিকাতর হই।
উগান্ডার ফুটপাত থেকে বিশ্বমঞ্চে
রিলস-টিকটক-শর্টসে আফ্রিকান এই শিশুদের প্রাণবন্ত নাচ অনেকেই দেখেছেন। উগান্ডার কাম্পালা শহরের কাটওয়ে বস্তির বাসিন্দা এই অনাথ-পথশিশুরা। চলমান ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপের মাঠ ও মাঠের বাইরের আলোচিত মুখ এই শিশুরা

ইংরেজি ‘ঘেটো কিডস’ শব্দযুগলের বাংলা ‘বস্তির শিশুরা’। আক্ষরিক অর্থেই নয়, তারা আসলেই বস্তিবাসী। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার কাটওয়ে বস্তিতে তাদের বাস। এই অনাথ, সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেন দাউদা কাভুমা। বস্তির স্কুলে শিশুদের পড়ান তিনি। ২০১৪ সালে এই শিক্ষক তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি ড্যান্স ও মিউজিক গ্রুপ। দলের নাম রাখেন ‘দ্য ঘেটো কিডস’। নাচে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এই শিশুরা শুরু করে নাচের অনুশীলন। কাঠের টুকরার সঙ্গে সুতা বেঁধে গিটার বানিয়ে, লোহার তারের সঙ্গে বোতলের ছিপি আটকে মাইক্রোফোন বানিয়ে খালি পায়েই কাম্পালার পথে-ঘাটে নেচে-গেয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করে তারা। সেসব ভিডিও সারা বিশ্বেই ভাইরাল হয়েছে।
সেই শিশুরা এবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’-এ নেচেছে কলম্বিয়ান কিংবদন্তি গায়িকা শাকিরার সঙ্গে। গত মাসে [২৩ মে] গানের ভিডিও প্রকাশের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত শুধু ইউটিউবেই দেখা হয়েছে ২২ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি বার। শাকিরার সঙ্গে খুদে নৃত্যশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত নাচের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব। আগে যাঁরা এই শিশুদের শর্টস, রিলস বা টিকটকে দেখেছেন, তাঁরাও যেন ঠিক বিশ্বাস করতে চাইলেন না। অনেকেই মন্তব্যের ঘরে জানতে চেয়েছেন এ শিশুদের পরিচয়। এমন চমৎকার নাচ কিভাবে শিখল তারা, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগই বা হলো কেমন করে।
অবশ্য ফিফা বিশ্বকাপের আগের আসরেও ছিল ‘দ্য ঘেটো কিডস’। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নিয়েছে তারা। ২০২৩-এ ফুটবল ক্লাব পিসএজির আমন্ত্রণে প্যারিসেও পারফরম করে।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার বছরেই উগান্ডার শিল্পী এডি কেনজোর গানের ভিডিওতে নেচে ভাইরাল হয় ‘দ্য ঘেটো কিডস’। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একের পর এক নাচের ভিডিও প্রকাশ করতে থাকে তারা। ২০১৭ সালে মরোক্কান বংশদ্ভূত অ্যামেরিকান র্যাপার ফ্রেঞ্চ মনটানার মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রেও ঘেটো কিডসদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

মজার বিষয় হলো, ‘দাই দাই’ মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেওয়ার জন্য ঘেটো কিডসদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনাটা ছিল স্বয়ং শাকিরারই। এক সাক্ষাৎকারে শাকিরা জানান, ঘেটো কিডদের নাচের ভিডিও দেখে চমত্কৃত হয়েই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দাই দাইয়ের ভিডিওিতে তাদের সঙ্গে পারফরম করবেন। শাকিরা নিজেও কলম্বিয়ার দরিদ্রপাড়ায় বেড়ে উঠেছেন। সে দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এই পথশিশুদের জীবনের গল্প। শাকিরার মতে, বিশ্ব মঞ্চে পারফরম করা সবার অধিকার। এ ভিডিওতে অংশ নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজেদের মেধা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে ঘেটো কিডস। ভিডিওটির আয়ের পুরোটাই যাবে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে। দরিদ্র শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
ঘেটো কিডসের জন্য আরো খুশির খবর—বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের ‘হাফটাইম শো’তে পারফরম করবেন শাকিরা, কলম্বিয়ান গায়িকা তার সঙ্গে পারফরম করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঘেটো কিডস সদস্যদের। ১৯ জুলাই নিউজার্সি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘হাফটাইম শো’তে পারফরম করবেন শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএস।
