দেশের মানুষের কাছে রাজনৈতিক বিষয়গুলো স্পষ্ট নয়। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশে মতবিরোধ, আন্দোলন, সহিংসতা-হানাহানি দেখা যায়। কিন্তু এবার সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে এমন সব ঘটনা, যা জনগণকে ঘূর্ণাবর্তে ফেলে দিয়েছে। মানুষের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে যে দেশ কি নিরুদ্দেশে যাত্রা করল? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান সরকারের প্রধান রেখে নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশ-বিদেশে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এই নির্বাচন? দেশের বাইরে কী খেলা চলছে বাংলাদেশ নিয়ে? বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে অংশ নেবে? জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বের হয়ে কেন নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে চায়? জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ কেন ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া কেন খানিকটা মন্থর হয়ে পড়েছে? শেষ পর্যন্ত ডেডলাইন ২৪ জানুয়ারি কি ঠিক থাকবে? দেশের চলমান রাজনীতির এই সব নানা প্রশ্নের উত্তর-প্রত্যুত্তর নিয়ে এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন লিখেছেন মহসীন হাবিব এখন মহাজোট সরকার নেই। মন্ত্রিপরিষদে কিছুটা রদবদল করে একটি তথাকথিত নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। এই সর্বদলীয় সরকারে নেই দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের শরিকরা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান সরকারের প্রধান রেখে নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী দলগুলো। কিন্তু দেশ-বিদেশে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এই নির্বাচন? দেশের বাইরে কী খেলা চলছে বাংলাদেশ নিয়ে? বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে অংশ নেবে বা নিতে বাধ্য হবে? জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বের হয়ে কেন নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে চায়? বিএনপি কেন হঠাৎ করে ভারতের ব্যাপারে বৈরী হয়ে উঠেছে? জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ কেন ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া কেন খানিকটা মন্থর হয়ে পড়েছে? শেষ পর্যন্ত ডেডলাইন ২৪ জানুয়ারি কি ঠিক থাকবে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সম্পর্কে জনগণের যেমন কোনো ধারণা নেই, তেমনি অদূর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আসছে এমন সব মন্তব্য, যা জনগণকে আরো জটিল হিসাব-নিকাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ কয়েকজন বলেছেন, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে আসবে। নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে। বিএনপি নেতা ও সংসদের হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতকে বিএনপি জোট থেকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রথমে ইতিউতি করলেও পরে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আবার ২৩ নভেম্বর সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের গোপন বৈঠক হয়েছে। সুকৌশলে মির্জা ফখরুল পরে জানিয়েছেন, কোনো সংলাপ হয়নি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চট্টগ্রামে হেফাজত নেতা আল্লামা শফীর সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিয়েছেন। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, আল্লামা শফী এরশাদের মাথা বুকের কাছে নিয়ে আদর করে দিচ্ছেন, দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিচ্ছেন। এর দুই দিন পরই হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, এরশাদ দোয়া নয়, বদদোয়া নিয়ে গেছেন। এই যে প্রতিদিন রাজনীতির নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা নিজেদের অবস্থান খানিকটা পরিবর্তন করে নিচ্ছেন- এসব কিসের ইঙ্গিত জনগণ বুঝতে চেষ্টা করে কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। ফলে দেশের মানুষের রাজনীতি নিয়ে যেন রক্তচাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিটি দিন যাচ্ছে আর এই চাপ যেন বাড়ছেই। সংশোধিত 'সংবিধান অনুসারে' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার এখন রুটিন কাজ চালানোর কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলছে ভিন্ন কথা। জানা গেছে, নতুন যাঁরা মন্ত্রী হয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব বলয়ে রীতিমতো আনন্দ-উৎসব দেখা গেছে। বিগত দিনে যে দুজন মন্ত্রিত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরাও মন্ত্রী হয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। অথচ এই মন্ত্রিসভার বয়স হওয়ার কথা মাত্র দুই, বড়জোর আড়াই মাস। দেশবাসী তাই স্পষ্ট করে জানতে চায়, সত্যিই কি এই মন্ত্রিসভার মেয়াদ দুই মাস? ধরা যাক প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরিক দলগুলো ছাড়াই একটি নির্বাচন হলো। সেই নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে গঠিত হবে সরকার। মির্জা ফখরুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সর্বাত্মক আন্দোলনের। সেই অনুসারে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আন্দোলনে নামল। সরকার 'সংবিধান অনুসারে' দেশ চালাতে এবং ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ঠেকাতে পুলিশ-বিডিআর নামিয়ে দিল। সে ক্ষেত্রে প্রাণহানি, দেশের সম্পদ ধ্বংস দেখে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া কী হবে? এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী দেশগুলোর বাংলাদেশ বিষয়ক ভূমিকাও খুব স্পষ্ট নয়। ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে বাংলাদেশ নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে সমস্যা সমাধানের কোনো ফর্মুলা কেউ দিতে পারেননি। উদ্বেগ প্রকাশ আছে, কিন্তু সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামার বৈঠক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনার হঠাৎ করে ভারত সফর, তড়িঘড়ি করে লম্বা সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে নির্দেশনা এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশ্নে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ- সবই ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। লক্ষ করা গেছে, এই ঘটনাবলির পরপরই হঠাৎ করেই বিএনপি ভারতের ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে নিয়েছে। রবিবার বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, একটি বিদেশি রাষ্ট্র সরাসরি এই সরকারকে সহযোগিতা করছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতুল্লা বুলু একই অনুষ্ঠানে বলেছেন, আধিপত্যবাদী শক্তি এ দেশে পুতুল সরকার বসাতে চায়। বিশ্ববেহায়া এরশাদ এখন থুতু এরশাদে পরিণত হয়েছে। এরশাদ একজন ভারতীয় অনুচর। এর আগে শুক্রবার এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সরাসরি ভারতের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সরকারের ওপর আজ ভারতীয় সিন্দাবাদের ভূত চেপে বসেছে। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে এমন বক্তব্য বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে আসার কথা ছিল না। ভারতবিরোধী অবস্থান বিগত দিনে বিএনপির বহুকালের পলিসি হলেও ২০১২ সালে তারা সেই নীতি থেকে সরে এসেছিল। গত বছর বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া আমন্ত্রিত হয়ে ভারত সফরে গিয়ে উষ্ণ আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। শুধু ভারত সরকার নয়, বিজেপির সঙ্গেও আন্তরিক আলোচনা হয়। তিনি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। জবাবে ভারত কোনো বিশেষ দল নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের দিকে লক্ষ রাখার কথা জানিয়েছিল। ওই সময় মির্জা ফখরুলসহ অন্য নেতারা ভারতের প্রশংসা করে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালেও খালেদা জিয়া ভারত সফর করেছিলেন। কিন্তু সেই সফর আন্তরিক হয়নি ভারতবিষয়ক বিএনপির সেই সময়ের নীতির কারণে। এখন প্রশ্ন হলো, হঠাৎ করে কী এমন ঘটে গেছে অদৃশ্যে যে বিএনপিকে রাতারাতি ভারতবিদ্বেষী বক্তব্যে ফিরে যেতে হলো? বাংলাদেশের ব্যাপারে আমেরিকা-ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ করা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী কড়া সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না। সে কি ভারতের প্রভাবে? এ প্রশ্নটিও ঘুরে বেড়াচ্ছে জনগণের মাঝে। তবে সব কিছুই যে অপরিষ্কার তা নয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জোট ভেঙে নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা আওয়ামী লীগকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ারই শামিল। এরশাদের মামলার জট এখনো খোলেনি। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য যতটা না নির্বাচনে জয় লাভ করা, তার চেয়ে বেশি বিএনপি জোটকে ঠেকানো। কারণ তিনি ধারণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁকে কারাগারে যেতে হতে পারে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সরকারে জাতীয় পার্টির সাতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পুরস্কার হিসেবে। তবে যেহেতু জাতীয় পার্টির একটি বড় আকারের সমর্থন দেশে রয়েছে, তাই পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার লক্ষ যে এরশাদের নেই সে কথা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ কথাও ঠিক, দেশের তৃতীয় বৃহৎ দল হিসেবে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে আসায় 'নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো' ধরনের স্বস্তি বোধ করছে আওয়ামী লীগ। তবে একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে যে এরশাদ আন্তর্জাতিক কূটনীতি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। ৯ বছর দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা তাঁর হাতে থাকার কারণে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর রয়েছে বিশেষ অভিজ্ঞতা এবং বহু কূটনীতিকের সঙ্গে রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। সুতরাং আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী দলকে বাদ রেখে নির্বাচন করার বিষয়টি যদি একেবারেই পরিকল্পনাহীন গায়ের জোর ধরনের হতো তাহলে এই মুহূর্তে এরশাদ নির্বাচনে যেতেন না। আরো একটি ধারণা কোনো কোনো বিশ্লেষক পোষণ করেন, যদিও তার কোনো ভিত্তি নেই। সেটি হলো, এই মুহূর্তে নাকি বিএনপিও নির্বাচনে যেতে চায় না অন্য একটি কারণে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে, যা স্বাভাবিক নিয়মে চললে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। এই অবস্থায় বিএনপি যদি জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচনে যায় এবং জয় লাভ করে তাহলে কী করবে? ছেড়ে দেবে যুদ্ধাপরাধীদের? পারবে সেটা? আওয়ামী লীগ এবং স্বাধীনতার সব পক্ষশক্তির যে চাপ, সেই সঙ্গে মৌলবাদীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক যে চাপ তৈরি হবে তাতে বিএনপির জন্য দেশ পরিচালনা নরকে পরিণত হবে। এমনকি সরকার পতনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। আবার যদি জামায়াতের বিচার অব্যাহত রাখে এবং যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি প্রদান করে, তাহলে সরকার থেকে বেরিয়ে গিয়ে যে অসহযোগিতা জামায়াত শুরু করবে এবং আওয়ামী লীগের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলন শুরু করবে তা হজম করার ক্ষমতা বিএনপির থাকবে না। তাই তারা নাকি চাচ্ছে, হয় নির্বাচন বিলম্বিত হোক, অথবা যেনতেনভাবে আওয়ামী লীগ একটি দুর্বল সরকার গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজটি সম্পন্ন করে ফেলুক। তাতে পরে নির্বাচিত হয়ে নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনা করা যাবে! এদিকে ছোট কিছু ব্যক্তিসর্বস্ব দল একটি তৃতীয় শক্তি দাঁড় করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের কথা শুনতে ভালো, হয়তো উদ্দেশ্যও ভালো। কিন্তু এই ব্যক্তি বা দলের কোনো জনসমর্থন নেই, যা রাজনৈতিক শক্তির পূর্বশর্ত। তারা টেবিলে বাড়ি দিয়ে অথবা মুখের সামনে মাউথপিস রেখে জনসমাগম ঘটাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না যে রাজনীতি কোনো বানরখেলা নয়। এরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় মজবুত কোনো ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি, কিন্তু স্বঘোষিত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার জোরে দেশের দায়িত্ব গ্রহণের স্বপ্ন দেখছে। অনেকে মনে করেন, দেশের রাজনীতিকে ঘোলা না করে বরং এই সম্প্রদায়ের উচিত দেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো। সব ধারণা, সব ঘটনার পরও একটি বিষয় নিশ্চিত যে দেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না। জোর করে ক্ষমতায এরশাদও ৯ বছর ছিলেন। সেটি ভিন্ন হিসাব।