স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে শিল্প খাতের জন্য ব্যাপক শুল্ক ও কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে বেশ কয়েকটি আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এই সুবিধাগুলো তুলে ধরেন।
বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উেস কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন উৎপাদনকারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ফ্লোট গ্লাস আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার, অটো ট্যাংক এবং ভাল্ব উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি ও শুল্ক অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো এবং স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২টি কাঁচামালের ওপর উেস কর কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাইক উৎপাদনশিল্পকেও কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি খাতও পেয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করছাড়।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। জিপসাম বোর্ড ও শিট এসব পণ্য আমদানির ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় বাইসাইকেল যন্ত্রাংশ উৎপাদনশিল্পকে শক্তিশালী করতে ফ্রি হুইল আমদানির ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রড-শিল্পে বিভিন্ন ধরনের এমএস পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাটের পরিমাণ বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।
দেশীয় মৎস্যশিল্পের সুরক্ষায় আমদানি করা পাঙ্গাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কাগজশিল্পের দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিরক্ষার লক্ষ্যে গ্রিজপ্রুফ ও গ্লাসিন পেপার আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় মেইজ স্টার্চ শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পণ্যটির আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। সার-কীটনাশকে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার, রিসাইকলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার কমে ১ শতাংশ করা হয়েছে। স্থানীয় কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশে কফি এক্সট্র্যাক্ট, এসেন্স ও প্রিপারেশন বাল্ক আকারে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।




