• ই-পেপার

চট্টগ্রামে ছয় মাসে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ১,৫০৬ মামলা

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি

চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতিসহ মান মাত্রার ব্যত্যয় পাওয়ায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস আমের আচারে (ব্যাচ নং-ঋগেচ২০০০ে৪২৬) মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে; কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটনডো হেজেলনাট কোটেড চকোলেট আইসক্রিমে (ব্যাচ নং-২৬০৫০১০১অ) টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন (ব্যাচ নং-২৯৬১১০৪অ) এবং এলোভেরা স্কিন লোশন (ব্যাচ নং-২৯৬১২০৪অ); অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা (ব্যাচ নং-২৯৫১৪০৪অ) ফোমিং মিল্ক ও তুলসী (ব্যাচ নং-২৯৫১২০৪অ) এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের এলোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে (ব্যাচ নং-২৯২১৩০৪অ) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে (ব্যাচ নং-১৩৩) বাংলাদেশ মান মাত্রার চেয়ে ভিটামিন সি কম পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে এবং পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন/অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত ওই সব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএসটিআই মনে করে, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থে এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিএসটিআই বদ্ধপরিকর।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, জনগণ যাতে মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে পারে সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য জনগণের অধিকার। এ ছাড়া তিনি পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন। কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মান চিহ্নের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে জানানোর অনুরোধও জানান।

 

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে জাপান আগস্টে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে জাপান আগস্টে চুক্তি

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য কাজ করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব জাপানকে দেওয়ার চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। গতকাল সোমবার সিভিল এভিয়েশন এবং এয়ার ট্রাফিক অপারেশন বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

বেবিচক জানায়, বিমানবন্দরের যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় গণমাধ্যমকর্মীদের বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন না ওড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ বছরই শাহজালাল বিমানবন্দরের জন্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম কেনা হবে। বেবিচকের তথ্য মতে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) স্থাপিত হওয়ায় দেশের সমুদ্রসীমায় বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইট চার্জের মাধ্যমে প্রতি বছর ৮ শতাংশ রাজস্ব আদায় বাড়বে।

সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন শীর্ষক একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি বিশেষায়িত, কারিগরি এবং অত্যন্ত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাত। তাই এভিয়েশন বিষয়ে নির্ভুল, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং সঠিক তথ্যের বিকল্প নেই। এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো বেবিচকের কার্যক্রম, বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা ও এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে সাংবাদিকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া, যাতে তাঁরা আরো তথ্যসমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন। আমরা ধারাবাহিকভাবে অপারেশনস, নিরাপত্তা ও এভিয়েশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করব, যাতে গণমাধ্যমকর্মীরা এ খাত সম্পর্কে আরো গভীর ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

কর্মশালায় সিভিল এভিয়েশন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যক্রম, বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড অপারেশন, যাত্রীসেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড ও সুপারিশকৃত কার্যপদ্ধতি অনুসরণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

এ সময় সদস্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ লাবলুর রহমান বলেন, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে এমবারকেশন ফি, যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফি মওকুফ, জমজমের পানি বিতরণ, নামাজের পৃথক স্থান, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওয়াশরুম ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা, ট্রলি, চেয়ার ও কিউ বেল্ট সরবরাহ, মশা নিধন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হজযাত্রীদের যাত্রাকে আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বেবিচক নিরলসভাবে কাজ করেছে।

এ ছাড়া এয়ার ট্রাফিক অপারেশন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম। তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কার্যক্রম, আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট, রেডিও ও নেভিগেশন এইডস, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমের বিভিন্ন ক্যাটাগরি, এরোনটিক্যাল লাইটস, অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস, এয়ারফিল্ড ওরিয়েন্টেশন, এয়ারফিল্ডে বিমান পরিচালনার বিভিন্ন দিক এবং অপারেশন চলাকালে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।

অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের মালিকানায় থাকা ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত রবিবার মন্ত্রণালয়টি এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লাইসেন্স বাতিল হওয়া এসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হলো ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম/এস শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম/এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, এম/এস কিউকে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, এম/এস স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জিজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পিআর ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড ও অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রাশিদা আক্তার।

জিয়াউল আহসানের বাড়িতে অভিযান মালামাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউল আহসানের বাড়িতে অভিযান মালামাল জব্দ

বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জলসিঁড়িতে তাঁর আটতলা বাড়িতে অভিযান চালায়।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আসামির বাড়িতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুদক। বাড়িতে থাকা মালপত্রের জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। গণনা শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন আদালত। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে জিয়াউল আহসান এবং তাঁর স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। প্রথম মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় তাঁর স্ত্রী নুসরাত জাহানকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তা ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগও আনা হয়। এ মামলায় স্বামী জিয়াউল আহসানকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে একটি দল গঠন করে দুদক। কমিশনের অভিযোগ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভূমিকা, ফোনে আড়ি পাতা, মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড ও ফাঁসসহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

জিয়াউল আহসান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের এক দশকের বেশি সময় তিনি গুম, হত্যা ও ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতাসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন। তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে তিনি ধারাবাহিক পদোন্নতি পেয়ে মেজর থেকে মেজর জেনারেল হন।