১৭২ থেকে শুরু করে ৪২০ আসন ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল সব উড়োজাহাজ। অথচ আকাশপথের আন্তর্জাতিক রুটে দেশি-বিদেশি নামি সব এয়ারলাইনসের একেকটি ফ্লাইটে যাত্রী মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১০৩ জন! দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে দেখা দিয়েছে এমনই এক নজিরবিহীন ও উল্টো চিত্র। সাধারণত ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লে যাত্রী বাড়ার কথা থাকলেও এবার ঘটেছে তার ঠিক বিপরীত।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন এক ধাক্কায় ১০.২৪ শতাংশ কমে গেছে। আর মে মাসের একক হিসাবে প্রতি ফ্লাইটে ধারণক্ষমতার তুলনায় যাত্রী কমেছে গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত।
বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে চট্টগ্রামে গড়ে প্রায় ৮৩ হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াত করেছে। অথচ চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মাসিক গড় নেমে এসেছে ৭৪ হাজার ৫০০ জনে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে যাত্রী কমছে আট হাজার ৫০০ জন বা ১০.২৪ শতাংশ। এই সময়ে বিমানবন্দরে নতুন কোনো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস যুক্ত হয়নি, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধও করেনি। বিদ্যমান পাঁচটি এয়ারলাইনস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং সালাম এয়ার আগের তুলনায় আরো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। তবে যাত্রী না থাকায় বেশির ভাগ আসন ফাঁকা রেখেই উড্ডয়ন করতে হচ্ছে উড়োজাহাজগুলোকে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬০৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রতিটিতে গড়ে যাত্রী ছিলেন ১৪০ জন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ফ্লাইট বাড়লেও যাত্রী সংখ্যা কমতে থাকে। গত এপ্রিলে বছরের সর্বোচ্চ ৬৮৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও চলতি বছর প্রতি ফ্লাইটে গড় যাত্রী কমে দাঁড়ায় ১০৭ জনে। আর সর্বশেষ মে মাসে ৬৫২টি ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা আরো কমে প্রতি ফ্লাইটে গড়ে মাত্র ১০৩ জনে নেমে আসে। ১৭২ থেকে ৪২০ আসনের উড়োজাহাজে মাত্র ১০৩ জন যাত্রী নেওয়া মানে বিমানগুলো তাদের মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ২৪ থেকে ৬০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। অর্থাৎ ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭৬ শতাংশ আসনই ফাঁকা থাকছে!
চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনস ‘এয়ার অ্যারাবিয়া’র এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই যাত্রী পরিবহনে এই অস্বাভাবিক ধস নেমেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতজনিত আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃ তফসিল করতে হয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাবে নতুন কর্মীরা বিদেশে যেতে পারছেন না, আবার ঈদে দেশে আসা অনেক প্রবাসীও কর্মস্থলে ফিরতে বিলম্ব করছেন।
২০২৪ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে ৯ লাখ ২১ হাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ১০ লাখ আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াত করেছিলেন। বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা (১১% প্রবৃদ্ধি হ্রাস) অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সাল শেষে এই সংখ্যা মাত্র আট লাখ ৯৫ হাজারে গিয়ে ঠেকবে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের তথ্য দিয়ে পুরো বছরের চিত্র মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। মে ও জুন মাসে পরিচালিত হজ ফ্লাইটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যুক্ত হলে এবং অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন মৌসুমের ব্যস্ততা শুরু হলে মোট যাত্রী সংখ্যা আরো বাড়বে।


