লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ একাধিক সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায় (৭) আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে। সে ব্র্যাক পরিচালিত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় বস্তাবন্দি তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের রনজিৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র (২০) এবং তাঁর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোমবার রাতে নন্দিনীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাতে আদিতমারী থানায় গেলেও ওসি নাজমুল হক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটক করার পর হাজারো মানুষ তাদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায়। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজনের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা। আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের বহর লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ তিন দফা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্রকে কোদাল হাতে ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে ফিরতে দেখেছিলেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
নন্দিনীর মা সাবিত্রী রানী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের কানে থাকা সোনার রিংয়ের লোভে নন্দিনীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি নিজেও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মাতামুহুরীতে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামের এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল সকালে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ফজুমিয়াজির চরের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওয়াহিদুল ইসলাম মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ডোবার কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
রায়পুরায় সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নীলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে বুলবুল (৩৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে এবং আলাল মুন্সী গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সংঘর্ষে অনিক (২০) নামের এক যুবক নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া কয়েকজনের পরনে বুলেট প্রুফ ভেস্ট এবং হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।
পদ্মা নদীতে জেলের মরদেহ উদ্ধার
নাটোরের লালপুর উপজেলার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন জেলে মো. সাহাবুল ইসলাম (৪৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. রবিউল ইসলাম (৩৭)।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সাহাবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাহাবুল ইসলাম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশ বৈঠকে হামলা, নিহত ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর উত্তরপাড়া এলাকায় সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নিহত হয়েছেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকিব উর রাজা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিকটক নিয়ে বিরোধ, স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা)


