• ই-পেপার

হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৬৪৮

রাউজানে যুবদল নেতাসহ ৫ জেলায় ৩ খুন, ৬ লাশ

রাজধানীতে গুলি, আসামি চিহ্নিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
রাউজানে যুবদল নেতাসহ ৫ জেলায় ৩ খুন, ৬ লাশ

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের সাত দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং বরগুনায় পাঁচজন ও গোপালগঞ্জে এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্ল্যা পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনায় এক সন্দেহভাজন শ্যুটারকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করেছে পুলিশ। কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে একটি ওষুধের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরীর বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে। তিনি মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে এবং বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরীর ছোট ভাই। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সোনাইমুড়ীতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ফয়েজ (৩৭) নামের এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার নিহতের বাবা জামাল বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ আজিজ উল্যা (৩৫) ও কিরণ (২৭) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের সাত দিন পর মরদেহ উদ্ধার : চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের সাত দিন পর রাফিন (২২) নামের এক ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সদর উপজেলার কুতুবপুরের অর্জুন খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাফিন আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি এলাকার সৌদিপ্রবাসী আকতার হোসেনের ছেলে। পরিবারের দাবি, গত ৫ জুন নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। মুক্তিপণ না পাওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ২ : নওগাঁয় পুরনো মোবাইল ফোনসেট ও ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন জয়নুল (৩৫) ও আশরাফুল (২৬)।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বারমাসি বিল থেকে শফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসেট, একটি মোটরসাইকেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ অস্বাভাবিক মৃত্যু : বরগুনায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি আত্মহত্যা, একটি গণধোলাই এবং একটি জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলায় দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। এ ছাড়া বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এসান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা হতে পারে।

গোপালগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদাহ এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শাহিন শেখ (১৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে চরমানিকদাহ গ্রামের একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহিন শেখ ঘোষেরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে।

রাজধানীতে পলাশ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আসামি শনাক্ত : এদিকে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় গত শুক্রবার ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্ল্যা পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনায় এক সন্দেহভাজন শ্যুটারকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পলাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পলাশকে খুব কাছ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কপাল দিয়ে ঢোকা গুলি মস্তিষ্কে আঘাত করে মাথার ভেতর আটকে যায়। অস্ত্রোপচারের সময় একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার পশ্চিম রামপুরার মক্কি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুই যুবক। পরে সহযোগীরা তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রায় এক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান পলাশ। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালত সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পুলিশের ভাষ্য, পলাশের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায়  রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটতে পারে। এতে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা সবাই স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে থানার পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পর পলাশকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ট্রেইনি চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

বিয়ে না করতে আত্মগোপন

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর লাকসামে উদ্ধার ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের (২৮) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল শনিবার বিকেল সোয়া ৩টায় কুমিল্লার এসপি মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন। মেডিক্যাল থেকে ছাড়পত্র দিলে তাঁকে আদালতে তোলা হবে। এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তিনি জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বিরবাগগোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে শনিবার প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে জিসান মিয়া প্রধানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি জিডি করেন। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং এক পর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

এদিকে জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর রাতেই ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় জিসান ছাড়াও তাঁর চাচাতো ভাই সজিবসহ আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।

ঢাকা-সিলেট যাতায়াত

বিমানে ভাড়া দ্বিগুণ বাসে সময় দ্বিগুণ ট্রেনে ভোগান্তি

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট
বিমানে ভাড়া দ্বিগুণ বাসে সময় দ্বিগুণ ট্রেনে ভোগান্তি

সিলেট থেকে ঢাকা যাতায়াতে যাত্রীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। সড়কপথে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার যাত্রায় এখন প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। অন্যদিকে বিমানের ভাড়া অনেক সময় নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়ার তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় যাত্রীরা ট্রেনের ওপর নির্ভর করতে চাইলেও টিকিটসংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। তাঁদের ভাষ্য, গত ২৩ নভেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ঢাকা-সিলেট রুটে করসহ বিমানের সর্বনিম্ন ভাড়া তিন হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছে। বাস্তবে এই দামে টিকিট পাওয়া যায় না। পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় টিকিট কেনা এখন প্রায় স্বাভাবিক। একই রুটে দিনের বিভিন্ন সময় ভাড়ার বড় ধরনের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।

সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২০৯ কিলোমিটার। একসময় এই পথ বাসে পাড়ি দিতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগত। যাত্রীরা বলছে, এখন ৮-৯ ঘণ্টার আগে গন্তব্যে পৌঁছা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরপি এলিগ্যান্স বাসের চালক শাপলা দেবনাথ বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছার কথা। কিন্তু মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত মাত্র ছয়-সাত কিলোমিটার পথ পেরোতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লেগে যায়।

ব্যবসায়ী মালেক আহমদ বলেন, বিমানে যাতায়াতের সামর্থ্য নেই, ট্রেনের টিকিটও পাওয়া যায় না। তাই বাসেই যাতায়াত করি। একই পথ কখনো ৯-১০ ঘণ্টায়, আবার কখনো ১৪-১৫ ঘণ্টায় শেষ হয়।

সড়কপথের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই রেলের টিকিট খোঁজে। তবে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। সম্প্রতি রাতে উপবন এক্সপ্রেসে সিলেট থেকে ঢাকা যান রেহানা আফরোজ খান মনি। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১১টায় ট্রেন ছেড়ে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছে। তবে এটি ব্যতিক্রম। বেশির ভাগ সময় ট্রেন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছে। তিনি জানান, তাঁর বগিতে আসনধারী যাত্রীর চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল।

সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানে নিয়মিত যাতায়াত করেন ব্যবসায়ী ও অ্যাক্টিভিস্ট রাজীব চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার সর্বনিম্ন ভাড়া তিন হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করলেও কখনো ওই দামে টিকিট পাইনি। দুই মাসের বেশি সময় ধরে পাঁচ হাজার টাকার নিচে কোনো টিকিটও পাইনি। অনেক সময় সকাল বা দুপুরে পাঁচ-সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার টিকিট সন্ধ্যা বা রাতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়। একই রুটে এমন মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা দেখি না।

একটি এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চাহিদা বাড়লে এয়ারলাইনসগুলো কম দামের টিকিটের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে তাঁর প্রশ্ন, দাম বাড়তে পারে, কিন্তু সেটি কেন ৫০ শতাংশের বেশি, এমনকি ২০০ শতাংশেরও বেশি হবে?

শিপার এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, আগে টিকিট কাটলে ভাড়া কম থাকে, সময় যত গড়ায় তত বাড়ে। তবে এয়ারলাইনসগুলো কী ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করে, তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সিভিল এভিয়েশনের নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন।

গভীর রাতে নদীপথে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
গভীর রাতে নদীপথে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত

এবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুনর্ভবা নদীপথে নৌকাযোগে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। সেই চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। পরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে বিজিবি। এ ছাড়া গভীর রাতে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সীমান্তে জড়ো করে বিজিবিকে পুশ ইন ঠেকাতে সাহায্য করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। গত ১০ দিনের মধ্যে গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের এটি ছিল বিএসএফের দ্বিতীয় চেষ্টা। এ ছাড়া লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন ব্যর্থ করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হওয়ার কারণে ওই সীমান্তের শূন্য রেখায় নারী ও শিশুসহ ১২ জন এখনো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

গোমস্তাপুর সীমান্ত : গোমস্তাপুর সীমান্তের ঘটনা সম্পর্কে বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২০/এমপির কাছ দিয়ে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা পাঁচ শিশু ও আট নারীসহ ১৫ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক টেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। নদীপথে একটি নৌকায় তাদের বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু নৌকাটি শূন্য রেখায় আসার পরপরই বিজিবির বাধা পায়। বিজিবির বাধার মুখে পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাদের।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে খবর পেয়ে এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোক জড়ো করে বিজিবিকে পুশ ইন ঠেকাতে সাহায্য করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশসহ এলাকাবাসী সারা রাত ক্লান্তিহীন পাহারার পর এখনো সতর্ক রয়েছে। সম্মিলিত চেষ্টায় পুশ ইনের চেষ্টা করা ১৫ জনকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ভোর পৌনে ৫টার দিকে দায়িত্বশীল নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে। নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে এবং পেশাদরির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে টানা দুই দিন সীমান্তে অবস্থানের পর ওই ২৮ জনকে সীমান্ত থেকে ভারতের ভেতরে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে দুই নারীকে পুশ ইন করে বিএসএফ। গোমস্তাপুর সীমান্ত থেকে মালদহ কাছে হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল মাসুম।

কুষ্টিয়া সীমান্তে শিশুসহ ১২ জন এখনো শূন্য রেখায় : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। ফলে নারী ও শিশুসহ ১২ জন এখনো সীমান্তের শূন্য রেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাথুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কম্পানি কমান্ডার সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বিজিবি সুত্র জানায়, বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্য রেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে পরে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানায়। ফলে আপাতত ওই ১২ জনকে শূন্য রেখাতেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতরভাবে অবস্থান করতে হচ্ছে।

গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী ও শিশুসহ এই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্য রেখার কাছাকাছি অবস্থান নেয়। পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিদের দাবি, ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে বিএসএফ তাদের বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থসংশ্ল্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬ নম্বর প্রধান পিলারের ৮ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে আমঝোল সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেটের কাছে ১০ থেকে ১২ জনকে একটি গাড়িতে করে নিয়ে আসেন বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়।

সীমান্তে বিএসএফের এমন অস্বাভাবিক তৎপরতা টের পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে। তারা স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পকে বিষয়টি জানায় এবং খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, কয়েক শ গ্রমবাসী ও বিজিবি সদস্যরা শূন্য রেখায় যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের শূন্য রেখা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এই পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কালের কণ্ঠের সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা প্রতিবেদনটিতে অবদান রেখেছেন।