প্রথমে ফুটবলার, তারপর সংগঠক ও কোচ হয়ে মোহাম্মদ কায়কোবাদ মোহামেডানের সেবা করে গেছেন নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত। ১৯৬৬ সালে অধিনায়ক ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান গভর্নমেন্ট প্রেস দলের। এরপর দুই বছর রহমতগঞ্জে খেলে ১৯৬৯ সালে মোহামেডানে যোগ দেন তিনি। সেই থেকে মোহাম্মদ কায়কোবাদের ক্যারিয়ার ও জীবন মোহামেডানময়। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত খেলেছেন মোহামেডানে, জিতেছেন সে সময়ের ক্লাব ফুটবলের সব শিরোপাই। পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়েও খেলেছেন বিভিন্ন জায়গায়। খেলোয়াড়ি জীবনে লিগ জিতেছেন তিনটি, তবে কোচ-সংগঠক হিসেবে আরো বেশি। এর পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলেরও অন্যতম খেলোয়াড় ও রূপকার ছিলেন কায়কোবাদ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলায় বাংলাদেশের অনেক ফুটবলার দেখে ত্রিপুরা ক্রীড়া সংস্থা প্রস্তাব দিয়েছিল একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার। সেটা সাদরে গ্রহণ করেন কায়কোবাদরা। তিনি অধিনায়ক হয়ে দলের নাম দেন 'জয়বাংলা একাদশ'। ম্যাচটা অবশ্য তারা হেরে যায় ২-১ গোলে। এই ম্যাচটা বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে হয়নি বলে হয়তো রেকর্ড হিসেবে অনেকে দেখাতে চায় না। তবে যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের বাইরে এটাই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এরপর স্বাধীন বাংলা দলের হয়ে কায়কোবাদ খেলেছেন নিয়মিতই। বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মুক্তিযোদ্ধার সেরা একাদশ একটা সময় ভাবা যেত না সাইফুর রহমান মনিকে ছাড়া। জাতীয় দলেরও নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় দলেরও। জাতীয় দল আর মোহামেডানে নিয়মিত ছিলেন আহসানউল্লা মন্টুও। এই জেলার নামি ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম ধরা হয় তামান্না হককে। এ ছাড়া জাতীয় সবুজ দলে খেলেছেন রণজিৎ। উচ্চতায় ছয় ফুটের মতো হওয়ায় তাঁর পরিচিতি ছিল লম্বা রণজিৎ নামে। তাঁদের দেখানো পথ ধরে প্রতিশ্রুতিশীল তিন তিনজন গোলরক্ষক উঠে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। শেখ রাসেলের মামুন খান প্রতিনিধিত্ব করেছেন জাতীয় দলে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হিমেল খেলছেন বিজেএমসিতে। আর মোস্তাক আছেন মুক্তিযোদ্ধায়। এ ছাড়া জহিরুল ফেনী সকারে আর সুমন খেলছেন বারিধারায়। ক্রিকেটে গাজী সালাউদ্দিন খেলেছেন জাতীয় 'এ' দলে। প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সালাউদ্দিন খেলেছেন ৫৭টি ম্যাচ। ৩৩.৩২ গড়ে করেছেন তিন হাজার ৩৩২ রান। সেঞ্চুরি পাঁচটি আর ফিফটি ২২টি। বরিশালের বিপক্ষে ১৬৫ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ার সেরা। ৩৪টি লিস্ট 'এ' ম্যাচে অবশ্য সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ২৫.৯০ গড় আর ৭৯.৪৬ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৮৫৫ রান। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনে সর্বশেষ লিস্ট 'এ' ম্যাচটি খেলেছেন খেলাঘরের হয়ে ২০১৩ সালে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের হয়ে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ তারও বছরদুয়েক আগে। প্রসেনজিৎ দাস খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে। ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান গ্লাভস হাতে দাঁড়ান উইকেটের পেছনেও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাত ম্যাচের সিরিজে খেলেছিলেন চারটি ম্যাচ। সাত বা আট নম্বরে নামেন বলে ব্যাট হাতে করতে পারেননি তেমন কিছু। তবে সপ্তম ওয়ানডেতে একটি আর ষষ্ঠ ওয়ানডেতে নিয়েছিলেন দুটি ক্যাচ। প্রসেনজিতের আগে মোহাম্মদ সুমনও খেলেছিলেন জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। ছিলেন এই দলের অধিনায়কও। তিনি এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দলের অধিনায়ক। ঢাকা প্রিমিয়ারেও সুমন খেলছেন শেখ জামালের হয়ে। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের আদি বাড়িও জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়। তবে আশরাফুলের বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে এ বছর দ্রুততম কিশোর হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাইফুল ইসমাইল সানী। তা-ও নতুন রেকর্ড গড়ে। সাইফুল ১০.৫৩ সেকেন্ডে শেষ করেছেন ১০০ মিটার। এর আগের রেকর্ডটি ছিল বিকেএসপির আরিফুলের। ২০১৩ সালে তিনি ১০.৮৫ সেকেন্ডে রেকর্ডটি গড়েছিলেন তিনি। ১০০ মিটারের পাশাপাশি এবারের আসরে মোট তিন ইভেন্টে সোনা জিতে উজ্জ্বল আগামীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন সাইফুল। বিভিন্ন সময়ে স্পেশাল অলিম্পিকে ব্যাডমিন্টনে রাবেয়া আক্তার, বৈচিতে মো. মনির হোসেন, দৌড়ে মো. আবু আশরাফ সোনা জিতেছেন। এ ছাড়া সাঁতারে রৌপ্য জিতেছেন লাইলী আক্তার। প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের জাতীয় দলে মো. হানিফসহ দুজন সুযোগ পেয়েছিলেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলায় প্রথমবার অংশ নিয়েই এ বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অলি হোসেন। ইকবাল বলীকে মাত্র তিন মিনিট ৪০ সেকেন্ডেই ধরাশায়ী করেন তিনি। পেশায় মুদির দোকানি অলি হোসেন (২৬) জব্বারের বলি খেলার শিরোপা ধরে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখন থেকেই।