প্রশ্ন : ফুটবলার টুটুল নাকি ক্রিকেট সংগঠক টুটুল- কার সঙ্গে আলোচনা শুরু করব? দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল : (হাসি) পরিচয়ের এই গোলমেলে ব্যাপারটা আছে। এই প্রজন্মের অনেকের কাছে তো আমি শুধুই ক্রিকেট সংগঠক। বিশেষত ২০১১ বিশ্বকাপে স্থানীয় আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করার পর। কিন্তু আমার কাছে প্রিয় নিঃসন্দেহে ফুটবলার টুটুল। এ ব্যাপারে কোনো তর্ক নেই, দ্বিধা নেই, দ্বন্দ্ব নেই। আর যেসব দর্শক আমার খেলা দেখেছেন, তাঁদের কাছে আমি চিরকালই ওই ফুটবলার রয়ে গেছি। কোনো কিছু দিয়েই সেটি মুছে ফেলা যাবে না। প্রশ্ন : ফুটবলার হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় কীর্তি ফুলব্যাক হিসেবে ওভারল্যাপ করে আক্রমণে ওঠা। ঢাকার মাঠে যেটির শুরু আপনার মাধ্যমে। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা অমন চিন্তা করলেন কিভাবে? টুটুল : প্রথমত আমিই যে একেবারে প্রথম এই কাজটি করেছি, তা বোধ হয় বলা যাবে না। আমার আগের দুই-এক বছর মঞ্জু ভাই অমন ডিফেন্স থেকে আক্রমণে উঠতেন। আমার মাথায় চিন্তাটি আসে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপের সময়। সেবার বিটিভিতে খেলা দেখিয়েছিল। পশ্চিম জার্মানির বেকেনবাওয়ারকে দেখলাম অমন নিচ থেকে আক্রমণে উঠতে। লিবারো পজিশনে। কী অসাধারণভাবেই না তিনি তা করতেন! আমার ভালো লাগত খুব। কিন্তু ঢাকার মাঠে আমি যে ওই ওভারল্যাপ করা শুরু করি, তাতে আরো নানা ঘটনা আছে। বলা যেতে পারে, পরিস্থিতির কারণেই স্ট্রাইকার থেকে অমন ওভারল্যাপিং ফুলব্যাক বা লিবারো হয়ে যাই। প্রশ্ন : আপনি কি শুরুতে স্ট্রাইকার ছিলেন নাকি? টুটুল : হ্যাঁ। পাড়ায় পাড়ায় যেসব টুর্নামেন্ট হতো, তাতে আমি স্ট্রাইকার হিসেবেই খেলতাম। আমার খেলা দেখে পাড়ার ক্লাব ধানমণ্ডিতে খেলার সুযোগ করে দেন রহমত ভাই নামের এক কর্মকর্তা। সেখানেও আমি স্ট্রাইকার বা কখনো কখনো অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ডিফেন্ডার হলাম কিভাবে বলি। ধানমণ্ডির হয়ে মৌসুম শেষে কলাবাগান মাঠে কী একটা টুর্নামেন্ট খেলছিলাম। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ভাই পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন খেলা। ওনার সঙ্গে ছিলেন মন্টু ভাই। খেলা শেষে কামাল ভাই আমাকে ডেকে বললেন, 'তোমার তো দেখি হাত-পা-মুখ সবই চলে। কাল থেকে আবাহনীতে চলে এসো প্র্যাকটিসে।' আমার কাছে সেটি স্বপ্নের মতো ব্যাপার। পর দিন ক্লাবে যেতে কামাল ভাই আমাকে হাওলা করে দেন আলী ইমাম ভাইয়ের কাছে। উনি আবাহনীর জুনিয়র টিম নিয়ে প্র্যাকটিস করাতেন। তো ছয়-সাত মাসের মতো আমি অনুশীলন করলাম। এর মধ্যে চলে এলো দলবদল। তখন দলবদল হতো প্রতি বছরের ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি। একেবারে শেষ দিন মঞ্জু ভাই আবাহনী ছেড়ে চলে যান মোহামেডানে। এমন অবস্থা যে, তাঁর জায়গায় নতুন কাউকে নেওয়ার সুযোগ নেই। ওই সময় আবাহনীর হয়ে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাই কুমিল্লায়। প্রথম একাদশে ছিলাম না। খেলার ২০ মিনিট বাকি থাকতে বাদশা ভাইকে তুলে তাঁর জায়গায় নামানো হয় আমাকে। বাদশা ভাই মানে ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা। উনি খেলতেন লেফট ব্যাকে। আমি যে স্ট্রাইকার, সেটি ভুলে লেফট ব্যাকে খেলি জান দিয়ে। ফেরার পথে কামাল ভাইয়ের গাড়িতে ছিলাম। উনি আমাকে বললেন, 'তুমি প্র্যাকটিস চালিয়ে যাও, মঞ্জুর জায়গায় আবাহনীতে তুমিই খেলবে।' আমি যে আসলে স্ট্রাইকার, সেটি বলার সাহসই হলো না। এভাবে মঞ্জু ভাইয়ের ছেড়ে যাওয়া রাইট ব্যাক পজিশনটি হলো আমার। প্রশ্ন : এই যে ফুটবল খেলতেন, বাবা-মা বকাবকি করতেন না? টুটুল : একেবারেই না। সবাই বরং উৎসাহ দিতেন। কারণ আছে। আমার বাবা ছিলেন ফুটবলার। সেই পাকিস্তান আমলে ঢাকা একাদশের হয়ে খেলেছেন। আমরা পাঁচ ভাই, দুই বোন খেলাধুলার ব্যাপারটা বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। আমাদের এক ভাই শুধু খুব একটা খেলেননি। অন্য তিন ভাই একেবারে কুষ্টিয়া লিগে খেলা ফুটবলার। বড় বোন ইন্টার স্কুল সাইক্লিংয়ে প্রথম হয়েছিলেন। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেখা যেত, আমাদের বাসায়ই সব প্রাইজ চলে আসত। প্রশ্ন : আবাহনীতে খেলা শুরুর পর সমর্থকদের প্রিয় হতে আপনার মোটেই সময় লাগেনি। একে তো অমন ওভারল্যাপিং, পাশাপাশি ঝাঁকড়া চুল। তখন আপনার চুলের স্টাইলটা নাকি পরিচিত হয়ে যায় 'টুটুল চুল' হিসেবে? টুটুল : ঠিকই বলেছেন। সেলুনে গিয়ে অনেকে নাপিতকে বলত, 'টুটুল চুল' করে দাও। আমি অবশ্য ওই বড় চুল রাখি সালাউদ্দিন ভাইকে দেখে। উনি তো তখন সুপারস্টার। আমাদের সবার আইকন। আবাহনীতে সালাউদ্দিন ভাই, আমার, সোহরাব ভাই, বাটু ভাই- এই চারজনেরই মনে হয় অমন বড় চুল ছিল। প্রশ্ন : সেই বড় চুল কেটে ফেলেন কবে? টুটুল : '৮৫-'৮৬-র দিকে হয়তো। আসলে ফ্যাশন জিনিসটাই এমন যে, সময়ে সময়ে বদলায়। এখন তো আমার চুল একটু বড় হলেই অস্বস্তি লাগে। পুরনো দিনের কথা মনে হলে ভাবি, কিভাবে তখন অমন বড় চুল রাখতাম! প্রশ্ন : মাঠে চিৎকার-চেঁচামেচি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মারামারি, রেফারির সঙ্গে তর্ক- এসব নিয়মিতই করতেন। ডিফেন্ডার হয়েও আবাহনী সমর্থকদের মাঝে অমন জনপ্রিয় হওয়ার সেটিও কি কারণ বলে মনে হয় কিনা? টুটুল : হয়তো-বা। কারণ আবাহনী ছিল খুব ভদ্র দল। মোহামেডানের সঙ্গে খেলার শুরুতে মঞ্জু ভাই একটা বাড়ি দিতেন চুন্নু ভাইকে। ব্যস, উনি ঠাণ্ডা। সালাউদ্দিন ভাইও ছিলেন ভীত। আমিই একমাত্র সমানে সমানে লড়াই করতাম। সমর্থকদের কাছে তাই হয়তো মনে হতো, 'আমাদের একমাত্র টুটুলই আছে, যে গুঁতোগুঁতি করে।' প্রশ্ন : আচ্ছা, আবাহনীর কথায় আবার আসছি। একটু যদি '৭৮ সালের এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপের কথা একটু বলেন? সেখানে কোচ বেকেলহফটের অধীনে খেলা আপনার ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করেছে কতটা? টুটুল : আমি বলব, অনেকখানি। ক্যারিয়ারে যত কোচের অধীনে খেলেছি এবং বাংলাদেশেও এখন পর্যন্ত যত কোচ দেখেছি, তাঁদের মধ্যে বেকেলহফট সেরা। তাঁর ধারে-কাছেও কেউ নেই। ওভারল্যাপিং দেখে উনি কিন্তু আমাকে রাইট ব্যাক থেকে মাঝে নিয়ে আসেন, লিবারো পজিশনে। আবাহনীতে নান্নু ভাই-আশরাফ ভাইদের মতো দারুণ দুজন স্টপার থাকায় আমাকে হয়তো অনেক সময় রাইট ব্যাকে খেলতে হতো। কিন্তু ওনাদের ইনজুরি, সাসপেনশন কিছু হলেও আমি মাঝে চলে আসতাম। আর সেটি সম্ভব হয়েছে বেকেলহফটের কারণে। প্রশ্ন : মাঠের বাইরেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্কটা নিশ্চয়ই দারুণ ছিল? টুটুল : একেবারেই না। বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না, বেকেলহফটের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। এর কারণও ছিল। আমি তো সব সময় চলতাম নিজের মতো করে। কোনো দিন কোনো কিছু পরোয়া করিনি। টুর্নামেন্টের আগে আমাদের আবাসিক ক্যাম্প করা হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি জিমের দোতলায়। সবাই সেখানে থাকে। কিন্তু আমি বললাম যে, আমি বাসায় থাকব। আমি বরাবর রাত জাগি। সকালের প্র্যাকটিস মিস করি প্রায়ই। এ নিয়ে বেকেলহফটের সঙ্গে খুটখাট লেগেই থাকত। একবার ঘুম থেকে উঠে আয়েশ করে দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পে যাই। দেখি, পুরো দল দাঁড়িয়ে আছে মাঠে। কেন? কারণ বেকেলহফট বলেছে, টুটুল আসার পর প্র্যাকটিস হবে। ওরা সেই সকাল ৭টা-৮টা থেকে দাঁড়িয়ে। সতীর্থরা যেন আমাকে আচ্ছামতো বকুনি দিতে পারে, সে জন্য কোচের ওই ব্যবস্থা। কোচের সঙ্গে এই যে আমার শীতল সম্পর্ক, মাঠে কিন্তু একেবারে ভিন্ন ব্যাপার। তখন প্রতিদিন লাল দল, সবুজ দল করে খেলা হতো তো। মূল জাতীয় দলটা লাল। ক্যাম্পের আমি একমাত্র খেলোয়াড় যে কিনা ৩০ দিনের মধ্যে ৩০ দিনই লাল দলে ছিলাম। প্রশ্ন : টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন কেমন? টুটুল : আমার জীবনের সেরা খেলা। বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও কাতার ছিল গ্রুপে। বাংলাদেশ ও বাহরাইন সমান ৪ পয়েন্ট পায়। তবে গোল-পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারিনি। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচ জীবনের সেরা খেলা খেলেছি বলে আমার বিশ্বাস। অত ভালো করার পেছনে অন্য রকম একটা প্রেরণা ছিল। ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অধিনায়ক হওয়ার কথা ছিল আমার। ২৫ জন ফুটবলারের মধ্যে বেকেলহফট ভোট নিয়েছিলেন, কাকে অধিনায়ক হিসেবে চায় সবাই। আমি পাই ২২ ভোট। তবু উনি আমাকে বাদ দিয়ে মহসিনকে অধিনায়ক করেন। ওই জেদ থেকে আমি আরো ভালো খেলি। পরের বছর এশিয়ান গেমসের জন্য জাতীয় দলের কোচ হয়ে বেকেলহফট আসেন। সেখানেও অধিনায়কত্ব নিয়ে গোলমাল লাগে। প্রথমে নান্নু ভাইকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। পরে হঠাৎ করে জানানো হয়, শান্টু ভাই হবেন অধিনায়ক। এর প্রতিবাদে জাতীয় দল থেকে আবাহনীর সাতজন আমরা সরে দাঁড়াই। এ জন্য আমাদের বহিষ্কারাদেশও দেওয়া হয়। আর কখনোই এশিয়ান গেমস আমার খেলা হয়নি। এটি বড় এক দুঃখ। যা-ই হোক, বেকেলহফটের কথা বলছিলাম। উনি পরে আমাকে জার্মানিও নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'তোমাকে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগে অন্তত খেলাতে পারব।' কিন্তু তখন আবাহনীর প্রতি ভালোবাসা এত বেশি ছিল যে, জার্মানিতে খেলার প্রস্তাবও তার কাছে তুচ্ছ। প্রশ্ন : মোহামেডানের বিপক্ষে আপনি বরাবর ভালো খেলতেন। এর রহস্যটা কী? টুটুল : আসলে বড় ম্যাচ খেলতে আমার মজা লাগত। অনেককে দেখেছি, বড় খেলার আগে খুব নার্ভাস হয়ে যায়। না খেলার জন্য বলে যে, পায়ে টান লেগেছে। আমার উল্টো। আমি বরং ওই খেলাগুলো খেলার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। আমার ১৪-১৫ বছরের ক্যারিয়ারে মোহামেডানের বিপক্ষে কখনো খারাপ খেলেছি বলে তো মনে পড়ে না। প্রশ্ন : আবাহনী থেকে টাকাপয়সা পেতেন কেমন? টুটুল : আমি আসলে কখনো টাকার জন্য আবাহনীতে খেলিনি। আমি, অমলেশদা, এমন আরো কয়েকজন ছিলাম। আবাহনীতে খেলার প্রথম বছরে ঈদের আগে ডেকে হারুন ভাই আমাকে দেন পাঁচ শ টাকা। মনে আছে, পাঁচ টাকার ১০০টি নোট ছিল সেখানে। সেটিই অনেক টাকা। এত টাকা দিয়ে কী করব, একেবারে 'আউলাইয়া' গেছি। স্টেডিয়ামের দোতলায় সিরাজ টেইলার্স বলে একটি দোকান ছিল। সেখানকার হাফপ্যান্ট বিখ্যাত। ২০-২২ টাকা করে লাগত। আবাহনী থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে নানা রঙের অনেকগুলো হাফপ্যান্ট বানিয়েছিলাম। প্র্যাকটিসে একেক দিন একেকটা পরে যেতাম। প্রশ্ন : ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকটা যদি বলতেন... টুটুল : আবাহনীর সর্বোচ্চ মনে হয় ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। আবার '৮১ ও '৮২ এই দুই বছর আমি ব্রাদার্সে খেলি। আগেরবার লিগে আবাহনী চতুর্থ হয়। আমি ছিলাম সে দলের অধিনায়ক। দল বানানো নিয়ে সেবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাগারাগি হয়। অভিমান করেই আমি তাই ব্রাদার্সে চলে যাই। সেখানে দুই বছরে পাই তিন লাখ টাকা। ১০ হাজার টাকা মনে হয় কম দিয়েছিল। তো ব্রাদার্সে ওই প্রায় দেড় লাখ টাকা বছরে পাই আর আবাহনীতে ৫০-৬০ হাজার। '৮৩-তে আবার আবাহনীতে ফিরি। '৮৪-তে আমার নেতৃত্বে অপরাজিত হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাব। মাঝে এক বছর রহমতগঞ্জে গিয়েছিলাম। আবার আবাহনীতে ফিরি। এরপর আনুষ্ঠানিক অবসর নিই ১৯৯১ সালে। তবে এর বছর দুয়েক আগে থেকেই একাদশে অনিয়মিত হয়ে পড়ি। প্রশ্ন : জাতীয় দলে খেলেছেন কত দিন? টুটুল : ১৯৭৬ সালে থাইল্যান্ডের কিংস কাপে সুযোগ পাই প্রথম। আর সর্বশেষ ১৯৮৫ সালের সাফ গেমসে। আসলে ওই সময় আমরা যাদের সঙ্গে খেলতাম, তাদের মান ছিল অনেক উঁচুতে। জাতীয় দলের জার্সিতে তাই পেরে উঠতাম না। প্রশ্ন : ফুটবলের ওই স্বর্ণযুগে ফুটবলাররা ছিলেন সুপারস্টার। আপনাদের সমসাময়িক কয়েকজন তো সিনেমাতে পর্যন্ত অভিনয় করেছেন। আপনি অমন কোনো প্রস্তাব পাননি? টুটুল : আমিও তো নাটক করেছি একটা। সেটি ১৯৮৪ সালে। সেলিম আল দীনের লেখা নাটকের নাম ছিল 'মাঠের পর মাঠ'। প্রযোজক নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাই। নাটকে আমি নায়ক। নায়িকা ছিলেন দুজন- রিটা মনসুর ও নূপুর। আমি যে নাটক করছি, বাসায় সেটি জানাইনি। তো যেদিন বিটিভিতে নাটক প্রচারিত হলো, সবাই চমকে গিয়েছিল। এ ছাড়া ওই বছর ঈদের অনুষ্ঠান আনন্দমেলায় আমি গানও গেয়েছিলাম। প্রশ্ন : মাঠে প্রতিপক্ষের উইঙ্গারদের তো সামলাতে হতো। কাকে আটকানো সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? টুটুল : আমি কিন্তু স্কুল-কলেজে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম হতাম। তো গতি দিয়ে আমাকে হারিয়ে দেওয়া ছিল কঠিন। কিছু সমস্যা শুধু হয়েছে জোসিকে নিয়ে। ও দুর্দান্ত উইঙ্গার ছিল। আমার সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। এত দিন পর স্বীকার করতে তো আর লজ্জা নেই, ফুলব্যাক হিসেবে যে স্ট্যামিনা আমার থাকার দরকার, সেটি ছিল না। যে কারণে ওপরে উঠে সময়মতো নিচে নামতে পারতাম না। আমার কারণে তাই আবাহনীকে গোলও খেতে হয়েছে। প্রশ্ন : প্রতিপক্ষ হিসেবে না, সব হিসেবেই বাংলাদেশের সেরা উইঙ্গার মনে হয় কাকে? টুটুল : টিপু ভাই আর চুন্নু ভাই। এই দুজন একস্ট্রা অর্ডিনারি, বাকিরা অ্যাভারেজ। তাঁদের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না। প্রশ্ন : আর ডিফেন্ডার হিসেবে? টুটুল : মঞ্জু ভাই, পাকির আলী, নান্নু ভাই, আশরাফ ভাই, কায়সার হামিদ, মুন্না। একজনের কথা আসলে বলা মুশকিল। প্রশ্ন : আপনার ক্রিকেট সংগঠক জীবনে ঢুকব। তার আগে যদি একটু আবাহনী ফুটবল দলের ম্যানেজার থাকার সময়টার কথা বলতেন? টুটুল : ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭- এই চার বছর আমি আবাহনীর ম্যানেজার ছিলাম। খুব মজা পেয়েছি। আসলে '৯২-তে খেলা ছাড়ার পর আবাহনীর সঙ্গে সম্পর্ক সেভাবে ছিল না। তখন আমি ক্রিকেট বোর্ডের জয়েন্ট সেক্রেটারি, সেটি নিয়েই যাবতীয় ব্যস্ততা। তো '৯৪ সালে আবাহনী ভারত যাবে চার্মস কাপ খেলতে। এর আগে হারুন ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, 'তোমাকে আমরা ম্যানেজার হিসেবে চাই।' আমার তখন শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ক্রিকেট দলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। অনেক চিন্তা করে আবাহনীর ম্যানেজার হওয়াটাই বেছে নিলাম। আসলে আবাহনীর কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের ঠিক ম্যানেজ করতে পারছিলেন না। তাই চেয়েছেন আমাকে। আমরা চার্মস কাপে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হই। যেদিন ফাইনাল, সে রাতেই দেশে ফেরার ফ্লাইট, পরদিন ঈদ। আমি কলকাতা বিমানবন্দরে চার খেলোয়াড়কে সাসপেনশনের চিঠি ধরিয়ে দিই। মহসিন, রেহান, রুমি ও সেলিমকে। চ্যাম্পিয়ন হলেও দলের কিছু নিয়ম ভাঙায় আমি অমন কঠোর হয়েছি। প্রশ্ন : কড়া ম্যানেজার হিসেবে আপনার খ্যাতি আছে। খেলোয়াড়দের বকাঝকা কি এ কারণেও করতেন যে, তখন ফুটবলের মান পড়ে যাচ্ছিল, সেটি মানতে পারতেন না? টুটুল : এ ব্যাপারটি হয়তো আবছাভাবে কাজ করেছে। তবে খুব বেশি না। আমি তো বলব উল্টো। মুন্না-সাব্বিরদের যে প্রজন্ম জাতীয় দলে খেলত, ওরা বরং আমাদের অবজ্ঞা করত। বুঝিয়ে দিত, 'কী খেলেছেন আপনারা, দেখেছি'। আর আবাহনী ক্লাবের কথা যে বললেন, আমার সময়ে ক্লাব চলেছে ক্লাবের মতো। কোনো হাংকি-পাংকি করার সুযোগ ছিল না। ওই '৯৪ সালেই তো মুক্তিযোদ্ধা দল করল। এক মুন্না ছাড়া সব খেলোয়াড় গেল চলে। তবু কিন্তু সেবার আমরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হই। পরেরবারও। তৃতীয়বার একটুর জন্য রানার্সআপ। তখন আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান সাবের ভাই। উনি চতুর্থ বছরে থাকলেন না, আমাকেও বললেন না থাকতে। সাবের ভাই বলেছিলেন, 'তিন বছর ম্যানেজার থাকাই যথেষ্ট। আর সব কিছুরই সময় আছে।' আমি থেকে গেলাম আর লিগে সেবার তৃতীয় হলো আবাহনী। তখন মনে হয়েছিল, সাবের ভাইয়ের কথা অনুযায়ী না থাকলেই পারতাম। প্রশ্ন : সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে আপনার চমৎকার রসায়নের শুরুটা কি তখন থেকেই? টুটুল : হ্যাঁ। ঘনিষ্ঠতা তখন থেকে। এর আগে '৯১-তে সাবের ভাই ক্রিকেট বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন, আমি সদস্য। '৯৬-র নির্বাচনের পর উনি প্রেসিডেন্ট, আমি জয়েন্ট সেক্রেটারি। এছাড়া '৯৬-র সংসদ নির্বাচনে আমি ছিলাম সাবের ভাইয়ের প্রধান সমন্বয়কারী। আসলে আমাদের নিয়ে মানুষে অনেক কথা বলে। কিন্তু আমরা পরস্পরকে পছন্দ করি বলে এখনো একসঙ্গে আছি। প্রশ্ন : দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হয়েও সংগঠক হিসেবে ক্রিকেটে এলেন কেন- এই প্রশ্ন নিশ্চয় অনেকবার শুনতে হয়েছে? টুটুল : অসংখ্যবার। কিন্তু অনেকে ভুলে গেছেন, আমি যখন টপ লেভেলে ফুটবল খেলি, তখন কলাবাগান ক্লাবে ক্রিকেটও খেলি। আমাদের পাড়ার ক্লাব এটি। নিজেরা খেলে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে উঠিয়েছি, সেখান থেকে প্রিমিয়ার ডিভিশনে। ক্লাবের বালতি টানা, ট্রাংক টানা, চাঁদা তোলা সবই করেছি। আমাদের গ্যারেজে থাকত কলাবাগান ক্রিকেট ক্লাবের কিটস ট্রাংক। ওই ট্রাংকই ছিল ক্লাবের পরিচিতি। আমি ক্রিকেট লিগ কমিটির সদস্য হই '৮৬-'৮৭ সালে। ক্রিকেট সংগঠক হওয়াটা কিন্তু আমার হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা বলতে পারেন। প্রশ্ন : ফুটবল দিয়ে খুব বেশি দূর যাওয়া যাবে না, ক্রিকেটে বরং বিশ্বমানে যাওয়া যাবে- এমন কোনো চিন্তাভাবনা কি ছিল? টুটুল : এখন যদি বলি ছিল, মিথ্যা বলা হবে। তবে আমরা তা না বুঝলেও সাবের ভাই বুঝেছিলেন। উনি সেই '৯৪-'৯৫তেই বলতেন, 'বাংলাদেশের কিছু হলে ক্রিকেটে হবে।' উনি বিসিবির প্রেসিডেন্ট না হলে বাংলাদেশ তখন টেস্ট মর্যাদা পেত না। আর এখন দেশের ক্রিকেট এমন জায়গায় যেত না। প্রশ্ন : টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর শুরুর দিকে এ নিয়ে সমালোচনাও তো হয়েছে... টুটুল : সমালোচনা মানে, এমনও লেখা হয়েছে যারা দেন-দরবার করে টেস্ট স্ট্যাটাস এনেছে, তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। কারণ ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারছে বলে পৃথিবীতে নাকি বাংলাদেশ হেয় হয়ে যাচ্ছে। আমি নাম ধরেই বলি, 'যায় যায় দিন' পত্রিকায় লেখা হয়েছে অমনটা। সেই সময়টা আমরা পার হয়ে এসেছি। এখন বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ব্যাপারে সবাই একবাক্যে প্রথমে সাবের ভাইয়ের কথা বলেন। টুকটুক করে আমাদের নামও চলে আসে। আমাদের সময় বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে, টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছে, প্রথম টেস্ট খেলেছে, আমরা প্রথম মিনি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি। এই যে এতগুলো প্রথম-এর সঙ্গে জড়িয়ে আমাদের নাম, সেটি তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। এটি আমার ও আমাদের বড় গর্বের জায়গা। প্রশ্ন : সাবের হোসেন চৌধুরীর সময় ছিলেন, আবার আ হ ম মুস্তফা কামাল যখন বিসিবি প্রেসিডেন্ট, তখনো আপনি বোর্ডে। দুজনের একটু তুলনা যদি করতেন? টুটুল : তুলনা আমি করব না, আলোচনা করতে পারি। সাবের ভাইয়ের তো বললামই। এ দেশের ক্রিকেটে ওনার অবদান সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ খুব ভালো। বক্তা হিসেবে অসাধারণ। ভিশন আছে। আর কামাল ভাইয়ের ব্যাপার আলাদা। এমন ক্রিকেট অন্তপ্রাণ মানুষ আমি দেখিনি। ওনাকে যদি বলা হয়, একদিকে জীবন অন্যদিকে ক্রিকেট- এর মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে, উনি ক্রিকেট বেছে নেবেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করা দরকার, সেখানে কামাল ভাইয়ের একটু ঘাটতি রয়েছে। আইসিসি সভাপতি হিসেবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সেটি আমরা দেখেছি। প্রশ্ন : ২০১১ বিশ্বকাপ আয়োজনে আপনি ছিলেন স্থানীয় সাংগঠনিক কমিটির আহবায়ক। সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব। ওই বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিয়ে আপনার গর্ব কতটা? টুটুল : সে গর্ব বলে বোঝানোর মতো না। এখনো যখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথা মনে হয়, কেউ মনে করিয়ে দেয়- আমার কান্না চলে আসে। আর আয়োজনের কথা কী বলব! অনেকের তো বিশ্বাসই করেননি, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব। বিদেশে কোথাও হলে আসলেও হয়তো সম্ভব ছিল না। কিন্তু আমরা সবাই মিলে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করে সব কাজ শেষ করেছিলাম। এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কথাও মনে রাখতে হবে। প্রশ্ন : সংগঠক ছাড়াও আপনি জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে তো জড়িত। এখানে আগ্রহের কারণ কী? টুটুল : আমি আসলে সব সময় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের আদর্শে বিশ্বাস করি। খেলোয়াড়ি জীবনেও আওয়ামী লিগের কোনো প্রোগ্রাম মিস করতাম না। একটা সার্কেল ছিল, তারা মিলে মিটিংয়ের পেছন দিকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব শুনতাম। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আমাদের ফুটবলের দুইজন আওয়ামী লিগের হয়ে নির্বাচন করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চুন্নু ভাই ও কুমিল্লা থেকে বাদল ভাই। ২০০১-এর নির্বাচনে আমি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে নির্বাচন করি। সেবার তো পুরো দেশেই আওয়ামী লিগের বিপর্যয়, আমিও হেরেছি। এরপর ২০০৯ ও ২০১৪-র সর্বশেষ নির্বাচনে নমিনেশন পেয়েও পরে আমাকে তা ছেড়ে দিতে হয়। তবে আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে আমি আছি। প্রশ্ন : বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় আপনার কী মনে হয়, ক্রিকেট-রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে আপনি একটু পিছিয়ে পড়েছেন? টুটুল : একদম। প্রশ্ন : কেন এমন হলো বলে মনে হয়? টুটুল : দেখুন, আমার কিছু দোষ আছে। আমি একরোখা। আমি চাটুকারী পারি না। এই আমাকে দিয়ে এই বাংলাদেশে কিছু হবে না। এই সমাজে থেকে সততার সঙ্গে কাজ করা যাবে না। চাটুকারিতার মূল্য এখানে অনেক বেশি। আমি অসৎ হতে পারিনি, চাটুকার হতে পারিনি। সে কারণে রাজনীতি বা খেলাধুলায় কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে পারছি না। এই যেমন ক্রিকেটে অনিয়মের নির্বাচন হলো। ওই অগঠনতান্ত্রিক, অনিয়মতান্ত্রিক মানতে পারছিলাম না কিছুতেই। যে কারণে নিজেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে সংগঠক হিসেবে বলুন কিংবা রাজনীতি- কোথাও আমি হাল ছাড়ছি না। একরোখা জেদে লেগে থাকলে এর প্রতিদান নিশ্চই পাব। প্রশ্ন : আবার কি ক্রিকেট বোর্ডে ফেরার ইচ্ছে আছে? টুটুল : সাবের ভাইকে নিয়ে ফেরার ইচ্ছা আছে। উনি যে কাজটি শুরু করেছিলেন, এর 'ফাইনাল টাচ' দেওয়ার জন্য। যেন বাংলাদেশ সত্যি বিশ্বের সেরা কয়েকটি দলের একটি হয়ে উঠতে পারে। একা আর ফিরতে চাই না, সেই তো আগের মতোই অবস্থা হবে। ফিরলে সাবের ভাইকে নিয়ে। আরেকটি ইচ্ছা আছে। ২০১১-এর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছিল যৌথ আয়োজক। একবার যদি আমরা একক আয়োজক হতে পারতাম! প্রশ্ন : পরিবারের কথা একটু বললেন? আপনার বিয়ে তো ওই '৮০-র দশকে বেশ সাড়া ফেলেছিল? টুটুল : আসলে আমরা পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম। যে কারণে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল কিছুটা। আমার স্ত্রীর নাম সুইটি, ভালো নাম নীলুফার আরেফিন। আমার দুই মেয়ে। বড়টির নাম দেওয়ান রাবিদা আরেফিন। ও লন্ডনে মাস্টার্স করে এসে জেমকন গ্রুপে যোগ দিয়েছে। ছোট মেয়ে দেওয়ান ফারিয়া আরেফিন। গত বছর বিবিএ শেষ করে যোগ দিয়েছে এমজিএস গ্রুপে। প্রশ্ন : শেষ দিকে চলে এসেছি। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? টুটুল : ক্রিকেটের কথা তো বললামই। সাবের ভাইকে নিয়ে ফেরার ইচ্ছে আছে বোর্ডে। আরেকটা ব্যাপার ইদানীং আমার মধ্যে খুব কাজ করে। যে ফুটবল খেলে আমি আজকের টুটুল হলাম, সেই ফুটবলে কী দুর্দশা! ভবিষ্যতে ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করার ইচ্ছে আছে তাই। গতবারই আমি ফুটবল ফেডারেশনে সদস্য পদে নির্বাচন করতে চেয়েছি। অনেকে মানা করল, বলল ফুটবল-ক্রিকেট দুই জায়গায় থাকা কেমন দেখায়। সে কারণে নির্বাচন করলাম না। কিন্তু এখন বুঝি, সেটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। আমি ফুটবলে থাকলে এখন সেখানে যা যা হচ্ছে, সেগুলো হতে পারত না। একটা উদাহরণ দিই। ওই যে মেসিকে বাংলাদেশে আনল ফুটবল ফেডারেশন, তাতে এই দেশের ফুটবলের কী উপকারটা হয়েছে বলুন! ৩০-৩৫ কোটি টাকা যে বিদেশে চলে গেল, সেটি কোন পথে গেল, কেউ প্রশ্ন পর্যন্ত করেন না। এই যে ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বললেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে- এটিকে কী বলবেন? আমাদের গ্রামদেশে বলে 'টাপলামি' বা ধাপ্পাবাজি। যে বলে ২০২২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলবে সে পাগল। আর আমরা যারা শুনি, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছি। সর্বশেষ দুটো সাফ গেমসে আমরা সেমিফাইনালেই খেলতে পারি না, সেখানে বিশ্বকাপ। এসব বড় বড় কথা বলে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে। আমি তাই চাই ফুটবলে গিয়ে সত্যিকার অর্থে ফুটবলটাকে জাগানোর চেষ্টা করতে। প্রশ্ন : আর রাজনীতিবিদ হিসেবে? টুটুল : ওই যে বললাম, এলাকার মানুষের জন্য আমি একবার নমিনেশন চাই। আমাদের মাননীয় নেত্রী আমাকে কখনো সে সুযোগ দেবেন, এমন আশায় আছি। সেই সুযোগ পাওয়াটা আমার নিজের যতোটা না, তার চেয়ে বেশি এলাকার লোকদের প্রাপ্য। ওদের জন্য কিছু করতে আমি একবার হলেও সংসদ সদস্য হতে চাই।