বাংলাদেশের খুব কম জেলা আছে যেখানকার কোনো একজন জাতীয় ক্রিকেট দল, ‘এ’ দল বা একাডেমি দলে খেলেননি। সুনামগঞ্জ এর অন্যতম। জাতীয় দল পরের কথা ঢাকা প্রথম বিভাগেই খেলেছেন কেবল একজন। সেই একজন দুই যুগের মতো ক্রিকেটে জড়িত থাকা রেজোয়ানুল হক রাজা। ঢাকা প্রথম বিভাগে সাধারণ বীমা ও পিডাব্লিউডির হয়ে খেলেছেন তিনি। খেলা ছাড়ার পর রাজা জড়িয়েছেন সাংগঠিনক কাজে। বিসিবিতে কাউন্সিলর দেওয়া নিয়ে চার বছর বন্ধ ছিল সুনামগঞ্জের লিগ। রাজা কাউন্সিলর হওয়ার পাশাপাশি জেলার ক্রিকেট সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে আবারও খেলা ফিরিয়েছেন মাঠে। এবার তাঁর লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ে সুনামগঞ্জের খেলোয়াড় তুলে আনা, ‘খেলা না হলে খেলোয়াড় আসবে না। সুনামগঞ্জে সেই খেলা যখন মাঠে নিয়মিত হচ্ছে তখন অবশ্যই জাতীয় দলে আমাদের কেউ না কেউ সুযোগ পাবে ।’ সেই পথে একধাপ এগিয়েছেন সোহানুর রহমান সোহান। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। তবে অনুর্ধ্ব-১৯ দলে এক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে ফখরুল ইসলাম নিপুর। এ ছাড়া ঢাকায় দ্বিতীয় বিভাগে খেলছেন দেলোয়ার হোসেন, সফিক আহমেদ ও কাওসার। হুমায়ূন আহমেদের হিমু চরিত্রে অভিনয় করে বেশ খ্যাতি পেয়েছিলেন ফজলুল কবির তুহিন। তিনি একসময় নিয়মিত খেলতেন সুনামগঞ্জ ক্রিকেট লিগে। অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ছিলেন নুরুল হক আম্বিয়া। ষাটের দশকে ঢাকা মোহামেডান, ফায়ার সার্ভিস, ওয়ান্ডার্রার্স, পিআইএর মতো দলে খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা মোহামেডান এখনো স্মরণে রেখেছে তাঁকে। এ জন্যই শিশু-কিশোরদের নিয়ে দল গঠনের সময় গড়া হয় আম্বিয়ার নামে একটা দল। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে ‘ছোট নাজির’ হিসেবে একনামে পরিচিত জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সুনামগঞ্জের নাজির আহমেদ চৌধুরী। ষাটের দশক থেকে টানা আশির দশক পর্যন্ত জাতীয় দল ও ঢাকার নামকড়া ফুটবল ক্লাবগুলোয় দাপিয়ে খেলেছেন। ১৯৭৩ সালে এই ডিফেন্ডার নির্বাচিত হন ক্রীড়া লেখক সমিতির বর্ষসেরা ফুটবলার। হৃদরোগে ওপেন হার্ট সার্জারি হলেও এখনো খেলাধুলার অঙ্গনে একজন সংগঠক ও পৃষ্টপোষক হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নাজির। ১৯৭৩ সালে ঢাকায় রাশিয়ার মিনিস্ক ডায়নামো ক্লাবের সঙ্গে খেলে পায়ে আঘাত পেয়ে ক্যারিয়ার শেষ হতে বসেছিল নাজির আহমেদের। কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পর ১৯৭৫ সালে জাতীয় দলে ডাক পান আবারও। টানা দুই বছর খেলেন জাতীয় দলে। এরপর ১৯৭৯ সালে ক্লাব ফুটবল থেকেও অবসর নিয়ে চলে আসেন সুনামগঞ্জে। ক্যারিয়ারের সোনালি অতীত নিয়ে জানালেন,‘ ছেলেবেলায় ফুটবলের জার্সি বুট কিনতে প্রতিবেশীদের কাছে চাঁদা চাইলে তাঁরা টাকা তো দিতই, এমনকি মাঠে পর্যন্ত খেলা দেখতে যেত। এখন চাঁদা তুলে খেলার কথা ভাবতেই পারে না নতুন প্রজন্মের ছেলেরা।’ ঢাকার ক্লাবগুলোয় খেছেন জমিরুল হক তালুকদার, মঙ্গল বাল্মিকী, আকবর আলীসহ অনেক ফুটবলার। মঙ্গল বাল্মিকী ছিলেন মোহামেডানের মতো ক্লাবের গোলরক্ষক। জেলা ক্রীড়া সংস্থার রেজিস্টার খাতায় একটা নাম দেখে বিস্মিত হতে হলো কিছুটা। সুনামগঞ্জ ফুটবল লিগের নথিভুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ম্যাচ খেলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত রহমান কোকা। আশির দশকে স্থানীয় মিলন স্পোর্টিংয়ের হয়ে ডিফেন্সে খেলেছেন তিনি। কোকোকে সুনামগঞ্জ লিগে খেলতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন জাতীয় হ্যান্ডবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আজিজুল হক কামাল। আজিজুল হক কামাল বাংলাদেশে হ্যান্ডবল আসার শুরু থেকেই ছিলেন জাতীয় দলের অন্যতম খেলোয়াড়। ১৯৯৮ সালে অবসর নেওয়া কামালের সঙ্গে হ্যান্ডবল জাতীয় দলে খেলেছেন সুনামগঞ্জের শফি আহমেদ ও মনফরও। কামালের পরিবার রীতিমতো ক্রীড়া অন্তপ্রাণ। তাঁর বাবা নুরুল হক আম্বিয়া ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় দলের গোলরক্ষক। কামালের ছোট ভাই নাসিরুল হক নাসির বাবার দেখানো পথে এসেছিলেন ফুটবলে। খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলেও। কামালের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে না পারলেও ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন সুনামগঞ্জের কয়েকজন। তাঁদের অন্যতম ইকবাল হোসেন, ইকবাল বক্স, সুমন, সেজুল আর গোপাল। ১৯৯৯ সাফ ফুটবলে রানার্সআপ হওয়া কিংবা ওই বছরই সাফ গেমস ফুটবলে প্রথম সোনা জেতার যে দুটি কীর্তিতে মনে করা হয়েছিল ফুটবলের পুনরুত্থানের মঞ্চ, সেই দুটি দলেরই অধিনায়ক ছিলেন জুয়েল রানা। তাঁর জš§ সুনামগঞ্জেই। তবে বেড়ে ওঠা আর ফুটবল চর্চা ঢাকায় বলে জুয়েল রানাকে সুনামগঞ্জের ফুটবলার বলা যায় না।