• ই-পেপার

কালো জাদুর অস্তিত্ব নিয়ে ইসলামের বক্তব্য

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব ১১৬৭

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

‘তাদের মধ্যে কতক তোমার কথা শ্রবণ করে, অতঃপর তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত তাদেরকে বলে, এই সে কী বলল? তাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর করে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়ালখুশিরই অনুসরণ করে।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৬)

আয়াতে মুনাফিকদের চরিত্র বর্ণনা করে তার নিন্দা করা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও বিধান

১. মুনাফিকরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে কোরআন শ্রবণ করত। অতঃপর ইহুদিদের কাছে গিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলত, মুহাম্মদ নতুন কি আর বলেছে?

২. মক্কায় কোনো মুনাফিক ছিল না, কিন্তু মদিনায় ছিল। এর কারণ হলো ক্ষমতাধর ও শক্তিমানদের সঙ্গে মুনাফিকি করা হয়, দুর্বলদের সঙ্গে নয়। মুনাফিকি করা হয় কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য।

৩. আয়াতে ইঙ্গিত মেলে মুনাফিক নিজেদের ধার্মিক হিসেবেই পেশ করত। যেমন তারা প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করত, আগ্রহ ও মনোযোগের সঙ্গে কোরআন শুনত ইত্যাদি।

৪. কপটতার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ মুনাফিকদের অন্তরে মোহর মেরে দেন। ফলে তারা নিফাক থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি ঈমান গ্রহণ করতে পারে না।

৫. প্রবৃত্তির আনুগত্য পরিহার করা আবশ্যক। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে প্রবৃত্তির অনুসরণ ছেড়ে আমার আনীত শরিয়তের আনুগত্য করে। (তাফসিরে শারভি, পৃষ্ঠা-১৪৩১০)

 

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

সিসি ক্যামেরায় নামাজের রাকাত সংখ্যা ভুল প্রমাণিত হলে

 

প্রশ্ন : আমাদের অফিসের নামাজের জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে। অফিস কর্তৃপক্ষ কিছুদিন একটি জরুরি প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরা চেক করার সময় দেখা গেল যে এর আগের দিনের জোহরের নামাজ তিন রাকাত পড়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা এক্সপার্টরা বিভিন্ন যাচাই করে একই রকম ফলাফল পাচ্ছে। এ অবস্থায় যারা সেদিন একসঙ্গে জোহরের নামাজ আদায় করেছে, তাদের জন্য ওই নামাজ আবার পড়া কি ওয়াজিব?

 

মাজহার, ময়মনসিংহ

 

উত্তর : সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওর মাধ্যমে ওই দিনের জোহরের নামাজ যেহেতু তিন রাকাত পড়া প্রবল ধারণার ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে, তাই ওই নামাজ আবার আদায় করা আবশ্যক। (হেদায়া : ১/১৫৯, তুহফাতুল ফুকাহা : ১/২১০, ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৯৪)

দ্রুত বাড়ছে হালাল ওষুধের বৈশ্বিক বাজার

নিহার মামদুহ
দ্রুত বাড়ছে হালাল ওষুধের বৈশ্বিক বাজার

বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যা ও ধর্মীয় সচেতনতার প্রভাবে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে হালাল ওষুধের বৈশ্বিক বাজার। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইংকউড রিসার্চের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বৈশ্বিক হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস (হালাল ওষুধ) বাজারের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ৯.৭৫ শতাংশ হবে।

গবেষণায় হালাল ওষুধ খাতের উদীয়মান প্রবণতাগুলো, উদ্ভাবনে নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ কম্পানিগুলোর পরিচয় এবং হালাল ওষুধ বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রযুক্তি ও নতুন নতুন সমাধান বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিল্প খাতকে যেভাবে রূপান্তরিত করছে তার আলোকে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিনিয়োগকারী ও আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও প্রবৃদ্ধির সুযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস বলতে এমন সব ওষুধকে বোঝায়, যেগুলো শরিয়তের বিধান অনুযায়ী প্রস্তুত ও উৎপাদিত হয়। এসব ওষুধে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদান এবং পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া হালাল মানদণ্ড অনুসরণ করে। খাদ্যসংক্রান্ত ধর্মীয় বিধান মেনে চলতে আগ্রহী মুসলিম ভোক্তাদের মধ্যে এ ধরনের ওষুধের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

হালাল ওষুধের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া হালাল সনদপ্রাপ্ত ওষুধের চাহিদায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। এই দুই দেশে বিপুল মুসলিম জনসংখ্যা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো বিদ্যমান, যা হালাল ফার্মাসিউটিক্যালশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

হালাল ফর্মুলেশনে বায়োলজিকস ও বায়োসিমিলার ওষুধের প্রতি ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বাজারে নতুন উদ্ভাবনের পথ তৈরি করছে। উন্নত চিকিৎসার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কম্পানি এমন বায়োলজিক ও বায়োসিমিলার ওষুধ তৈরি করছে, যা একদিকে কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে ইসলামী খাদ্যবিধিও অনুসরণ করছে।

বর্তমানে ভোক্তাদের মধ্যে নৈতিকভাবে উৎপাদিত এবং ক্লিন-লেবেল পণ্যের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস বাজারকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। মানুষ এখন তাদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অধিক স্বচ্ছতা, সততা ও নৈতিক মানদণ্ড প্রত্যাশা করছে। ফলে প্রাকৃতিক, টেকসই উপাদান দিয়ে তৈরি, অপ্রয়োজনীয় সংযোজক ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত হালাল সনদপ্রাপ্ত ওষুধের চাহিদা বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস বাজার ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো এই অঞ্চলে বিপুল মুসলিম জনসংখ্যার উপস্থিতি এবং ধর্মীয় বিধানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ বিভিন্ন দেশের সরকার হালাল ওষুধের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান প্রণয়ন করছে।

স্থানীয় উৎপাদকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোও বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিভিন্ন ধরনের হালাল সনদপ্রাপ্ত ওষুধ বাজারে আনছে। বিভিন্ন ডোজেজ ফর্মে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে ভোক্তাদের বহুমুখী চিকিৎসা চাহিদা পূরণ করা যায়।

হালাল মানদণ্ডের প্রতি অঞ্চলের দৃঢ় সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অঙ্গীকারের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : ইংকউড রিসার্চ ডটকম

 

আমরা কেন ফেরেশতা ও জিন দেখতে পাই না

আহমাদ রাইদ
আমরা কেন ফেরেশতা ও জিন দেখতে পাই না

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও ফেরেশতা ও জিন দেখতে পায় না। যদি আমরা এ বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা ও উপলব্ধি করি, তাহলে দেখতে পাব যে এর পেছনে আছে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময় কিছু কারণ, যা সুস্থ বিবেক ও সঠিক যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমানের পরীক্ষা : ফেরেশতা ও জিনকে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে রাখার অন্যতম বড় হিকমত হলো, এটি আমাদের গায়েবের প্রতি ঈমানের পরীক্ষা। মহান আল্লাহ চান, আমরা যেন এমন বিষয়েও বিশ্বাস স্থাপন করি, যা আমাদের চোখে দেখা যায় না। আর এটিই প্রকৃত ঈমানের মূল বৈশিষ্ট্য।

যদি আমরা ফেরেশতা ও জিনকে সরাসরি দেখতে পেতাম, তাহলে তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় হয়ে যেত। তখন অন্তরের বিশ্বাস, চিন্তা ও আত্মসমর্পণের যে মূল্য রয়েছে, তা কমে যেত।

মহান আল্লাহ মুত্তাকিদের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ২-৩)

ফেরেশতা ও জিন দেখতে না পাওয়া রহমতস্বরূপ : একটু কল্পনা করুন, যদি আমরা ফেরেশতা ও জিনদের তাদের বিশাল সংখ্যা ও প্রকৃত আকৃতি নিয়ে দেখতে পেতাম, তাহলে আমাদের অবস্থা কেমন হতো?

ফেরেশতারা মহান নুরের সৃষ্টি। আর জিনদের মধ্যে রয়েছে ভালো ও মন্দ উভয় ধরনের সৃষ্টি। যদি অদৃশ্য জগতের সবকিছু আমাদের সামনে প্রকাশ হয়ে যেত, তাহলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। মানুষ ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ত।

সুতরাং তাদের না দেখা আমাদের প্রতি আল্লাহর এক মহান রহমত এবং আমাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নিরাপত্তার অংশ।

ফেরেশতা ও জিন দেখতে না পাওয়া

পরীক্ষাস্বরূপ : শয়তান মানুষের শরীরে রক্তের মতো চলাচল করে, তাকে কুমন্ত্রণা দেয় এবং মন্দ কাজকে সুন্দর করে দেখায়। যদি আমরা তাকে দেখতে পেতাম, তাহলে এই পরীক্ষার প্রকৃতিই পরিবর্তিত হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর হিকমত হলো আমরা যেন অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলায় আল্লাহর ওপর নির্ভর করি, তাঁর কাছে আশ্রয় চাই, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে (শয়তান) এবং তার দল তোমাদের এমন স্থান থেকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমি শয়তানদের তাদের অভিভাবক করেছি, যারা ঈমান আনে না।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ২৭)

জিন ও শয়তানের এই অদৃশ্য থাকার ক্ষমতা তাদের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের অংশ এবং এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা—কে আল্লাহর পথ অনুসরণ করে আর কে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

সৃষ্টির প্রকৃতিগত পার্থক্য : আল্লাহ প্রত্যেক সৃষ্টিকে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের চোখ নির্দিষ্ট সীমার আলো দেখতে পারে, মানুষের কান নির্দিষ্ট মাত্রার শব্দ শুনতে পারে। আমরা ফেরেশতা ও জিনকে দেখতে পাই না—এটি আমাদের কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি সৃষ্টির প্রকৃতিগত পার্থক্য।

ফেরেশতা ও জিন আমাদের দেখতে পারে, অথচ আমরা তাদের দেখতে পাই না—এটি আমাদের মর্যাদা কমায় না, বরং এটি আল্লাহর নির্ধারিত দায়িত্ব ও সৃষ্টির ব্যবস্থার অংশ।

আদম সন্তানকে দেওয়া আল্লাহর সম্মান হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সম্মান, যা মানুষের অস্তিত্ব, চিন্তা, আত্মিক উন্নতি এবং পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আসল মর্যাদা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর আনুগত্য এবং নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা।