* উৎসর্গ : আমার শ্রদ্ধেয় বাবা-মাকে পেছনের গল্প : আসলে এটা তো আমার প্রথম বই, তাই উৎসর্গ নিয়ে একটু দ্বিধায় ভুগছিলাম। যদিও আমার প্রেমিকা মলি বলেছিল যেন ওর নামে বই উৎসর্গ করি। আমারও সে রকমই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভদ্রতা বলে একটা ব্যাপার আছে। প্রায় সব লেখকই প্রথম বইটা মা-বাবাকে উৎসর্গ করেন, সেখানে আমি না করলে কেমন দেখায়। তাই কী আর করা, বাধ্য হয়েই...। * উৎসর্গ : বক্কর ভাই, প্রকাশক এবং আমার প্রিয় মানুষ, যার অপার স্নেহ আমাকে সাহিত্যচর্চায় প্রেরণা জোগায়। পেছনের গল্প : বক্কইর্যা আবার আমার প্রিয় মানুষ হলো কবে! বইয়ে বাধ্য হয়ে লিখতে হয়েছে। আসলে একটা উপন্যাস অনেক আগে লিখলেও কোনো প্রকাশকই বের করতে চাচ্ছিল না। প্রতিদিন বাংলাবাজার যাই। জুতোর তলা ক্ষয় হয়। রোদে হাঁটাহাঁটি করি; কিন্তু কোনো প্রকাশক রাজি হয় না। শেষমেশ এক মামাতো ভাইয়ের প্রভাবশালী শ্যালককে দিয়ে ফোনে হুমকি দেওয়াতে বক্কর ভাই রাজি হলেন। বেচারাকে দেখে মায়া লেগে গেল। তাই সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে উৎসর্গটা তাঁকে করলাম। প্রিয় মানুষটানুস কিছু না, ওনার সঙ্গে পরিচয়ই হয়েছে গত মাসে। * উৎসর্গ : সহধর্মিণী মিতুকে। লেখালেখির নিঃসঙ্গ সময়ে সঙ্গ দিয়ে যে আমাকে সাহায্য করেছে। পেছনের গল্প : 'মিতু আমার সহধর্মিণী'-ওপরের লাইনের শুধু এ কথাটাই সত্য। ও আমাকে সঙ্গ দেবে কী, সারাক্ষণ কানের কাছে যে রকম ঘ্যানর ঘ্যানর করে, রেডিওর মতো বাজে, ও সঙ্গ না দিলেই বরং আমি অনেক খুশি হতাম। ওর জন্য মনোযোগ দিয়ে যে একটু কাজ করব তাও সম্ভব হয় না। ইচ্ছা ছিল পাশের বাড়ির পুতুল ভাবির নামে বই উৎসর্গ করব; কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। মিতু জানতে পারলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। * উৎসর্গ : প্রিয় বন্ধু আক্কাস, সালাম, কাদেরসহ কাছের এবং দূরের বন্ধুদের। পেছনের গল্প : আক্কাস, সালাম এবং কাদের নামে আমার কোনো বন্ধু কখনোই ছিল না, ভবিষ্যতে হবে এমন সম্ভাবনাও নেই। প্রশ্ন করতে পারেন, এরা তাহলে কারা? আসলে এরা আমার সবচেয়ে বড় পাওনাদার। দিনে দু-তিনবার করে পাওনা টাকার জন্য বাসায় এসে বসে থাকে। টাকা দিতে পারি না তাই বইটা ওনাদের উৎসর্গ করলাম। এতে অন্তত যদি কিছুদিন টাকা চাওয়া বন্ধ করে এই আশায়!