• ই-পেপার

বাস্তবায়নে আন্তরিকতা প্রয়োজন

  • বাজেট বিনিয়োগবান্ধব

অনিয়ম দূর করতে হবে

লোকসানে চলছে রেল

অনিয়ম দূর করতে হবে

রেলের টিকিট কাটতে গেলে বেশির ভাগ সময়ই পাওয়া যায় না। উৎসব-পার্বণ তো বটেই, সাধারণ সময়েও রেলের টিকিটের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু বছর শেষে রেল কর্তৃপক্ষ বড় অঙ্কের অর্থ লোকসানের হিসাব দেখায়। বছরের পর বছর ধরে এটিই চলে আসছে। অথচ তুলনামূলক নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে এখনো রেলই পছন্দের শীর্ষে। 

কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বেশির ভাগ আন্ত নগর ও লোকাল মেইল ট্রেনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অর্ধেকও অর্জিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে প্রশ্ন আসে, লোকসান ঠেকাতে বেসরকারীকরণ যদি কার্যকর উপায় হয়, তাহলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কেন তা অর্জিত হচ্ছে না? পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেখানে এপ্রিল পর্যন্ত আয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এক হাজার ১৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সেখানে আয় হয়েছে মাত্র ৬২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

বলা হয়েছে, অনেক যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করে। কিন্তু সেসব যাত্রীর কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ চলে যায় ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পকেটে, এটা কেমন কথা? এ ধরনের অনিয়ম আরো আছে। এ ছাড়া শিডিউল বিপর্যয়, টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ হরহামেশাই পাওয়া যায়। লোকাল বা মেইল ট্রেন যেমন-তেমন, অনেক আন্ত নগর ট্রেনেও যাত্রীসেবার মান অত্যন্ত হতাশাজনক। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ৫১ শতাংশ লেভেলক্রসিংই অননুমোদিত। এসব স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে রেলওয়ে ব্যবস্থা চালু হয়। প্রায় পৌনে ২০০ বছরের পথপরিক্রমায় ভারত ও পাকিস্তান রেলওয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও বাংলাদেশে উল্টো চিত্র। প্রতি ১০০ টাকা আয় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যয় করছে ২০০ টাকার বেশি। সেখানে ভারত ও পাকিস্তানের খরচ ১০০ টাকার কিছু কম। জানা গেছে, রেলওয়েকে লাভজনক করতে বেশির ভাগ দেশ মালপত্র পরিবহন থেকে আয়ের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমাদের সেখানেও বিবিধ সংকট।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রাথমিক কাজ হলো অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সঠিক পরিচালন নীতি অনুসরণ করা। পাশাপাশি সেবার মান উন্নত এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করলে আমাদের রেলও অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

খুলনায় পুলিশের (কেএমপি) বিশেষ অভিযানের মধ্যেই দিনদুপুরে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বগুড়ায় এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ ও গাজীপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মারা গেছেন সোহেলি ইসলাম নামের এক নারী। প্রায় প্রতিদিন এমন বহু ঘটনা বলে দিচ্ছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, খুলনার লবণচরা মাথাভাঙ্গা এলাকায় গত শুক্রবার দুপুরে একটি দোকানে বসেছিলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে মুহূর্তেই চলে যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান রফিকুল। একই দিন অর্থাৎ গত শুক্রবারই জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারের উল্টো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে থাকা ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ। এ সময় দুজন মোটরসাইকেলে এসে ফিল্মি স্টাইলে পলাশকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ রকম ঘটনা একটি-দুটি নয়, অনেক।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, রাজধানীসহ প্রতিটি জেলায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বেড়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৩১ জন। ছিনতাইকারী, দস্যু-ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে দুই হাজার ২১১ জন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ৮০৮ জন। কিন্তু এসব অভিযান যে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল তা পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

দেখা যাচ্ছে, দিন দিন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা নিত্যনতুন কায়দায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের হাতে উঠেছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। জানা গেছে, সীমান্ত দিয়েও দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। কিন্তু হতাশার দিক হলো, সে তুলনায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ছে না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উল্টো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই আক্রান্ত হয়েছেন।

আমরা মনে করি, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাদের নিয়মিত ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। অভিযানের পরিসর বাড়াতে হবে। অপরাধ করে কেউ যেন পার পেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

প্রস্তাবিত বাজেট

বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বরাবরের মতোই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাজেটের তীব্র সমালোচনা করছে। সরকারি দল বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বলেছে, এই বাজেট বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাজেটের লক্ষ্যপূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির মূল সুবিধাগুলো সীমিত কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা  প্রভাবশালী মহলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে সমাজের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নের মূলধারার বাইরে থেকে গেছে। বর্তমান সরকার সেই বাস্তবতা পরিবর্তন করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সংগ্রামের পর সবার একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক। সেসবের প্রতিফলন ঘটাতে আমরা চেষ্টা করেছি সবার সঙ্গে কথা বলতে ও মতামত নিতে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানিকে (বাপেক্স) আরো সক্রিয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাপেক্সের সফলতার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে আরো পাঁচটি রিগ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডির মতে, বাজেটের দর্শন ও নীতিগত উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও এর অধিকাংশ লক্ষ্য এমন একটি অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেট প্রাক্কলনের ভিত্তিটাই ঠিক না। বাজেটে প্রবৃদ্ধি, সম্পদ আহরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ, রপ্তানি ও আমদানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার ভিত্তি হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এমন একটি চিত্র ধরা হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বাজেটে শিল্পায়ন, আমদানি প্রতিস্থাপক শিল্প সুরক্ষা, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু কর-শুল্ক সুবিধা দিলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, আইন-শৃঙ্খলা ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসবে না।

অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৭৫ শতাংশ থাকলেও আগামী অর্থবছরে তা ৯.৪ শতাংশ হবে বলে বাজেটে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

সামষ্টিক অর্থনীতির সব সূচকই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হলেও রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে তা করতে হবে। আমরা আশা করি, বাজেট বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।

সিদ্ধান্তটি যেন ‘আইওয়াশ’ না হয়

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

সিদ্ধান্তটি যেন ‘আইওয়াশ’ না হয়

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা যায়। অতীতে দেখা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থার কারণে রোগীর মৃত্যু হলেও শাস্তি প্রদানের নজির তেমন নেই। এই দিক থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত এক ধরনের দৃষ্টান্ত। আশা করা যায়, আগামী দিনে অন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ থেকে শিক্ষা নেবে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘শোকজ নোটিশের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। তাই মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’ তবে ওই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার আইনি সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নোটিশের জবাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মৃত্যু হয়, যা জনমনে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা ও অবহেলা ছিল। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা এবং বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। দেখা যাচ্ছে, যেখানে নবজাতকের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল সেখানেই অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হলো।

স্বল্প খরচে চিকিৎসার জন্য আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এক ধরনের সুনাম ছিল। এমনকিগরিবের হাসপাতাল’ বলেও তকমা দেওয়া হয়েছে। এই বিবেচনায় একটি মহল হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের বিরোধিতা করছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এমনকি গরিবের হাসপাতাল হলেও তারা কোনো অনিয়মের লাইসেন্স পেতে পারে না।

আমরা মনে করি, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কিভাবে হয় সেটিও দেখার বিষয়। হাসপাতালে যেসব রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হওয়া দরকার। এ ছাড়া লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তটি যেন শুধুইআইওয়াশবা সাময়িক ক্ষোভ প্রশমনের উপায় না হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতে একটি বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি।