অযাচিত ব্যথা, রক্তপাত এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দাঁত ও মাড়ির চিকিৎসায় এখন ব্যবহৃত হচ্ছে লেজার। এতে ড্রিল বা স্ক্যালপেলের মতো মাড়িতে কাটাকাটির প্রয়োজন হয় না। তাই চিকিৎসা শেষে রোগী দ্রুত সেরে ওঠে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সেলাই বা অ্যানেসথেসিয়ারও প্রয়োজন হয় না। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ, রক্তপাত বা ক্ষত থেকে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বেশি, তাদের জন্য লেজারভিত্তিক দন্ত চিকিৎসা হতে পারে চমৎকার সমাধান।
কিডনি প্রতিস্থাপন ও
ইমিউনোসাপ্রেসড রোগী
কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। প্রথাগত দন্ত চিকিৎসায় এই রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। লেজার চিকিৎসায় দাঁত ও মাড়ি জীবাণুমুক্ত থাকে, রক্তপাতও কম হয়। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কাও কম। তবে কিডনি রোগীদের অবশ্যই আগে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
ডায়াবেটিক রোগী
ডায়াবেটিক রোগীদের যেমন মাড়ির রোগের ঝুঁকি বেশি, তেমনি দেহের যেকোনো ক্ষত সহজে সারে না। লেজার ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় ক্ষত তৈরি না করেই দাঁত ও মাড়ির ব্যাকটেরিয়া দমন করে প্রদাহ কমানো যায়। ফলে মুখে সংক্রমণ বা অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই পরিহার করা সম্ভব।
রক্ত পাতলা করার
ওষুধ গ্রহীতা
হৃদরোগ অথবা স্ট্রোকের রোগীদের নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার অস্ত্রোপচারে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। লেজার ব্যবহৃত হলে রক্তপাতের ঝুঁকি কমে। কেননা লেজারের উত্তাপে ক্ষতস্থানের রক্তনালিগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায়, রক্ত ঝরার উপায় থাকে না।
গর্ভবতী নারী
গর্ভাবস্থায় হরমোনজনিত কারণে মাড়ির সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে সৃষ্টি হয় প্রদাহ। লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে প্রায় ব্যথাহীনভাবে মাড়ির চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে চিকিৎসার আগে দন্ত চিকিৎসক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সতর্কতা
লেজার প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিলেও এটি সব ধরনের দাঁতের সমস্যার জন্য উপযোগী নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, ব্যবহৃত ওষুধ এবং চিকিৎসার ধরন বিবেচনা করে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দন্ত চিকিৎসক। তাই যেকোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লেখক : চিফ কনসালট্যান্ট
পাল্প ডেন্টাল হাসপাতাল





