• ই-পেপার

চিকিৎসাপদ্ধতি

জীবন বাঁচায় প্লাজমাফেরেসিস

দাঁত

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে লেজার চিকিৎসা

ডা. অনুপম পোদ্দার

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে লেজার চিকিৎসা

অযাচিত ব্যথা, রক্তপাত এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দাঁত ও মাড়ির চিকিৎসায় এখন ব্যবহৃত হচ্ছে লেজার। এতে ড্রিল বা স্ক্যালপেলের মতো মাড়িতে কাটাকাটির প্রয়োজন হয় না। তাই চিকিৎসা শেষে রোগী দ্রুত সেরে ওঠে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সেলাই বা অ্যানেসথেসিয়ারও প্রয়োজন হয় না। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ, রক্তপাত বা ক্ষত থেকে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বেশি, তাদের জন্য লেজারভিত্তিক দন্ত চিকিৎসা হতে পারে চমৎকার সমাধান।

 

কিডনি প্রতিস্থাপন ও

ইমিউনোসাপ্রেসড রোগী

কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। প্রথাগত দন্ত চিকিৎসায় এই রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। লেজার চিকিৎসায় দাঁত ও মাড়ি জীবাণুমুক্ত থাকে, রক্তপাতও কম হয়। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কাও কম। তবে কিডনি রোগীদের অবশ্যই আগে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

 

ডায়াবেটিক রোগী

ডায়াবেটিক রোগীদের যেমন মাড়ির রোগের ঝুঁকি বেশি, তেমনি দেহের যেকোনো ক্ষত সহজে সারে না। লেজার ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় ক্ষত তৈরি না করেই দাঁত ও মাড়ির ব্যাকটেরিয়া দমন করে প্রদাহ কমানো যায়। ফলে মুখে সংক্রমণ বা অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই পরিহার করা সম্ভব।

 

রক্ত পাতলা করার

ওষুধ গ্রহীতা

হৃদরোগ অথবা স্ট্রোকের রোগীদের নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার অস্ত্রোপচারে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। লেজার ব্যবহৃত হলে রক্তপাতের ঝুঁকি কমে। কেননা লেজারের উত্তাপে ক্ষতস্থানের রক্তনালিগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায়, রক্ত ঝরার উপায় থাকে না।

 

গর্ভবতী নারী

গর্ভাবস্থায় হরমোনজনিত কারণে মাড়ির সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে সৃষ্টি হয় প্রদাহ। লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে প্রায় ব্যথাহীনভাবে মাড়ির চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে চিকিৎসার আগে দন্ত চিকিৎসক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

সতর্কতা

লেজার প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিলেও এটি সব ধরনের দাঁতের সমস্যার জন্য উপযোগী নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, ব্যবহৃত ওষুধ এবং চিকিৎসার ধরন বিবেচনা করে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দন্ত চিকিৎসক। তাই যেকোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 

লেখক : চিফ কনসালট্যান্ট

পাল্প ডেন্টাল হাসপাতাল

 

থাইরয়েড

থাইরয়েড রোগীর খাওয়াদাওয়া

থাইরয়েডের কার্যকারিতা ধরে রাখতে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে দেখা দিতে পারে থাইরয়েডজনিত নানান জটিলতা। থাইরয়েড সুস্থ রাখার খাবার পরিকল্পনা জানাচ্ছেন ডা. শাহজাদা সেলিম

থাইরয়েড রোগীর খাওয়াদাওয়া

আমাদের গলার নিচের অংশে, শ্বাসনালির ঠিক সামনে রয়েছে থাইরয়েড। দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। ছোট্ট এই গ্রন্থি দেহের বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি থেকে দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়—থাইরক্সিন (FT4) ও ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (FT3)। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism),
হৃত্স্পন্দন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণেও এই হরমোনগুলো অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েডের কর্মক্ষমতা ধরে রাখা তাই অত্যন্ত জরুরি। যখন এই গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে, তখন সেই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। আর যখন বেশি হরমোন তৈরি করে, তখন তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম। দুই ক্ষেত্রেই দেহে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়, দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই এ সমস্যাগুলোর নেপথ্য কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অথবা অপুষ্টি।

 

যেসব পুষ্টি প্রয়োজন

থাইরয়েড গ্রন্থিকে বলা যেতে পারে হরমোন তৈরির কারখানা। কাঁচামাল ছাড়া কোনো কারখানা চলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে থাইরয়েডের জ্বালানি হলো নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টিকর উপাদান। কিছু খনিজ ও ভিটামিন ছাড়া থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন অসম্ভব।

প্রধান কাঁচামাল আয়োডিন : থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। শরীরে আয়োডিন উৎপাদিত হয় না, তাই এটি খাবার থেকে গ্রহণ করতে হয়। আয়োডিনের অভাবে দেখা দেয় গলগণ্ড (Goiter) ও হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো জটিল ব্যাধি। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন আবার হাইপারথাইরয়েডিজমের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিমিত মাত্রায় আয়োডিন গ্রহণ করা জরুরি। আয়োডিনের উত্কৃষ্ট উৎস আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিম।

হরমোনের সক্রিয়কারী সেলেনিয়াম :

 

FT4 হরমোনকে সক্রিয় FT3-তে রূপান্তর করতে সাহায্য করে সেলেনিয়াম। এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। এর মূল উৎস ব্রাজিল নাট

(Brazil nuts), টুনা মাছ, মুরগির মাংস ও সূর্যমুখীর বীজ।

জিংক  (Zinc) : থাইরয়েড হরমোন সংশ্লেষণ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জিংক। জিংকের অভাবে থাইরয়েডের কার্যক্রমের গতি মন্থর হয়ে যেতে পারে। গরুর মাংস, কুমড়ার বীজ, ছোলা ও ডাল জিংকের ভালো উৎস।

আয়রন ও ভিটামিন ‘ডি’ : অনেকেরই অজানা, থাইরয়েডের সুস্থতায় আয়রন ও ভিটামিন ‘ডি’র ভূমিকা আছে। এ দুটির অভাব হলে থাইরয়েড এনজাইমের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

থাইরয়েড রোগীদের দেহে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি দেখা যায় অহরহ। তাই বেশি করে ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করতে হবে। এর উত্কৃষ্ট উেসর মধ্যে আছে লাল মাংস, কলিজা, দুধ, ডিম, সূর্যালোক, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ও বাদাম।

 

কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

থাইরয়েড রোগীদের জন্য পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকের ভ্রান্ত ধারণা, থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিলে নির্দিষ্ট কিছু সবজি একদমই খাওয়া যাবে না। বাস্তবতা হলো, গয়ট্রোজেনিক খাবার পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে থাইরয়েডের ক্ষতি হয় না। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি এবং সয়াবিনজাতীয় খাবারে গয়ট্রোজেন (Goitrogens) থাকে, যা আয়োডিন শোষণে বাধা দিতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে এগুলো পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। রান্নার ফলে এসব খাবারের গয়ট্রোজেনিক প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। তাই থাইরয়েড রোগীরা পরিমিত পরিমাণে রান্না করা ফুলকপি বা বাঁধাকপি খেতে পারেন। কাঁচা অবস্থায় সালাদের মধ্যে এসব খাবার না খাওয়াই ভালো। সয়া সস এড়িয়ে চলা উত্তম।

আঁশযুক্ত খাবার ও পানি গ্রহণ করতে হবে বেশি বেশি। হাইপোথাইরয়েড রোগীদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা খুব সাধারণ। তাই প্রচুর শাক-সবজি, ফলমূল এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এটি বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত জটিলতা (ফিস্টুলা, হেমোরয়েড, ফিশার) প্রতিরোধে সহায়ক।

চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করা প্রয়োজন। রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা। তাই থাইরয়েড রোগীরা অতিরিক্ত চিনি এবং রিফাইন করা কার্বোহাইড্রেট (যেমন—সাদা ময়দা) গ্রহণ করলে দেহে ক্লান্তি বাড়বে এবং ওজন বেড়ে যাবে দ্রুত। এর প্রভাবে উল্টো থাইরয়েডের সমস্যা আরো প্রকট হতে পারে।

পুষ্টির সঙ্গে জীবনযাত্রার সমন্বয় করাও জরুরি। শুধু ভালো খাবার খেলেই হবে না, শরীর যাতে সেই পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে, তারও ব্যবস্থা করতে হবে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ : অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা থাইরয়েডের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

পর্যাপ্ত ঘুম : হরমোনের ভারসাম্য রাখতে দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন।

নিয়মিত ব্যায়াম : হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীদের অলসতা ও মেদ কমাতে হাঁটা বা ইয়োগা কার্যকর।

 

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

এন্ডোমেট্রিয়োসিস

নারীদের দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ

ঋতুস্রাবের সময় তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন নারীরা। ব্যথা যদি অসহনীয় যন্ত্রণায় পরিণত হয়, সেটি হতে পারে এন্ডোমেট্রিয়োসিসের লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদি এ রোগ নিয়ে লিখেছেন ডা. শাহীনা বেগম শান্তা

নারীদের দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ
এন্ডোমেট্রিয়োসিসের ব্যথা কমাতে গরম ছেঁক নেন অনেক নারী। ছবি : সংগৃহীত

অনেক নারীর জন্য ঋতুস্রাবের সময়টি আতঙ্কের কারণ। তলপেটের অসহনীয় ব্যথার যন্ত্রণায় কাটে এই কয়েকটি দিন। ব্যথার কারণে স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতে হয় তাঁদের। সঙ্গে বাড়তি উপসর্গ হিসেবে যোগ হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, বমিভাব ও তীব্র ক্লান্তি। ঋতুচক্রের স্বাভাবিক উপসর্গ কেমন সে বিষয়ে সচেতনতার অভাবে অনেকেই এমন উপসর্গকে ভাবেন মাসিকের স্বাভাবিক ব্যথা। সংকোচ, পারিবারিক ও সামাজিক বিধি-নিষেধের ভয়ে নীরবে বছরের পর বছর এই কষ্ট সহ্য করেন কেউ কেউ। তবে অনেকের ক্ষেত্রে তীব্র এই ক্রনিক ব্যথার পেছনে রয়েছে এন্ডোমেট্রিয়োসিস নামের এক জটিল রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রজননক্ষম বয়সী প্রায় ১৯ কোটি নারী এন্ডোমেট্রিয়োসিসে আক্রান্ত। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন নারীর একজন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

 

কেন হয় এই রোগ

এন্ডোমেট্রিয়োসিস নামটি এসেছে জরায়ুর ভেতরের আবরণ বা এন্ডোমেট্রিয়াম থেকে। ঋতুচক্রের স্বাভাবিক নিয়মে মাসিকের সময় এই টিস্যু রক্তের সঙ্গে মিশে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। নানা কারণে এন্ডোমেট্রিয়ামের টিস্যু জরায়ুর বাইরে গজাতে পারে। ডিম্বাশয়, ফেলোপিয়ান টিউব এবং পেলভিক ফ্লোরের অন্যান্য অংশে এটি ছড়িয়ে যায়। এ অবস্থাকেই বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়োসিস। জরায়ুর বাইরে জন্মালেও এন্ডোমেট্রিয়ামের টিস্যু ঋতুচক্রের হরমোনের প্রভাবে সক্রিয় হয়। মাসিকের সময় বাইরের এসব টিস্যুতে তৈরি হয় প্রদাহ। এ থেকে হয় রক্তক্ষরণ এবং এর ফলে স্কার টিস্যু তৈরি হতে থাকে। স্কার টিস্যু জমে পেলভিক ফ্লোরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, যেটিকে বলা হয় অ্যাডহেসন। ডিম্বাশয় পর্যন্ত এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু ছড়ালে তৈরি হতে পারে রক্তে ভরা ‘চকোলেট সিস্ট’। এটিও যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাবের কারণ। এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু যদি জরায়ুর পেশির ভেতরে গজায়, সে ক্ষেত্রে দেখা দেয় অ্যাডেনোমায়োসিস।

 

মূল উপসর্গ ব্যথা

ঋতুস্রাব চলাকালে তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া এন্ডোমেট্রিয়োসিসের মূল উপসর্গ। এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু বেশি ছড়িয়ে গেলে মাসিকের সময় ছাড়াও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তলপেটে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, সহবাসের সময় ব্যথা, মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি এবং মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা দিয়ে রোগের বিস্তৃতি বিচার করা যায় না। প্রাথমিক পর্যায়ের এন্ডোমেট্রিয়োসিস থেকেও প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে অনেকের, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু থেকে অ্যাডহেসন হয়ে গেলেও তুলনামূলক কম উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর অজান্তেই দিনের পর দিন রোগ অগ্রসর হতে পারে।

 

দ্রুত নির্ণয় জরুরি

এন্ডোমেট্রিয়োসিসের প্রকোপ সময়ের সঙ্গে বাড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি কমানো সম্ভব, তবে একবার এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু ছড়িয়ে গেলে এর বিস্তার কমানো কঠিন। তাই মাসিকের ব্যথা অস্বাভাবিক মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি তলপেটের আলট্রাসনোগ্রাফি বা এমআরআই করাতে হতে পারে। ডিম্বাশয়ে চকোলেট সিস্ট আছে কি না জানতে ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসনোগ্রাফিও করাতে হবে।

 

রয়েছে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি

এন্ডোমেট্রিয়োসিসের প্রভাবে প্রজননতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের পাশাপাশি ফেলোপিয়ান টিউবের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। চকোলেট সিস্ট হয়ে ডিম্বাশয়ের ক্ষতি হতে পারে। পেলভিক ফ্লোর অ্যাডহেসনের প্রভাবে স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। নারীদের বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ এটি। সঠিক সময়ে এন্ডোমেট্রিয়োসিসের চিকিৎসা করা না হলে স্থায়ী বন্ধ্যত্বেরও ঝুঁকি রয়েছে।

 

চিকিৎসা

এন্ডোমেট্রিয়োসিস পুরোপুরি নির্মূল করা সব সময় সম্ভব নয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর জন্য প্রয়োজন রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক। প্রয়োজনভেদে ওষুধ, হরমোন থেরাপি এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এন্ডোমেট্রিয়োসিসের চিকিৎসা করা হয়। ব্যথানাশক ওষুধের মাধ্যমে ব্যথার তীব্রতা কমানো হয়, হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা রোগ বিস্তারে বাধা দেয় এবং উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসার প্রয়োজনে সাময়িকভাবে মাসিক বন্ধও রাখতে হতে পারে। অসহনীয় ব্যথা, ডিম্বাশয়ে বড় আকারের সিস্ট, বন্ধ্যত্ব ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশনের মাধ্যমে সিস্ট অপসারণ, পেলভিক ফ্লোর অ্যাডহেসন কমানো এবং বাড়তি টিস্যু সরিয়ে ফেলা হয়। গর্ভধারণে জটিলতা নিরসনে আইভিএফ প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ।

 

লেখক : কনসালট্যান্ট

(ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ)

বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড

খুশকি নিয়ন্ত্রণ

খুশকি নিয়ন্ত্রণ