বর্ষাকালে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি দেখা যায়। এ সময় আকাশে হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানির পাশাপাশি প্রচণ্ড শব্দের উৎপত্তি হয়। প্রতিবছর বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এই বজ্রপাত আসলে কী? বিজ্ঞানের ভাষায়, বজ্রপাত হলো বায়ুমণ্ডলে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক চার্জের আকস্মিক নির্গমন। মেঘের মধ্যে বা মেঘ ও ভূমির মধ্যে যখন বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি জমা হয়, তখন তা হঠাৎ করে বিদ্যুতের প্রবল স্রোতের আকারে প্রবাহিত হয়। এই ঘটনাটিই হলো বজ্রপাত। এককথায়, মেঘের মধ্যে কিংবা মেঘ ও ভূমির মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের পার্থক্য বেড়ে গেলেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। বজ্রপাতের সময় কয়েক কোটি ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতে পারে। এর তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বজ্রঝড়ের সময় আকাশে বিশাল আকৃতির কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হয়। এসব মেঘের ভেতরে বরফকণা, পানির ফোঁটা ও বায়ুকণার মধ্যে ক্রমাগত সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়। সাধারণত মেঘের ওপরের অংশে ধনাত্মক বা পজিটিভ চার্জ এবং নিচের অংশে ঋণাত্মক বা নেগেটিভ চার্জ জমা হয়। মেঘের নিচে থাকা ভূমিতে তখন বিপরীতধর্মী অর্থাৎ ধনাত্মক চার্জ সৃষ্টি হতে থাকে। যখন মেঘ ও ভূমির মধ্যে অথবা দুটি মেঘের মধ্যে চার্জের পার্থক্য খুব বেশি হয়ে যায়, তখন বায়ু আর নিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে না। ফলে বিদ্যুতের প্রবল স্রোত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। এই শক্তিশালী বৈদ্যুতিক নির্গমনই হলো বজ্রপাত। বজ্রপাতের মূল কারণ মেঘের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের ভারসাম্যহীনতা। আরেকটি বিষয় হলো, বজ্রপাতের আলো বা বিদ্যুতের ঝলকানি আগে দেখা যায়; বজ্রধ্বনি বা শব্দ এর পরে শোনা যায়। এর কারণ আলোর গতি শব্দের গতির তুলনায় অনেক বেশি। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে, যেখানে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে মাত্র প্রায় ৩৪৩ মিটার। তাই বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। কিন্তু এর শব্দ শুনতে খানিক সময় লাগে। বজ্রপাতে মানুষের পাশাপাশি গাছপালা, ঘরবাড়ি এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিরও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বজ্রপাত সরাসরি মানুষের শরীরে আঘাত করলে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। বজ্রপাতে অগ্নিকাণ্ডেরও আশঙ্কা থাকে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী, গাছের নিচে, পুকুর বা উঁচু স্থানে অবস্থান করা ঠিক নয়। এ ছাড়া ধাতব বস্তু স্পর্শ, মোবাইল ফোন কিংবা যেকোনো বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।
♦ সিলেবাসে নেই ডেস্ক