দেশ নির্বাচন
শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব নীতিমালা ও লক্ষ্যমাত্রা থাকে। তারা সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ভিসার সুযোগ দেয়। ভিসা দেওয়ার অনুপাত বা রেশিও সময়ে সময়ে কমবেশি হয়। কোনো কোনো সময় দেখা যায়, কিছু দেশ স্বাভাবিকের তুলনায় কিংবা সমপর্যায়ের অন্য দেশের তুলনায় বেশিসংখ্যক ভিসা দিচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনে আগ্রহী হয়ে পড়েন। ভিসা অনুপাত, খরচ, আর্থিক সুবিধা বা বৃত্তি, আবেদনপ্রক্রিয়ায় জটিলতা, শিক্ষার মান, কাজের সুযোগ, পড়াশোনা শেষে চাকরি—এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই মূলত শিক্ষার্থীরা দেশ নির্বাচন করেন।
যুক্তরাষ্ট্র
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উন্নত গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান নিশ্চিত করছে। যেমন—
♦ পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ
♦ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতিতে বড় চাকরির বাজার
♦ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও গবেষণার সুযোগ
♦ আধুনিক ক্যাম্পাস ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষার পরিবেশ
যুক্তরাজ্য
ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পছন্দের তালিকায় রাখেন যুক্তরাজ্যকে। কিছু কিছু প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অন্য দেশ চেয়ে তুলনামূলক কম সময় লাগে দেশটিতে। যেমন—
♦ তিন বছরে স্নাতক এবং এক বছরে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ
♦ অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ
অস্ট্রেলিয়া
উন্নত জীবনযাত্রা ও কাজের সুযোগের কারণে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের দেশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবোর্ন ও সিডনিকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের কারণ হলো—
♦ পড়াশোনা শেষে দীর্ঘমেয়াদি ওয়ার্ক ভিসা
♦ পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ
♦ বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সুবিধা
জার্মানি
কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকায় জার্মানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি খুব কম বা নেই বললেই চলে।
♦ স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষা
♦ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা
♦ পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা
কানাডা
নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ থাকছে কানাডায়।
♦ স্নাতক শেষে তিন বছর পর্যন্ত কাজের অনুমতি
♦ প্রকৌশল, ব্যবসা ও স্বাস্থ্য শিক্ষায় বিশ্বমানের সুযোগ
♦ বহুসাংস্কৃতিক সমাজ
ফ্রান্স
ফ্রান্স শুধু শিল্প-সংস্কৃতির জন্য নয়, উচ্চশিক্ষার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের কাছে প্যারিস, লিওঁ ও তুলুজ শহর বেশ জনপ্রিয়।
♦ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ
♦ ব্যবসা ও সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষায় শক্তিশালী অবস্থান
♦ সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা
স্পেন
কম খরচে জীবনযাপন ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতির কারণে স্পেনও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
♦ জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক কম
♦ ইংরেজি মাধ্যমে বিভিন্ন কোর্স
♦ ছাত্রবান্ধব শহর ও উন্নত সামাজিক জীবন
নেদারল্যান্ডস
ইউরোপের অন্যতম উদ্ভাবনী শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে নেদারল্যান্ডসে। আমস্টারডাম ও রটারডাম শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
♦ তুলনামূলক কম টিউশন ফি
♦ প্রযুক্তি ও ব্যবসায় উচ্চমানের শিক্ষা
♦ স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতে চাকরির সুযোগ
সিঙ্গাপুর
দেশটি ছোট হলেও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে এখন অনেক শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে সিঙ্গাপুর। তবে দেশটিতে জীবনযাত্রা বেশ ব্যয়বহুল।
♦ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ
♦ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা
জাপান
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আধুনিক পাঠদান ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জাপানের আলাদা কদর আছে। টোকিও, কিয়োটো ও ওসাকা শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ পছন্দের শহর।
♦ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলে উন্নত শিক্ষা
♦ গবেষণা ও উদ্ভাবনে অংশ নেওয়ার সুযোগ
♦ খণ্ডকালীন কাজ ও নিরাপদ জীবনযাত্রা
♦ সিলেবাসে নেই ডেস্ক