গোড়া থেকেই আইসক্রিম বাণিজ্যিক পণ্য। তাই আইসক্রিম গবেষণার বয়সও কম নয়। ফলাফল আইসক্রিম মানেই মজার মজার ফ্লেভার। ক্রিম অ্যান্ড ফাজের বয়স অল্প, তবে এর ফ্লেভার অনেক। ২০০৫ সালে ক্রিম অ্যান্ড ফাজ ব্যাংককে যাত্রা শুরু করে। পার্লারটির আছে দক্ষ সুইস কারিগর ও আইসক্রিম ল্যাব। তিন বছরের মাথায় এটি ছড়িয়ে পড়ে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও মালয়েশিয়ায়। ক্রিম অ্যান্ড ফাজ ক্রিমি স্বাদের ওপর বাদাম আর স্ট্রবেরি ছড়িয়ে দেয়। এর গায়ে থাকে চকোলেটের টেক্সার। গ্রাহক নিজের পছন্দমতো মিলমিশও করে নিতে পারে। ফাজের পার্লারগুলোতে আপনি দীর্ঘ মেন্যু পাবেন, যা দেখে এটার সঙ্গে ওটা মিশিয়ে নিজেই নতুন ফ্লেভার আবিষ্কার করতে পারবেন। চকোলেট, ফ্রেঞ্চ ভ্যানিলা, স্ট্রবেরিসহ ক্রিম অ্যান্ড ফাজের আছে ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন ফ্লেভার। এসব ফ্লেভারের সঙ্গে পছন্দসই উপকরণ যেমন-সুইস চকোলেট, কেক, চকোলেট চিপস বা কুকিজ মিলিয়ে বানানো যায় হাজারো আইসক্রিম। সেই সঙ্গে আছে ফাজের হেভেনলি মিল্ক শেক, কফি, স্যান্ডউইচ এবং আরো অনেক কিছু। ক্রিম অ্যান্ড ফাজের বিশেষত্ব তৈরি হয় বাদাম, ফল, চকোলেট আর বরফ কুচি দিয়ে। ফরাসি বংশোদ্ভূত লেবানিজ ব্যবসায়ী ফ্রেড মোয়াদ ক্রিম অ্যান্ড ফাজের মালিক। তিনি মোট সাতটি কম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার। ব্যাংককে তাঁর হেড অফিস। রোয়াল ডালের 'চার্লি অ্যান্ড দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি' ছবিটি ফ্রেডকে আইসক্রিম পার্লার তৈরির স্বপ্ন দেখায়। তিনি খুঁজতে থাকেন দক্ষ কারিগর, যাঁরা আইসক্রিম ভালোবাসেন, আইসক্রিম নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। ফ্রেড এ-ও চেয়েছিলেন ক্রিম অ্যান্ড ফাজের গ্রাহকরাও চার্লি অ্যান্ড দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরির উনলির মতো সৃজনশীল হবে। ক্রিম অ্যান্ড ফাজ নামটিও ফ্রেডেরই দেওয়া। ক্রিম তো সবাই জানে আর ফাজ মানে মিঠাই। ফ্রেড ফাজ বলতে দেখেছিলেন চকোলেট কুচির নহর, যাতে গ্রাহক ইচ্ছামতো অবগাহন করবে। বানাবে নতুন নতুন রেসিপি। ফ্রেডের স্লোগান, সবার জন্য আইসক্রিম। তাই কম থেকে বেশি সব দামের আইসক্রিম পাবেন এই পার্লারে। ঢাকায় ক্রিম অ্যান্ড ফাজের চারটি পার্লার আছে-ধানমণ্ডি-১২, বনানী-১১, যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে। ক্রিম অ্যান্ড ফাজের আছে ওয়াফল বোল, কোন, প্রিমিয়াম মিশ্রণ, ম্যাঙ্গো প্রলিন ও মোকা ফাজ টেম্পটেশন, পিনাট বাটার এবং ওরিও পিনাট বাটার আইসক্রিমের ইনোভেটিভ সব রেসিপি।