মানবতাবাদী বিজ্ঞানী নিকোলা তেসলাকে 'দ্য ম্যান হু ইনভেন্টেড দ্য টোয়েনটিয়েথ সেঞ্চুরি' বলে অভিহিত করা হয়। অসংখ্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পাশাপাশি মানবতার জন্য তেসলা ছিলেন নিবেদিত। তাঁর ভাষায়- মানবতার কল্যাণার্থে কাজ না করলে বিজ্ঞান কেবলই বিকৃতি। তেসলা এসি বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে বিদ্যুতের বহুমুখী ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করেন। তাঁর আবিষ্কারের মধ্যে আরো রয়েছে ব্লেডবিহীন টার্বাইন, ফ্লুরোসেন্ট বাতি, লেজার, আড়াআড়ি চলনসই বিমান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র প্রভৃতি। রোবটিকস, রেডিও, মিসাইল ও নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান গবেষণা ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর পেটেন্টের সংখ্যা ছিল ৭০০-রও বেশি। নিকোলা তেসলার জন্ম ১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই, বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার স্লিমিযান শহরে। বাবা মিলুতিন তেসলা। স্কুলজীবনেই অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তেসলা। অনেক কঠিন অঙ্ক মুখে মুখে করে ফেলতেন। চার বছরের গ্র্যাজুয়েশন তিন বছরেই শেষ করেছিলেন তিনি। ১৮৮২ সাল থেকে নিকোলা তেসলা এডিসন কম্পানির হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। ১৮৮৬ সালে নিজেই একটি কম্পানি করেন। চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক শক্তিকে আয়ত্তে আনার অভাবনীয় কৌশলের তিনি আবিষ্কারক। বিজ্ঞানীরা তাঁর লেখা থেকে পরবর্তী সময়ে ধারণা করেন তেসলা 'মুক্ত জ্বালানি যন্ত্র' ধরনের একটি বিশেষ কিছু তৈরি করেছিলেন। অনেকে অবশ্য এই আবিষ্কারকেই তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন। ১৮৯১ সালে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব পান, এর পরই নিজের ল্যাবরেটরি নিউ ইয়র্কে নিয়ে যান। ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুর খবর জানা যায়।