শুরুটা বিধ্বস্ত হয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। তার পরও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজদের ওপর আস্থা হারাননি মুত্তিয়া মুরালিধরন। এক ম্যাচ হেরে পৃথিবীটা যে শেষ হয়ে যায়নি-স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন সেটাও। সেই শ্রীলঙ্কা এখন কোয়ার্টার ফাইনালের সরণিতে। আফগানিস্তান আর বাংলাদেশের পর আগামীকাল ইংল্যান্ডকে হারালে শেষ আট নিশ্চিত হয়ে যাবে প্রায়। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের উজাড় করে খেলার আহ্বান এই কিংবদন্তির। দুই দলের সর্বশেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ৪-২-এ জিতলেও বিশ্বকাপে এর প্রভাব না পড়ার কথাই জানিয়েছেন মুরালিধরন, ‘গত বছর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মতুষ্টির ফাঁদে শ্রীলঙ্কা পা দেবে না বলেই আশা করছি। ৪-২ ব্যবধানে সিরিজ জেতাটা অবশ্যই সুখস্মৃতি, কিন্তু সেটা অতীত। একেবারে আলাদা কন্ডিশনে খেলতে হবে এবার। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো। তবে নিউজিল্যান্ডে বেশি সুইং হওয়ায় এখানে ভুগবে ওরা।’ নিজেদের মাঠে স্পিনে ইংলিশদের কাবু করেছিল লঙ্কানরা। তবে ওয়েলিংটনের সুইং সহায়ক কন্ডিশনে ম্যাচের ভাগ্য গড়বেন পেসাররা। এ কন্ডিশনেই ভয় মুরালির, ‘গত সিরিজে স্পিনে ধুঁকছিল ইংল্যান্ড। ওয়েলিংটনে ব্যাপারটা আলাদা। এখানে দায়িত্ব নিতে হবে পেসারদের। এ ম্যাচটা সে-ই জিতবে, যে দল ভালো বল করবে। প্রথম দুই ম্যাচে ভালো করেনি ইংলিশ পেসাররা। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ছন্দে ফিরেছে ওরা, সেই সঙ্গে পুরো দলও। আর দুটো ম্যাচ জিতলেও আমাদের পেসাররা কিন্তু ভুগছে।’ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটার আগে লাসিথ মালিঙ্গার ফর্মে ফেরাটা শ্রীলঙ্কার জন্য ইতিবাচক। কিউই ব্যাটসম্যানরা ছেলেখেলাতেই মেতেছিলেন তাঁকে নিয়ে। ৮৪ রান দিয়ে একটিও উইকেট পাননি মালিঙ্গা। তবে আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে ছন্দে ফিরেছেন এ পেসার। তাই মুরালির সন্তুষ্টি, ‘মালিঙ্গার ছন্দে ফিরতে আদর্শ ছিল আফগানিস্তান আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দুটো। দুই ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে নিজেকে ফিরে পেয়েছে ও। মেলবোর্নে পুরনো মালিঙ্গাকে দেখেছি যেন। ওর ছন্দে থাকাটা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে দলের।’ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তারকা খেলোয়াড়দের জ্বলে ওঠাটা জরুরি। অথচ প্রথম দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকরত্নে দিলশানের মতো খেলোয়াড়। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুজনই রানখরাটা কাটিয়েছেন সেঞ্চুরি করে। তাঁদের সঙ্গে ওয়েলিংটনে উপুল থারাঙ্গাকে খেলানোর পরামর্শ দিলেন টেস্ট ও ওয়ানডের সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া এই বোলার, ‘থিরিমানে, সাঙ্গাকারা, দিলশান রান পেয়েছে মেলবোর্নে। ইতিবাচক এটা। জীবন মেন্ডিসের মতো অলরাউন্ডারের চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়াটা অবশ্যই হতাশার। বিশ্বকাপে এটা আশা করে না কেউ। তবে ওর জায়গায় যখন থারাঙ্গাকে আনাই হয়েছে, তখন একাদশে রাখা উচিত এই ওপেনারকে। থারাঙ্গা থাকলে ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়বে অনেক।’ আইসিসি মিডিয়া