• ই-পেপার

কুকুর নিয়ে সরকারি অফিসে চড়াও মন্ত্রীর স্বামী

কেন ঐতিহ্যবাহী রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া

অনলাইন ডেস্ক
কেন ঐতিহ্যবাহী রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্লোভাকিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করেন। মোদি এসব রীতির সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং একে অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে প্রশংসা করেন। তবে পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি।

WDFW

প্রাচীন ঐতিহ্য

কালের কণ্ঠ জেনেছে, স্লাভিক সংস্কৃতিতে অতিথিকে রুটি ও লবণ দেওয়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সম্মানিত অতিথি এবং নবদম্পতিকে স্বাগত জানাতে এই খাবার পরিবেশন করা হয়। 

এই রীতি আতিথেয়তা, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। পাশাপাশি এটি আয়োজক ও অতিথির মধ্যে বিশ্বাস ও ভালো সম্পর্কের বন্ধন বোঝায়।

এই রীতিতে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় আয়োজকের পক্ষ থেকে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা তরুণীরা একটি বড় গোল রুটি পরিবেশন করেন। রুটিটি রাখা থাকে ‘রুশনিক’ নামে ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মের নকশা করা একটি কাপড়ের ওপর। মূলত সুতি বা লিনেনের কাপড়ের ওপর এই নকশা করা হয়।

রুটির পাশে ছোট একটি পাত্রে লবণ রাখা হয়। আবার কখনো রুটির ওপরেই লবণের ছোট বাটিটি বসানো থাকে। অতিথি রুটি থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে খান। এটি আয়োজকের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

বিয়ের পরও নবদম্পতিকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বর-কনে রুটি ছিঁড়ে লবণ দিয়ে একে অপরকে খাওয়ান। এটি তাদের ভালোবাসা ও নতুন সম্পর্কের প্রতীক। আবার নতুন বাড়িতে ওঠার সময় বা কোনো বিশেষ সম্মানিত অতিথিকে স্বাগত জানাতেও রুটি ও লবণ নিয়ে যাওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।

রুটির ও লবণের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

স্লাভিক ভাষায় ‘খ্লেবোসোলস্তভো’ (রুটি-লবণ) শব্দটি আজও ব্যবহৃত হয়। এটি অতিথিদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা, উদারতা ও সৌহার্দ্য প্রকাশ করতে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় শব্দ এটি। 

স্লাভিক সংস্কৃতিতে রুটিকে পবিত্র খাবার ও জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রুটি পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং কখনো খাবারের অভাব না হওয়ার শুভকামনার প্রতীক।

অন্যদিকে, অতীতে লবণ ছিল খুবই মূল্যবান ও দামি একটি পণ্য। তাই লবণ বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, লবণ অশুভ শক্তি, কুদৃষ্টি ও অকল্যাণ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

এদিকে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ব্রাতিস্লাভায় আমাকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। এটি স্লোভাকিয়ার সংস্কৃতি এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের সুন্দর পরিচয়।’

 

এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে মোদি স্লোভাকিয়ার মিয়াভা অঞ্চলের লোকনৃত্য দল ‘কোপানিচিয়ারিক’-এর পরিবেশনার কিছু অংশ শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লোকজ ঐতিহ্য একটি দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।’

 

তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়া সফরে এসে সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ। তার মতে, এ ধরনের আন্তরিকতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে এবং ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সফরে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছান। রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। ১৯৯৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর।

সফরকালে মোদি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অটোমোবাইল শিল্প, রেলওয়ে উন্নয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে এবং সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেবে।

হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চেয়ে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চেয়ে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার অবসান ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বিশেষ বার্তা দেন। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এক্স-এর পোস্টে মোদি লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভারত আশা করে, এই চুক্তি শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনবে। সমুদ্রপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা আসবে। আশা করি যাবতীয় সমস্যা মেটানো হবে আগামী দিনে।’

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের জেরে অন্যান্য দেশের মতো নানাভাবে বিপাকে পড়েছে ভারত। হরমুজে ভারতমুখী জাহাজ চলাচলে সাময়িক অনুমতি মিললেও দেশটিতে দেখা দিয়েছিল জ্বালানি সংকট। সেকারণেই নির্বাচনের পর দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম।

সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতও যথেষ্ট ভুগেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কবে খুলছে হরমুজ প্রণালি?

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কবে খুলছে হরমুজ প্রণালি?
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন এক সমঝোতার ফলে দুই দেশের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানের পথও এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে।

এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সমঝোতা স্মারক সামনে এসেছে। এ সময় বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ ও পক্ষ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালায়। এর আগে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা গেছে।

ধীরে ধীরে খুলবে হরমুজ প্রণালি

চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে আবার চালু করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেন, শুক্রবার চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করা হবে। এরপর আবারও এই পথ দিয়ে উভয় দিক থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবে।

চুক্তির আওতায় ইরান প্রণালি থেকে সব মাইন সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতির অতিরিক্ত ৬০ দিনের সময়সীমায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করবে না বলেও জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্প আরো বলেন, গত এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হবে। চুক্তিতে উভয় পক্ষের সামরিক হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ হবে। একইভাবে ইরানের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাও বন্ধ থাকবে। ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজ আটকানোর কার্যক্রমও স্থগিত করা হবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ মালিক ও শিপিং কোম্পানিগুলোকে আবার এই পথে নিয়মিত চলাচলে আস্থা ফিরে পেতে সময় লাগবে। পাশাপাশি জাহাজের বিমা খরচ কমতেও সময় লাগতে পারে।।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন প্রতিশ্রুতি

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান আবারও ঘোষণা দেবে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন অস্ত্র সংগ্রহ করবে না। চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৯ হাজার কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা চালাবে। এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। সূত্রটি আরো জানায়, অন্তত এতটুকু নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের ভেতরেই সম্পন্ন হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। জানা গেছে, ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়ামের বেশির ভাগই নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার খুব কাছাকাছি।

অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে ইরান

চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির বর্ধিত ৬০ দিনের সময়ে ইরানকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া একবারে হবে না। ধাপে ধাপে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয় কি না, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়াকে 'কাজের ভিত্তিতে অগ্রগতি' ধরনের ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পুরো পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ধীরে ধীরে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর লক্ষ্য

চুক্তিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নয়, পুরো অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘর্ষও রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই উদ্যোগকে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান- সব পক্ষই সমর্থন করবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, চুক্তিটি কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষই আত্মরক্ষার অধিকার ছেড়ে দেবে না। যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তাহলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া দেখাবে না- এমন আশা করার কোনো কারণ নেই।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। যদিও এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলার ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

   
 

মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ১,৭০০ বছর পুরোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক
মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ১,৭০০ বছর পুরোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের সন্ধান
সংগৃহীত ছবি

একটি সম্ভাব্য সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল- জানিয়েছে নাসা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বিস্ফোরণ অন্তত ১৭০০ বছর আগে ঘটেছিল। অবশিষ্টাংশটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি এলাকায় রয়েছে।

এই আবিষ্কার সম্প্রতি নিয়ে 'দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল'-এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি করা হয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার পরিচালিত 'চন্দ্র এক্স-রে অবজার্ভেটরি' এবং 'ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি'-এর 'এক্সএমএম' অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে এমন অনেক ভারী মৌল তৈরি হয়, যা গ্রহ গঠন এবং জীবনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। বিস্ফোরণের পর এসব মৌল মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির উপাদান হিসেবে কাজ করে।

গবেষণায় পাওয়া সম্ভাব্য সুপারনোভা অবশিষ্টাংশটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি মিল্কিওয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কাছে থাকা একটি উজ্জ্বল বেতার তরঙ্গ উৎস 'স্যাজিটেরিয়াস সি'-এর ভেতরে পাওয়া গেছে। এলাকাটি একটি বিশাল ও তরুণ নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা আয়নিত গ্যাসের বুদবুদের মধ্যে অবস্থিত। তথ্য বিশ্লেষণের সময় গবেষকেরা দ্রুত সম্প্রসারণশীল একটি গ্যাসের মেঘ দেখতে পান। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের ছবিতে এই মেঘকে লাল রঙে দেখানো হয়েছে। এর কেন্দ্রে একটি উজ্জ্বল এক্স-রে বিকিরণের অংশও দেখা যায়, যা ছবিতে নীল রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই এক্স-রে বিকিরণই একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফল। সাধারণত কোনো বিশাল নক্ষত্র জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হলে সুপারনোভা সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অবশিষ্টাংশের উপাদানগুলো ঘণ্টায় প্রায় ২০ লাখ মাইল বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

এছাড়া মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে অতীতে একটি বড় নক্ষত্র বিস্ফোরণের আরো কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে। নাসার সাবেক 'সোফিয়া' অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা 'স্যাজিটেরিয়াস সি' অঞ্চলের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা গ্যাসের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। যদিও এই পর্যবেক্ষণ প্রকল্প এখন আর চালু নেই। গবেষকদের ধারণা সঠিক প্রমাণিত হলে এটি হবে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর 'স্যাজিটেরিয়াস এ'-এর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করা সুপারনোভা অবশিষ্টাংশগুলোর একটি। এই অঞ্চলটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিশাল আকারের নক্ষত্র রয়েছে, শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে এবং ঘন গ্যাসের মেঘ ছায়াপথের কেন্দ্রকে ঘিরে ঘুরছে। 

গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা বিকল্প ব্যাখ্যাও পরীক্ষা করেন। কারণ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চল নতুন নক্ষত্র তৈরির জন্য পরিচিত। তাই সেখানে থাকা বড় ও উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোর কারণেও এক্স-রে বিকিরণ তৈরি হতে পারে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, শনাক্ত হওয়া এক্স-রে বিকিরণের তীব্রতা সাধারণ নক্ষত্রগুচ্ছের বিকিরণের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। ফলে গবেষকেরা এই সম্ভাবনাকে নাকচ করেন এবং সুপারনোভা ব্যাখ্যাকেই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। বিজ্ঞানীরা জানান, মহাবিশ্বের অধিকাংশ নক্ষত্র হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। নক্ষত্রের ভেতরে চলা পারমাণবিক সংযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন, সিলিকন ও লোহার মতো ভারী মৌল তৈরি হয়। যখন কোনো বিশাল নক্ষত্র সুপারনোভা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়, তখন এসব মৌল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেগুলো নতুন নক্ষত্র ও পাথুরে গ্রহ গঠনের উপাদানে পরিণত হয়।

গবেষকদের মতে, এই সুপারনোভার অবশিষ্টাংশ মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে তুলনামূলকভাবে নতুন। তবে এক্স-রে তথ্যের মধ্যে ভারী মৌলগুলোর স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সম্ভবত সেগুলো ইতোমধ্যে আশপাশের গ্যাসের সঙ্গে মিশে গেছে।


 

কুকুর নিয়ে সরকারি অফিসে চড়াও মন্ত্রীর স্বামী | কালের কণ্ঠ