• ই-পেপার

সিলেটের চা বাগানে শিশুসহ ভারতীয় নারী আটক

সদরপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা, সরঞ্জাম জব্দ

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সদরপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা, সরঞ্জাম জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুরে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

সোমবার (১৫ জুন) বিকালের দিকে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অকোটেরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়াসহ পরিবেশ ও স্থানীয় কৃষিজমির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসময় অবৈধ বালু উত্তোলনের সরঞ্জামও জব্দ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নদী ও খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিকটক নিয়ে কলহ, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

নড়াইল সংবাদদাতা
টিকটক নিয়ে কলহ, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
সংগৃহীত ছবি

নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন রাতে তাকে আটক করা হয়।

নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

পুলিশ ও স্থানীয়  সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন।

পুলিশের জানায়, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ‘আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলল চার যুবক

অনলাইন ডেস্ক
ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলল চার যুবক

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কংস নদ থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে কিছু দূরে কংস নদে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করে।

প্রাথমিকভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন– মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)। তাদের বাড়ি ধোবাউড়া উপজেলায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে কৌশলে নদীর পাড়ের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানোর পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত আরো একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

হবিগঞ্জের বাহুবলে দুই গ্রামবাসীর বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ও সন্ধ্যায় দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন— আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া (৫৩) ও হেলাল মিয়া (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি কথিত কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে আদিত্যপুরের মোসাহিদ মেম্বার ও আরিচাপুরের নাসির, আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার দুপুর ১টার দিকে দুই গ্রামের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে দুই পক্ষ ফের সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে সেলু মিয়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), হেলাল মিয়া (৩৭), সিমন (১৮) ও হান্নানসহ (৫০) অন্তত ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত হেলাল মিয়া সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। 

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরের সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের থানায় আসার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সিলেটের চা বাগানে শিশুসহ ভারতীয় নারী আটক | কালের কণ্ঠ