চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা থেকে এক কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার, ৫০টি ইয়াবাসহ দুজন গ্রেপ্তার বা ৪০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন গ্রেপ্তার _এ ধরনের ইমেইল বার্তা প্রায়ই পাঠানো হয় সংবাদ মাধ্যমে। ইমেইল পাঠানোর পর কখনো কখনো গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফোনও করেন, তাঁদের 'বিশাল' অভিযানের খবরটি পত্রিকায় ছাপাতে। কিন্তু যখনই নিজ বাহিনীর কারো বিরুদ্ধে ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ ওঠে, যখন পুলিশ সদস্য আটক কিংবা গ্রেপ্তার হন_ তখন সেটা গণমাধ্যমে জানাতে চান না পুলিশ কর্মকর্তারা। এমন কি তাঁরা ফোনও ধরেন না। পুলিশের এমন 'দুই রূপ' লক্ষ্য করা গেছে গত শুক্রবার ও শনিবার পরিচালিত দুটি অভিযানেও। নগর গোয়েন্দা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা কেউ এই বিষয়ে সঠিক বক্তব্য দিতে চাননি এবং ফোনও ধরেননি। পরে নগর পুলিশের কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডলের কাছ থেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। তবে ৩ জানুয়ারি ছিনতাই ও ডাকাতি মামলায় পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারের খবরটি গোয়েন্দা শাখা থেকে গণমাধ্যমে জানানো না হলেও পরদিন গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। যাতে ৪০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মোহাম্মদ হাসান নামে একজনকে গ্রেপ্তারের খবর রয়েছে। সঙ্গে হাসানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন গোয়েন্দা পুলিশের ছবি আছে। গত শনিবার তিনটি মোটরসাইকেল, একটি অটোরিকশা এবং একট পিকআপসহ পাঁচটি গাড়ি উদ্ধার ও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে হালিশহর থানা পুলিশ। এদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম জনি রয়েছেন। গাড়ি ছিনতাই মামলায় পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তারের খবরটি হালিশহর থানা পুলিশসহ নগর পুলিশের (পশ্চিম) জোনের কেউ স্বীকার করেননি শনিবার। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীদের ফোনও তাঁরা রিসিভ করেননি। ওইদিন খবর জানতে হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান কবিরকে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন রিসিভ করেন অন্য একজন। নিজকে তিনি অফিসার ইনচার্জের বডিগার্ড পরিচয় দিয়ে বলেন, 'স্যার এই মুহূর্তে ব্যস্ত।' একই দিন কোতোয়োলী থানার নতুন রেলস্টেশন এলাকা থেকে সোনার বার লুটের ঘটনায় আটক হন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবুল হোসেন। সোনার বার লুটের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আটকের খবরে নগরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। শনিবার পুলিশ সদস্য আটক, সোনার বার জব্দের প্রকৃত ঘটনা বিষয়ে জানতে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান এবং অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাছান চৌধুরীকে দফায় দফায় ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁরা সাড়া দেননি। পুলিশ বাহিনীর দুই সদস্য আটকের বিষয়টি ওইদিন নিশ্চিত করেন সিএমপির কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল। দুই সদস্যকে আটকের বিষয়ে জানতে চেয়ে অন্য কর্মকর্তাদের সাড়া না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'হয়তো তাঁরা নিশ্চুপ আছেন।' তিনি বলেন, 'পুলিশ সদস্যদের ভেতরে বাইরে একই ধরনের হতে হবে। অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।' নিজেদের বাহিনীর কতিপয় সদস্যের 'কুকর্মের' বিষয় জানাতে গোয়েন্দা পুলিশের নীরবতার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সোমবার বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাছান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা চুপ ছিলাম, এটা সত্য নয়।' গাড়িসহ পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তারের পরও চুপ থাকার বিষয়ে হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান কবির বলেন, 'আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনে কাজ করি।'