kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর আছে

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর আছে

১২৩. আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই। তাঁরই কাছে সব কিছু প্রত্যাবর্তিত হবে।

সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত করো এবং তাঁর ওপর নির্ভর করো। তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১২৩)

তাফসির : এটি সুরা হুদের সর্বশেষ আয়াত। আগের আয়াতে অবিশ্বাসীদের সাময়িক অবকাশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে মানবজাতিকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, সবার ভালো করে জানা থাকা উচিত যে বিশ্বজগতের সব কিছুই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। সব কিছু সম্পর্কে তিনি অবহিত। দৃশ্য-অদৃশ্য ও প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবই তাঁর জানা। কাজেই মানুষের উচিত একমাত্র তাঁরই উপাসনা করা। দুঃসময়ে তাঁর ওপরই নির্ভর করা।

ইলমে গায়েব বা অদৃশ্য জ্ঞান কী

ইলম শব্দের অর্থ জ্ঞান। আর যে বস্তু মানুষের জ্ঞান ও দৃষ্টির অন্তরালে, তাকেই সাধারণ মানুষ ‘গায়েব’ বলে অভিহিত করে।

কিন্তু ইসলামের পরিভাষায়, যেসব বিষয় এখন পর্যন্ত অস্তিত্ব লাভ করেনি কিংবা অস্তিত্ব লাভ করলেও কোনো সৃষ্ট জীবকে আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত হতে দেননি, তাকেই ইলমে গায়েব বলা হয়। (তাফসিরে মাজহারি)

‘অদৃশ্যের জ্ঞানভাণ্ডার আল্লাহর’—এ বিষয়ে আপত্তির নিষ্পত্তি

আয়াতে বলা হয়েছে, গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহর আছে। অদৃশ্যের জ্ঞান বলতে আভিধানিক অর্থ অনুসারে কেবল দৃষ্টির অন্তরালের বস্তু বোঝানো হয়। তাই এ নিয়ে নানা মত দেখা দেয়। উদাহরণত জ্যোতির্বিদ্যা, গণনাবিদ্যা, অলি-আউলিয়ার ‘কাশফ’ ও ‘ইলহাম’ দ্বারা কেউ কেউ ভবিষ্যৎ ঘটনাবলি জেনে ফেলে। অথচ কোরআনে ‘ইলমে গায়েব’কে কেবলই আল্লাহর বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। এ প্রশ্নের জবাব হলো, ‘কাশফ’ ও ‘ইলহাম’ দ্বারা অর্জিত জ্ঞানকে কোরআনের পরিভাষায় ‘ইলমে গায়েব’ বলা হয় না। যেমনটা তাফসিরে মাজহারির বরাত দিয়ে আমরা উল্লেখ করেছি। একইভাবে উপকরণ, আলামত ও যন্ত্রাদির মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন করা হয়, সেগুলোও ‘ইলমে গায়েব’ নয়। এগুলো তো প্রত্যক্ষ বিষয়ে পরিণত হয়ে যায়। ‘গায়েব’ তো সেটাই, যা দৃশ্যমান হয় না। দ্বিতীয়ত, চিহ্ন, লক্ষণাদি ও যন্ত্রাদির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান অনুমাননির্ভর, অনেক সময় তা মিথ্যা ও ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। আর আল্লাহর জ্ঞান একেবারেই অভ্রান্ত। তাঁর জ্ঞানের জন্য কোনো উপকরণের প্রয়োজন হয় না। তৃতীয়ত, অন্যান্য উপায়ে যেসব অদৃশ্য জ্ঞান অর্জিত হয়, তা বস্তুত হাকিকত অনুসারে চূড়ান্ত ও পূর্ণরূপে অর্জন করা যায় না। উদাহরণত গর্ভস্থ ভ্রূণ সম্পর্কে আধুনিক যন্ত্রাদি দিয়ে কেবল পুত্র না কন্যা—এ সম্পর্কে অনুমান করা যায় (যদিও তা নির্ভুল নয়)। শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। কিন্তু আল্লাহ কোনো শিশুর ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য, জীবন-মৃত্যু ও যাবতীয় ভবিষ্যৎ বিষয় সম্পর্কে অবগত।

স্মরণ রাখতে হবে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে কখনো কখনো তাঁর প্রিয় বান্দা—নবী-রাসুল ও ওলি-আউলিয়ার কাছে কিছু কিছু অদৃশ্য বিষয় প্রকাশ করেন। পরিভাষায় সেসবকে ‘মৌলিক ও সত্তাগত ইলমে গায়েব’ বলা হয় না। এগুলো ‘ইলমে ই’তায়ি’ বা আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান। কোনো নবীকেই ‘ইলমে গায়েব’ দেওয়া হয়নি। মহানবী (সা.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘বলো, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা না হয়, ততক্ষণ আমি নিজেরও কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখি না। আমি যদি গায়েবের (অদৃশ্যের) খবর জানতাম, তবে বহু কল্যাণ অর্জন করতে পারতাম। কোনো রকম ক্ষতিই আমাকে স্পর্শ করতে পারত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮৮)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য