kalerkantho


বাংলাফোনের গবেষণা

এবার দেশেই তৈরি হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাউটার

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৮ মার্চ, ২০১৭ ১১:১১



এবার দেশেই তৈরি হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাউটার

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছে ডিভাইসটি পুরনো কিছু। নতুন খবর হলো- এবার দেশেই তৈরি হচ্ছে ডিভাইসটির সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার। 'ক্যারিয়ার গ্রেড রাউটার' নামে যে ডিভাইসটি তৈরি হচ্ছে, সেটি দিয়ে একইসঙ্গে ইন্টারনেটের সুতোয় বেঁধে ফেলা যাবে অন্তত ১২০ কিলোমিটার এলাকাকে। আর, একেকটি রাউটার থেকে ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারবেন অন্তত ৩৫ হাজার ব্যবহারকারী।

ডিভাইসটি নির্মাণ করছে বাংলাফোন লিমিটেড এবং কমলিংক ইনফো টেক লিমিটেড। দেশের কল্যাণে ব্যবহার্য ডিভাইস কিংবা সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত। এবার বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারোপযোগী রাউটার নির্মাণ করে যেন নতুন করে আরেকবার নিজেকে চিনিয়ে দেওয়া।

মনে করা হচ্ছে, ডিভাইস নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এটি দেশের জন্য একইসঙ্গে গৌরব ও মর্যাদার। ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। নতুন এ ডিভাইস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বাজারে আসবে 'ক্যারিয়ার গ্রেড রাউটার'।

বুয়েটের দক্ষ প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে ১২ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ প্রযুক্তি নির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা জানান, বাংলাফোন ও কমলিংক দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারের ওপর গবেষণা চালিয়ে আসছে। ৬০ জনের বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী এ  প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজে নিযুক্ত। এঁরা সবাই বিদেশ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে দেশে ফেরেন। যোগ দেন বাংলাফোন লিমিটেড এবং কমলিংক ইনফো টেক লিমিটেডে।

দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলী আহমেদ খুরশিদ ও ফাহিম আহমেদের নেতৃত্বে নতুন এ রাউটার তৈরি করা হচ্ছে। ফাহিম আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, ১২০ কিলোমিটারজুড়ে এ রাউটার নিজস্ব নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পারবে। এ ধরনের একেকটি রাউটারের ধারণক্ষমতা অন্তত ৫০ গিগাবাইট। এখান থেকে অন্তত ৩৫ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বাংলাফোন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, "আমাদের নেটওয়ার্ক ক্যাবলগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে কোনও  রকমের দুর্যোগেও যেন ব্যবহারকারীদের অসুবিধায় পড়তে না হয়। "

নিজের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলীদের দক্ষতার প্রশংসা করে আমজাদ খান আরও বলেন, "তাঁরা (প্রকৌশলী) বিদেশে পিএইচডি অর্জন করেছেন। সেখান থেকে এ সংক্রান্ত বহু অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অনেক ভালো বেতনে চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু দেশকে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব করার মানসিকতায় তাঁরা আবার দেশেই ফেরেন। ফিরে এসে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। "

শুধু প্রকৌশলীরা নয়, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ খানের ইতিহাসও এমনই। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর আইটি প্রতিষ্ঠান ছিলেন। সেখান থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ফিরে আসেন দেশে। বর্তমান সরকার যখন দেশকে নিয়ে ডিজিটালাইজেশনের স্বপ্ন দেখান মানুষকে, তখন আমজাদ খানের মনে দোল খায় নিজের অজুত রকম ভাবনাগুলো। কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে বিস্তৃত করে দেশকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নেবেন- সেই ভাবনাগুলো ঘুরপাক খায় তাঁর মাথায়।

দেশে ফিরেই শুরু করেন। হাঁটি হাঁটি পা পা করে তাঁর প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যায় আস্থার জায়গায়। তিনি একে একে তৈরি করতে থাকেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহারোপযোগী নানারকম সফটওয়্যার ও অ্যাপস। এখন পর্যন্ত তাঁর প্রতিষ্ঠানে নির্মাণকৃত আলোচিত প্রযুক্তি হলো 'বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ'। সিম বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের কথা কে না জানে। গতবছর দেশজুড়ে এটিই ছিল  আলোচনা-সমালোচনার তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সবরকম বিতর্ক মাড়িয়ে বায়োমেট্রিকে সফলও হয়ে যায় সরকার। দেশজুড়ে সিম বায়োমেট্রিকের অ্যাপসসমৃদ্ধ ডিভাইসগুলো সরবরাহ করে বাংলাফোন লিমিটেড ও কমলিংক ইনফোটেক। এমনকি ডিভাইস ও অ্যাপটি তাদেরই তৈরি।

এ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং সলিউশন, অটোমেটিক চেক ক্লিয়ারিং সিস্টেম, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং কল সেন্টার সলিউশনসহ অনেকগুলো সফটওয়্যার নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটো। তবে সব আবিষ্কারের মধ্যে ক্যারিয়ার গ্রেড রাউটার তৈরিই এখন পর্যন্ত তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় গৌরবের বলে মনে করেন আমজাদ খান। তিনি জানান, এ ধরনের সিস্টেম ও ডিভাইস দেশে অনেকেই ব্যবহার করছেন। তবে সবই বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। কিন্তু সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার বাংলাদেশে তৈরি এটিই প্রথম। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে এটি।


মন্তব্য