• ই-পেপার

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

চুলের স্টাইলের বিরুদ্ধে ওসির 'জিহাদ'!

চট্টগ্রামে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও আটটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. আফতাব উদ্দিনকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন বনানী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তার আফতাব উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার বিবিরহাট এলাকার মৃত নাজিম উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো জেলার ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া, নগরের কোতোয়ালি ও সদরঘাট থানায় দায়ের হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানতে পারে যে, চেক প্রতারণাসহ (এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা) বিভিন্ন অপরাধের আটটি পৃথক মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আফতাব বায়েজিদের বনানী আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছেন। এসব মামলার মধ্যে পাঁচটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৩ বছরের সাজা ও জরিমানা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হালদা নদীতে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ জাল ও বড়শি জব্দ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হালদা নদীতে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ জাল ও বড়শি জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে অভিযান চালিয়ে ছয় হাজার পাঁচ শ মিটার দৈর্ঘ্যের সাতটি অবৈধ জাল ও দুটি বড়শি জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য অফিস অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার ঘোষিত মৎস্য হেরিটেজ, কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, মা মাছের প্রজনন পরিবেশ সুরক্ষা এবং হালদা নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

হাটহাজারী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলীর নেতৃত্বে চালানো এ অভিযানে অত্র দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী লিংকন চৌধুরী ও হালদা প্রকল্পের পাহারাদার শহীদুল্লাহ, সেকান্দার, তানভীর, আদিল এবং আইডিএফের পাহারাদার ঝন্টু বড়ুয়া সহযোগিতা করেন। অভিযানে হালদা নদীর খলিফারগোনা অংশ থেকে ছিপাতলী পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ছয়টি অবৈধ চরঘেরা ও একটি ভাসা জাল এবং দুইটা বড়শি জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক দৈর্ঘ্য ছয় হাজার পাঁচ শ মিটার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, হালদা নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বরিশালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছরের বেশি। তাকে গত কয়েকদিন ধরে মহাসড়কের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় হয়তো ওই নারী আহত হয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের সিআইডি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। 

এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’

অনলাইন ডেস্ক
শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে একই মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষককের নাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিস বৈঠকের চেষ্টা করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

আটক মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই মাদরাসার শিক্ষক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদরাসাটির বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন পাঁচ শিশু মাদরাসায় শুয়ে ছিল। সকাল ১১টার দিকে মাদরাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক মক্তব শিশুকে বলাৎকার করে। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন ঘটনা কাউকে বলেনি। এরপর বিষয়টা জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধর করেন হুজুর। মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে বলাৎকারের ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদরাসায় সালিশ বসায় কমিটি। সালিশে মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতা অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদরাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিন তালোয়া মাদরাসায় দেখা যায়, প্রবেশপথ ও মাদরাসা চত্বরে উৎসুক জনতার ভিড়। একটি কক্ষে চলছে বৈঠক। এ সময় প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে সালিশে বসা মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও অন্যরা কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে বারান্দায় বসে আলোচনা শুরু করেন। সেখানে উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত হুজুরকে আটক করে।

পুলিশ আসার আগে ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় হুজুর এসে আমার সঙ্গে জিনা (বলাৎকার) করেছে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে, মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সালিস বৈঠক বসান। বৈঠকে মাদরাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল করিমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক বৈঠকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয় এবং পরদিন আরো বড় পরিসরে সালিসের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ফৌজদারি অপরাধে সালিস বসানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদরাসা সভাপতি দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার সুযোগ রয়েছে।

সালিসের খবর পেয়ে স্থানীয় উৎসুক জনতা মাদরাসায় ভিড় জমান। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। যদিও আটক শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এই ধরনের গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনগতভাবে সালিস বৈঠকের কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ পেয়েই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

চুলের স্টাইলের বিরুদ্ধে ওসির 'জিহাদ'! | কালের কণ্ঠ