১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৩ তারিখ। শহীদ মিনারের সামনে তৎকালীন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের ১০টি স্কেচ কে বা কারা ঝুলিয়ে রেখেছিল। সব ছবিতেই দানবরূপী ইয়াহিয়ার মুখাবয়ব আঁকা। ছবিগুলোর নিচে লেখা ‘এই জানোয়ারটা আবার আক্রমণ করতে পারে।’ লেখাটি পড়ার পর আর সন্দেহ থাকে না ছবিগুলো কে এঁকেছেন! পটুয়া কামরুল হাসান ছিলেন সে সময় বিদ্রোহী শিল্পীদের একজন; তাঁরই কাজ ছিল এটা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে আঁকা পোস্টারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল শিল্পী কামরুল হাসানের ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ শব্দগুচ্ছের পোস্টারটি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে তাঁকে দেশের জাতীয় প্রতীক ও বিভিন্ন মনোগ্রাম তৈরির দায়িত্ব দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী সময়ে কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগ দেন নকশাবিদ ও ভাষা আন্দোলন কর্মী মোহাম্মদ ইদ্রিসসহ আরো বেশ কয়েকজন। জাতীয় প্রতীকের জন্য মোহাম্মদ ইদ্রিস আঁকেন ভাসমান একটি শাপলা, শিল্পী শামসুল আলম শাপলার দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা সেঁটে দিয়ে প্রতীকটির পরিপূর্ণতা নিয়ে আসেন। কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি। জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অর্থনীতি বোঝানোর জন্য পানি, ধান ও পাট প্রতীককে ব্যবহার করা হয়েছে। সব শেষে পানিতে থাকা শাপলা আমাদের জাতীয়তাবোধ, অঙ্গীকার ও সুরুচির জানান দেয়। এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না। শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন। আল সানি