বিড়ালের করা ‘ম্যাও’-এর কোনো অর্থ কি আছে? সেই ‘ম্যাও’ অনুবাদ করার অ্যাপ তৈরি করেছেন অ্যামাজনের সাবেক এক অ্যালেক্সা ইঞ্জিনিয়ার। বিস্তারিত ইশতিয়াক খানের কাছে আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কাছে বিড়ালের ‘ম্যাও’-এর কোনো অর্থ না থাকলেও গবেষকরা বলেছেন, মানুষের দৃষ্টি কাড়তে এরা বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘ম্যাও’ ডাকে। তবে আপনার মোবাইলে ‘মিয়াওটক’ নামের অ্যাপটি থাকলে বুঝতে পারবেন আপনার পোষ্য বিড়ালটি আসলে আপনাকে কী বলতে চাইছে। অ্যাপটি শব্দকে ধারণ করে সেটির মানে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। বিড়ালের মালিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যারটি কাজ করে থাকে। এখন অ্যাপটির শব্দভাণ্ডারে শুধু ১৩ ধরনের বাক্য রয়েছে। সেসবের মধ্যে আছে—‘আমাকে খাওয়াও!, ‘আমি রেগে আছি’ এবং ‘আমাকে একা থাকতে দাও’। কোনো বিড়ালের মালিক তাঁর পোষ্যটির ডাকের অর্থ বোঝাতে নিজের মতো করে ডাটাবেইস তৈরি করতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার সেই ডাটাবেইস সংরক্ষণ করে রাখবে। গবেষণা থেকে জানা গেছে, বিড়ালের কোনো সুনির্দিষ্ট ভাষা নেই। প্রতিটি বিড়ালের ‘মিয়াও’ ভিন্ন এবং এই শব্দগুলো তারা করে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যই। এক বিড়ালের ভাষা আরেক বিড়াল সম্ভবত বোঝেই না। এ কারণে কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রের পরিবর্তে এই অ্যাপটি প্রতিটি বিড়ালের জন্য আলাদা অনুবাদ প্রোফাইল তৈরি করে। ধারণকৃত শব্দকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কারণে এই অ্যাপের সফটওয়্যার প্রতিটি বিড়ালের কণ্ঠস্বরকে আলাদা করে বুঝতে পারে এবং ব্যবহারকারী একে যত বেশি ব্যবহার করবেন, এটির ভুলের পরিমাণ তত কমে আসবে। ‘এই অ্যাপটি বানানোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ধরনের বুদ্ধিদীপ্ত কলার বানানো, যা বিড়ালের গলায় পরানো থাকবে’, বলছিলেন হাভিয়ের সানচেজ, যিনি এই অ্যাপের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আকভেলনের কারিগরি বিভাগের উঁচু পদে আছেন। বিড়াল ‘ম্যাও’ করার সঙ্গে সঙ্গে কলারটি তা অনুবাদ করে মালিককে শোনাবে এবং পাশাপাশি একজন মানুষও বিড়ালের কথার উত্তর দিতে পারবেন অন্য পাশ থেকে। সানচেজ আরো বলেন, ‘এই প্রযুক্তিটি এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কেননা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণে মানুষ বাসায় আটকে আছেন এবং তাঁদের অনেকেরই সঙ্গী শুধু তাঁদের পোষা বিড়াল।’ অ্যাপটি অ্যানড্রয়েড ও আইওএস—দুই সংস্করণেই পাওয়া যাবে। অ্যাপটি নতুন হওয়ায় খুঁটিনাটি সমস্যা যে একেবারে নেই তা কিন্তু নয়। এই যেমন অ্যাপটির একজন ব্যবহারকারী বলেছেন, ‘প্রায় ৯০ শতাংশ সময় দেখেছি আমার বিড়াল বলছে—আমি তোমাকে ভালোবাসি। এটি খুবই আনন্দদায়ক যে আমার বিড়াল আমাকে এত ভালোবাসে। কিন্তু একবার দেখলাম সে রাগে ফোঁস ফোঁস করছে, কিন্তু অ্যাপটি তখন জানাল সে আমাকে তখনো ভালোবেসেই যাচ্ছে।’ তবে কোনো কোনো ব্যবহারকারী অ্যাপটির ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার ও সংরক্ষণের পন্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অ্যাপটির ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নীতিতে বলা হয়েছে, এটি এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং কোনো ব্যবহারকারী তথ্যগত নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলে তাঁর মোবাইল থেকে অ্যাপটি মুছে দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। জুলিয়েট জোন্স একজন মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ। তিনি মূলত বিড়াল নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ বিড়ালই বিভিন্ন রকম শব্দ করে তার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে। যেহেতু অ্যাপটি অনুবাদের জন্য বিড়াল মালিকের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভরশীল, এখানে ভুল হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এই ভুল তথ্যের কারণে বিড়াল ও তার মালিকের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির উদ্রেক হতে পারে। যেমন—বিড়াল গড়গড় শব্দ করা মানেই এই না যে তারা আনন্দিত কিংবা বিশ্রাম নিচ্ছে। একই শব্দ দিয়ে তারা আদরও চাইতে পারে, আবার নিজের কষ্টও প্রকাশ করতে পারে।’ আরেকজন বিড়াল বিশেষজ্ঞ এবং ‘লেটস টক অ্যাবাউট ক্যাটস’ বইয়ের লেখিকা আনিতা কেলসি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত কখনোই বিড়ালের ম্যাওকে মানুষের ভাষায় নির্ভুলভাবে অনুবাদ করতে পারব না। খুব বেশি হলে বিড়াল কী বলছে বা ভাবছে সেটার ব্যাপারে সামান্য একটু ধারণা পেতে পারি। তবে মজার এই অ্যাপটির সাহায্যে নিজের পোষা বিড়ালের সঙ্গে মজা করার মধ্যে তো কোনো অন্যায় নেই।’