kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

গেম

ভিনগ্রহবাসী হয়ে পৃথিবী দখল করুন

মোহাম্মদ তাহমিদ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিনগ্রহবাসী হয়ে পৃথিবী দখল করুন

হলিউডের সব ক্লাসিক সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় প্রায় সময়ই দেখানো হতো, উড়ন্ত সসারে করে ধূসর বর্ণের বড় মাথা আর ছোট দেহের অধিকারী ভিনগ্রহবাসী নেমেছে কোনো এক মফস্বল শহরে। তাদের উদ্দেশ্য, মানুষের ওপর গবেষণা করা, এরপর পুরো বিশ্বের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। সে সময় সায়েন্স ফিকশন সিনেমার জন্য তেমন বাজেটও পাওয়া যেত না, তার ওপর আনাড়ি কলাকুশলী দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হতো। একই ধরনের ঝাপসা প্লটের ওপর তৈরি এসব মূল্যহীন সিনেমা একসময় হাসির পাত্রে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন

ভিনগ্রহবাসীদের আক্রমণ নিয়ে বানানো সিনেমাগুলোকে ব্যঙ্গাত্মকভাবেই তুলে ধরা হয় অন্যান্য সিনেমা, নাটক ও কমেডি শোর মধ্যে।

ঠিক তেমনি ক্লাসিক ভিনগ্রহবাসীদের আক্রমণকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে তৈরি করা হয়েছে গেম সিরিজ ‘ডেস্ট্রয় অল হিউম্যান্স’, যার দ্বিতীয় গেমটির আধুনিক সংস্করণ কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে। গেমের হিরো ও মিশন থাকছে প্রায় একই। বলা যায়, প্রথম গেমের পরিধি আরো বাড়িয়ে, মূল কাহিনি একটু টেনে বড় করে ‘ডেস্ট্রয় অল হিউম্যান্স ২ : রিপ্রবড’ তৈরি করা হয়েছে।

সময়কাল গত শতাব্দীর ষাটের দশক। ভিনগ্রহবাসী ফিউরিয়ন জাতির একটি মাদারশিপের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধি ক্রিপ্টোস্পোরেডিয়াম ১৩৮ (সংক্ষেপে ক্রিপ্টো)কে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন বেশ চিন্তিত, তারা মিসাইলের সাহায্যে ফিউরিয়ন মাদারশিপটিকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। মাদারশিপে অবস্থান না করায় বেঁচে যায় ক্রিপ্টো আর তার বস পক্স নিজের সত্তাকে কম্পিউটারে ডাউনলোড করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়, যদিও তার দেহ মিসাইল হামলায় শেষ হয়ে যায়।

গেমের কাহিনি অত্যন্ত হাস্যকর রকম সহজ। পুরনো স্বল্প বাজেটের সাইফাই সিনেমাগুলোর মতোই। ক্রিপ্টোকে নিয়েই খেলবে গেমার, দায়িত্ব হবে কেজিবি, পুলিশ ও আর্মিকে হটিয়ে টিকে থাকা আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া মাদারশিপের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার। সঙ্গে আছে কেজিবির ব্রেনওয়াশ করার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এবং ফিউরিয়ন সাম্রাজ্য প্রসারের ব্যবস্থা করা।

পুরো গেমটিই ব্যঙ্গাত্মকভাবে তৈরি। গ্রাফিক যেমন একেবারে বাজে মানের, সিনেমার সেটের মতো করে সাজানো, প্রতিটি চরিত্রের কথোপকথনও চূড়ান্ত পর্যায়ের অনভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মতো করেই করা। ক্রিপ্টো চাইলেই সবার মনের কথা পড়ে ফেলতে পারে, সেগুলোও যেন একেকটি কৌতুক।

আছে নানা রকম হাস্যকর অস্ত্র। যেমন : গাড়ি ও মানুষকে বাউন্স করানোর বন্দুক বা লাভ-রে, যার মাধ্যমে সবাইকে নাচানো যেতে পারে। এসব ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে চারপাশের মানুষের দেহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমাজে মিশে যাওয়ার মাধ্যমে ক্রিপ্টো নিজের কাজ চালিয়ে যাবে। ভিনগ্রহবাসী হয়ে মানুষকে পরাস্ত করা খুব কম গেমেই দেখা যায়, যারা সব সময়ই ভিনগ্রহবাসীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে বিরক্ত, তাদের ভালো লাগবে গেমটি। তবে গেমটি যে ২০২২ নয়, ২০০৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, সেটি পরিষ্কার। ওপেন ওয়ার্ল্ড হলেও করার মতো কাজ তেমন একটা নেই, নন-প্লেয়ার চরিত্রগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য খুবই কম। আর বেশ কিছু কৌতুক আজ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়, সেটি গেমের শুরুতেই বড় ঘোষণার মাধ্যমে নির্মাতারাই বলে দিয়েছেন। সাইড মিশনগুলোও কিছুটা একঘেয়ে, তবে ২০০৬ সালের গেম হিসেবে ঠিকই আছে। পুরনো গেমারদের কাছে নস্টালজিক লাগবে গেমটি। নতুন গেমারদের অতটা ভালো না লাগাই স্বাভাবিক।

 

বয়স

১৮+

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত ডাইরেক্টএক্স ১১ ও শেডার মডেল ৫.১-সংবলিত ৪ গিগাবাইট মেমোরির জিপিউ, প্রসেসর আর র‌্যাম ১০ বছরের কম পুরনো হলেই চলবে। জায়গা লাগবে ৫০ জিবি।



সাতদিনের সেরা