kalerkantho

বুধবার । ৩০ নভেম্বর ২০২২ । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইন্টারনেটে ডিলিটই শেষ কথা নয়

বিভিন্ন প্ল্যাটফরম থেকে যখন ইচ্ছা নিজেদের পছন্দমতো পোস্ট, বার্তা ও ব্যক্তিগত ডাটা মুছে ফেলা যায়। কিন্তু টুইটারের সাবেক নিরাপত্তাপ্রধান পিটার জ্যাটকো জানিয়েছেন, আসলে ঘটনাটা অন্য রকম। বিস্তারিত সালাম মোহাম্মদের কাছে

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইন্টারনেটে ডিলিটই শেষ কথা নয়

বড়সড় প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করে থাকে, এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টও আছে। সম্প্রতি টুইটারের সাবেক নিরাপত্তাপ্রধান পিটার ‘মাজ’ জ্যাটকো বলেছেন, ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রতিটি টুইটের পাশে ডিলিট বাটন দেখে খুশি হলে চলবে না। ব্যবহারকারী ডিলিট বাটন চাপলেই সে তথ্য টুইটার মুছবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং সেটা শুধু ফিড ও প্রফাইল থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সার্ভারের নানা ডাটাবেইসে রয়ে যাবে ঠিকই। আর সে তথ্যগুলো কবে নাগাদ মোছা হবে তারও নেই কোনো নিশ্চয়তা, এমনকি কখনো সার্ভার বা ব্যাকআপ থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেটাও পরিষ্কার নয়। তিনি জানান, এর মূলে রয়েছে ডিলিট করা পোস্টের তথ্যগুলো কোন ডাটাবেইসে কিভাবে রাখা হয়েছে, সেটি জানা যায় না। ফলে সেগুলো ‘হারানো’ তথ্য হিসেবে সার্ভারে ভেসে বেড়ায়।

পিটার জ্যাটকো যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্যদের দেওয়া এক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন। অবশ্য টুইটার কর্তৃপক্ষ তাঁর সব বক্তব্যকেই মিথ্যা, বানোয়াট এবং টুইটারের সম্মানহানির চেষ্টা হিসেবেই উল্লেখ করেছে।

ব্যবহারকারীদের তথ্যের মালিকানা আসলে কার হাতে—এ নিয়ে ছোটখাটো বিতর্ক থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলাও গড়িয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষার অধিকার নিয়ে গবেষণা করছেন সান্ড্রা ম্যাটজ। তাঁর দাবি, ইন্টারনেটে একবার কোনো কিছু আপলোড বা পোস্ট করা হয়ে গেলে সেটা পুরোপুরি মুছে ফেলার উপায় একেবারেই নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেফাঁস পোস্ট করে সেটার জন্য প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছে হাজারো ব্যবহারকারী। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এখন প্রতিনিয়ত আইন বদলে যাচ্ছে, দ্রুত বদলাচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিকোণ। যেসব পোস্ট হয়তো পাঁচ বছর আগেও ক্ষতিকর ছিল না, নতুন আইনে সেটা এখন অপরাধ হিসেবেও গণ্য হতে পারে। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে কোনো ব্যক্তির পুরনো পোস্টকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অপবাদও ছড়ানো যেতে পারে। তাই পোস্ট ডিলিট করার ক্ষেত্রে কম্পানিগুলোর গড়িমসি একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি প্রফেসর ও গবেষক রবি সেন বলেছেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে যেসব হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রয়েছে, তারা চাইলেই যেকোনো সার্ভার থেকে তথ্য বের করে নিতে পারে। সেটা হতে পারে ব্যবহারকারীর ডিলিট হওয়া কোনো পোস্টও। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি ই-মেইল পাঠানোর পর সেটা অন্তত তিনটি স্থানে সংরক্ষিত থাকে—প্রেরক ও প্রাপকের ডিভাইস এবং ই-মেইল সার্ভারে। প্রেরক বা প্রাপক ডিলিট করলে মেইলটি বাকি দুটি স্থান থেকেও ডিলিট হয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটে না। তাঁর মতে, যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারকারীরা তাদের অ্যাকাউন্টের সব তথ্য মুছে ফেলার জন্য ডিলিট বাটন চাপার পরও আলাদা করে কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে অনুরোধ জানাতে পারে, তার পরও সেটা ডিলিট হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের আর কোনো উপায় নেই।

তাই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুক্তমঞ্চে কিছু পোস্ট করার আগে অন্তত কয়েকবার ভেবে করা উচিত, এটা মাথায় রেখে যে সেটা মুছে ফেলার আর কোনো উপায় থাকবে না। আর ব্যক্তিগত কথাবার্তা ও তথ্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সমর্থিত মেসেজিং বা শেয়ারিং প্ল্যাটফরমের বাইরে আনা উচিত নয়। এনক্রিপ্টেড তথ্য না মুছলেও চিন্তার কিছু নেই, সেটা কেউ চাইলেও পড়তে পারবে না এনক্রিপশন কি ছাড়া। তবে গোপনীয় ও ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেট থেকে যত দূরে রাখা যায়, ততই ভালো।



সাতদিনের সেরা