যুদ্ধক্ষেত্রে ‘সামরিক’ কুকুরকে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী তৈরি করেছে মিক্সড রিয়ালিটি ‘ডগল’। এটি মূলত অগমেন্টেড রিয়ালিটি গগলস। মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তকরণেও এই চশমা কাজে আসবে এসব কুকুরের। জানাচ্ছেন ইশতিয়াক খান এ জে পেপার কুকুরকে দারুণ ভালোবাসেন। ভালোবাসাটা শৈশব থেকেই। একটা সময় কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরে অবশ্য পেশাগত কারণেই ‘শাটজহান্ড’ নামের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন পেপার। এটির মাধ্যমে সৈনিকদের রক্ষা করার ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করে তোলা হতো কুকুরকে। আর সেটা করতে গিয়েই সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি খুব দ্রুত একটি পরীক্ষামূলক কর্মক্ষম যন্ত্র তৈরি করে ফেলেন। সেই সূত্র ধরেই ২০১৭ সালে ক্ষুদ্র প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘কমান্ড সাইট’-এর গোড়াপত্তন করে ফেলেন এ জে পেপার। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি প্রাণীদের বিশেষ করে কুকুরদের মাথায় বসানোর উপযোগী এক ধরনের প্রদর্শনযন্ত্র উদ্ভাবন করেছে, যেটির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কুকুরগুলোর সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষকরা আরো সহজে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। মূলত পেপার তাঁর পোষা কুকুর ম্যাটের সঙ্গে ভাব আদান-প্রদানের নতুন নতুন পন্থা সম্পর্কে চিন্তা করতে গিয়ে এই প্রযুক্তির ব্যাপারে কাজ করতে আগ্রহী হন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষ ও কুকুরের মাঝে যোগাযোগ সহজতর করার প্রযুক্তি এবং সেই সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করা। পরে অগমেন্টেড রিয়ালিটি নির্ভর হেডসেটের সম্ভাব্য ব্যবহার ও উপযোগিতা মাথায় রেখে পেপার ভাবলেন, কুকুরের মাথার ওপর ক্যামেরা বসিয়ে দিলে কেমন হয়? নিজের ভাবনা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে পেপার বলেন, ‘একটি ল্যাপটপ কিংবা বুকে বা হাতের ওপর বসানো ছোট মনিটর ব্যবহার করে পরিচালক কিংবা ‘হ্যান্ডলার’ কুকুরটির চারপাশের পরিবেশ দেখতে পান এবং যেকোনো জায়গায় কিংবা বস্তুর ওপর ক্লিক করে সেদিকে কুকুরটির মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন।’ এই ‘সামরিক’ কুকুরগুলোকে কঠিন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে এরা মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক খুঁজে বের করা থেকে শক্রকেও আক্রমণ করার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে ওঠে। নতুন এই প্রযুক্তিতে ডিজিটাল সংকেতের মাধ্যমে ‘সামরিক’ কুকুরগুলোকে আরো ভালোভাবে নির্দেশনা দেওয়া যায়, যা মুখের ভাষা, অঙ্গভঙ্গি কিংবা লেজারের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয়। মার্কিন সেনাবাহিনী এই প্রকল্পের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। সেনা গবেষণা অধিদপ্তরের একটি বিশেষ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করা হচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর গবেষণাগারের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. স্টিফেন লি বলেন, ‘আমরা যদি অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে লেজার রশ্মি ব্যবহার করে কুকুরকে দেখাতে পারি ঠিক কোন জায়গাটায় তাদের যেতে হবে (জায়গাটি একই সঙ্গে কুকুর ও তার পরিচালকের কাছে দৃশ্যমান হতে হবে) তাহলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কাজে আসবে।’ অগমেন্টেড রিয়ালিটি নির্ভর হেডসেটের এই পরীক্ষার সাফল্য একই সঙ্গে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে দিয়েছে। এতে শুধু সৈনিকদের প্রাণ রক্ষাই নয়, একই সঙ্গে সামরিক কুকুরদের প্রাণও রক্ষা করা যাবে আগের থেকে অনেক বেশি মাত্রায়। যদিও গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবু হলফ করে বলা যায়, এই ধারণাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কুকুরদের ভূমিকা একেবারেই বদলে দেবে। পরবর্তী ধাপ হিসেবে গবেষকরা এখন মার্কিন নৌবাহিনীর কুকুরদের জন্য এই গগলস তৈরি করবেন।