kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

উদ্যোক্তাদের পাশে ‘শপআপ’

পণ্য বিপণনে সাহায্য করার পাশাপাশি অনলাইন উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতেও সাহায্য করছে ‘শপআপ’। এক লাখের বেশি উদ্যোক্তা যুক্ত রয়েছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মটিতে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ স্টার্টআপ’ অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে তিন তরুণের গড়ে তোলা উদ্যোগটি। জানাচ্ছেন নাদিম মজিদ

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদ্যোক্তাদের পাশে ‘শপআপ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ স্টার্টআপ ২০১৯ অ্যাওয়ার্ড নিচ্ছেন শপআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা সিফাত সারোয়ার

২০১২ সালে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছিলেন সাজিয়া হাসান। নানির তৈরি রেসিপি কাজে লাগিয়ে চুলপড়ারোধী তেল বিক্রি করতেন তিনি। মান ভালো হওয়ায় অল্প দিনেই ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পান। অর্ডার দিন দিন বাড়লেও সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারছিল না কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। টাকাও আটকে রাখত। অনলাইনে খোঁজ পান ‘শপআপ’-এর। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহ ও প্রচারণার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও পেয়ে যান প্ল্যাটফর্মটিতে। এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও তেল পাঠাচ্ছেন। সাজিয়ার মতো হাজারো উদ্যোক্তার ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনার জন্য অ্যাপের মাধ্যমে ঋণও দিয়ে থাকে শপআপ।

 

শুরুর কথা

ফেসবুক ও তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন সেবা কাজে লাগিয়ে দেশের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারীদের সফল ব্যবসায়ীতে পরিণত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শপআপ চালু করেন আফিফ জামান, সিফাত সারোয়ার ও আতাউর রহিম চৌধুরী। শপআপের আগে আতাউর রহিম চৌধুরী চালু করেছিলেন স্ম্যাশবোর্ড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোয়েরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করত প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় বাংলাদেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ডেলিভারি সেবার বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে পারেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং প্রকৌশল বিভাগে পাস করা আতাউর। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে পাস করা বন্ধু আফিফ জামান ও সিফাত সারোয়ারের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনজনই একমত হন, ডেলিভারি সমস্যার সমাধান করলেই বাংলাদেশের ই-কমার্স ব্যবসার চেহারা পাল্টে যাবে। দেরি না করে কলাবাগানের লেকসার্কাসে ছোট একটি কার্যালয়ে শপআপের কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে ফেসবুক পেজ পরিচালনার পাশাপাশি পণ্যের অর্ডার ও ব্যবস্থাপনা সেবা দিতেন তাঁরা। পরে যুক্ত করা হয় মার্চেন্ট ডেলিভারি সেবা। ধীরে ধীরে ব্যবসা উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের ঋণও দেওয়া শুরু করেন। চালু করেন মোবাইল অ্যাপও।

কী কাজ করে

নিজ পণ্যের প্রচার, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছানো, উন্নত মানের প্যাকেজিংসহ অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে শপআপ। এ জন্য ওয়েবসাইটের পাশাপাশি গুগল প্লে-স্টোরে তিনটি অ্যাপও রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির।

 

নিজস্ব ডেলিভারি সেবা

ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো যেকোনো উদ্যোক্তার কাছে চ্যালেঞ্জস্বরূপ। আর তাই উদ্যোক্তাদের দ্রুত ঢাকাসহ সারা দেশে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ দিতে নিজস্ব ডেলিভারি সেবা রয়েছে শপআপের। উদ্যোক্তারা চাইলে শপআপ অ্যাপ থেকেই অর্ডারের লাইভ ট্র্যাকিং, অর্থ লেনদেনের তথ্য জানতে পারেন।

 

শপ ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস

ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে নিজেদের পণ্য তুলে ধরতে নিয়মিত ফেসবুক পেজ হালনাগাদ করতে হয় উদ্যোক্তাদের। কিন্তু সবার পক্ষে সেটি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সমস্যার সমাধান দিতে শপআপে রয়েছে শপ ম্যানেজমেন্ট সেবা। ফেসবুকে ব্যবসা পরিচালনার উপযোগী পেজ তৈরির পাশাপাশি হালনাগাদ তথ্যও যুক্ত করার সুযোগ দিয়ে থাকে সেবাটি।

 

শপআপ অ্যাসিস্ট

অনলাইন ব্যবসায় ক্রেতাদের কাছে যাওয়ার জন্য পণ্যের প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকে সঠিকভাবে পণ্যের প্রচার করতে পারেন না। অনেকে আবার পণ্যের প্রচার করতে গিয়ে ক্রেতাদের বিরক্তও করেন, যা পরবর্তী সময়ে ব্যবসার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। সমাধান দেবে ‘শপআপ অ্যাসিস্ট’। সেবাটির মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা ফেসবুকে পণ্যের পোস্ট প্রমোশন বা পেজ প্রমোট করতে পারেন। এ জন্য ক্রেডিট কার্ড প্রয়োজন হলেও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে শপআপ।

 

শপআপ রিসেলার : অনলাইনে কম দামে ভালো মানের পণ্যের উৎসর সন্ধান জানা বেশ জরুরি। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি এক লাখের বেশি পণ্যের সন্ধান দিয়ে থাকে শপআপ রিসেলার। পছন্দের পণ্য পাইকারি মূল্যে কেনারও সুযোগ দিয়ে থাকে।

 

এখন শপআপ যেমন

বর্তমানে এক লাখের বেশি উদ্যোক্তা শপআপের মাধ্যমে নিজের অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মহাখালী ডিওএইচএসে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা বিশাল এই প্ল্যাটফর্মটিতে বর্তমানে ৫০০ কর্মী কাজ করছেন।

 

যুক্ত হতে চাইলে

শপআপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া খুবই সহজ। গুগল প্লে-স্টোরে থাকা শপআপের তিনটি অ্যাপ ডাউনলোড করে একজন উদ্যোক্তা রিসেলিং, ই-লোন ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ওয়েবসাইট থেকেও বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সুযোগ মিলবে।

ShopUp Reseller App ডাউনলোড লিংক : http://bit.ly/2XHZpGAShopUp eLoan App ডাউনলোড লিংক : http://bit.ly/2NWlQEFShopUp App ডাউনলোড লিংক : http://bit.ly/34gjFki

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা