kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

কোয়ান্টাম দুনিয়ায় স্বাগত

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোয়ান্টাম দুনিয়ায় স্বাগত

কল্পনা করুন এমন এক পৃথিবী, যেখানে আপনার পায়ের নিচে কী আছে তা সহজেই দেখতে পারবেন। কিংবা পেয়ে যাবেন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের আগাম সতর্কতা। এমনকি চামড়ার ওপর থেকেই দেহের ধমনিগুলো খুঁজে পেয়ে যাবেন খুব সহজেই। এসব বাস্তবে রূপ দিতে আসছে কোয়ান্টাম সেন্সিং। জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

 

ধীরে ধীরে কোয়ান্টাম বিশ্বে প্রবেশ করছে মানুষ। আগামী দিনগুলোতে নানা ধরনের কোয়ান্টাম প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে আমূল পরিবর্তন করে দেবে। ছোট কোয়ান্টাম সেন্সরগুলো আজকের অনেক কঠিন বিষয়কে নিয়ে আসবে হাতের মুঠোয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয়বহুল অনেক প্রযুক্তি আগামীতে একেবারে বিনা মূল্যেই পাওয়া যাবে। মোবাইল ও পরিধানযোগ্য ডিভাইসে লাগানো কোয়ান্টাম সেন্সরগুলো স্বাস্থ্যকে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিতে রাখবে। নখদর্পণে রাখতে পারবেন আপনার বাড়ির মাটির নিচে কী হচ্ছে সেটাও।

 

পাতাল খবর

একটি প্রবাদ আছে, আমরা পায়ের এক মিটার নিচে কী আছে তার চেয়ে ঢের বেশি জানি এন্টার্কটিকা সম্পর্কে। এর কারণ হচ্ছে মাটির নিচের খবর জানানোর মতো খুব ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েকটি সেন্সর রয়েছে যেগুলোর ক্ষমতা মাটির নিচের পাঁচ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এই কারণে মাটির নিচের খবর জানতে করতে হয় খোঁড়াখুঁড়ি। বিশেষ করে খনি আবিষ্কার আর নির্মাণশিল্পে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ির চল এখনো আছে। কিন্তু গ্র্যাভিমিটার প্রযুক্তিতে মাটির নিচের খবর অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পাওয়া যাবে। বাণিজ্যিকভাবে সেন্সরটি বাজারে এলে যে কেউ-ই খনন না করেই পাতালে অভিযান চালাতে পারবেন। সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর। একটি দালান নির্মাণের আগে তাদের আর পরীক্ষামূলক খোঁড়াখুঁড়ির প্রয়োজন হবে না। এই সেন্সর কাজে লাগিয়ে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের আগাম খবরও পাওয়া যাবে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাই বং এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

দেখা যাবে ঘরের ভেতর!

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল ফ্যাচিওর নেতৃত্বে ‘এক্সট্রিম লাইটগ্রুপ’ একটি লাইডার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যেটি অত্যন্ত সঠিকভাবে অন্তরালবর্তী স্থানের তথ্য দিতে পারবে। এই ধরুন ঘরের মধ্যে কী আছে, কুয়াশার ওপারে কী আছে কিংবা পাহাড়ের ওপাশে কী আছে? বর্তমান লাইডার প্রযুক্তির একটি উন্নত সংস্করণও বলা যেতে পারে এটিকে। লাইডার প্রযুক্তি সাধারণত আলোর প্রতিফলনকে ব্যবহার করে কোনো কিছুর অবস্থান নির্ণয় করে। নতুন লাইডার প্রযুক্তিতে ফোটনের ফিরে আসার সময়কে এক সেকেন্ডের ট্রিলিয়ন ভাগ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়। যার ফলে রিয়াল টাইম তথ্য পাওয়া যাবে একটি উৎস থেকে। প্রযুক্তিটি চালকহীন গাড়ির কথা ভেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রচণ্ড শীতের অঞ্চলে কুয়াশার ওপারে কী আছে এটা জানা যায় না। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। তা থেকে চালকহীন গাড়িকে রক্ষা করতে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই লাইডার প্রযুক্তি ব্যবহার গাড়িচালকরা রাস্তার বাঁকগুলো ওপাশে কী আছে সেসব দেখতে পারবেন। ফলে হঠাৎ করে দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কাও অনেক কমে যাবে।

 

এমআরআইয়ের দিন শেষ?

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার ক্রুগার এবং তাঁর দল কোয়ান্টাম সেন্সরভিত্তিক একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। এটি মানুষের শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর সঠিক ইমেজিং করতে পারে। তাঁদের দাবি, এটি এমআরআই থেকে অনেক বেশি সহজ। সস্তা আর ভালো রেজল্যুশনের ছবিও পাওয়া যাবে। বর্তমান প্রযুক্তিতে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো রোগ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। তবে তাদের এই সেন্সরটি এই রোগকে সুনিপুণভাবে নির্ণয় করতে পারবে বলে তাদের দাবি।

 

আওয়াজ ছাড়াই পড়বে ধরা

বলাই বাহুল্য যে দুনিয়ার সেনা দপ্তরগুলো কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে টাকা ঢালছে। যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর আরডিকম রিসার্চ ল্যাবরেটরি কোয়ান্টাম সেন্সিংয়ে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ অর্জন করেছে। তারা রিডবার্গ অণুকে অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতায় বুস্ট করে দেখেছে সেটি আশপাশের ইলেকট্রনিকস থেকে নিঃসরিত তরঙ্গকে সঠিকভাবে ধরতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ সেন্সরের চেয়ে বেশি পরিমাণ তরঙ্গও শনাক্ত করতে পারে। এর মানে হচ্ছে এই সেন্সর দিয়ে আশপাশে কোথায় কী ইলেকট্রনিকস চলছে যেটি নির্ণয় করা যাবে। সমুদ্রের সাবমেরিনের অবস্থান জানতে বেশ সহায়ক হবে এটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা