kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

রোবটিকসের মাস্টারমশায়

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোবটিকসের মাস্টারমশায়

শিশুদের রোবটিকস শেখাচ্ছে ‘বাংলাদেশ রোবটিক ফাউন্ডেশন’। ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই রোবটিকস নিয়ে কাজ করতে চান কিন্তু কিভাবে ও কোথা থেকে শুরু করতে হবে জানেন না। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে ‘বাংলাদেশ রোবটিকস ফাউন্ডেশন’। রোবটিকস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে সংগঠনটি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তুসিন আহম্মেদ

 

হাফিজুল ইমরান তখন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবট নিয়ে অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই পাগলামি তাঁর। তিনিই প্রথম উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটিকস ক্লাব।

ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রোবটিকস নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং দিতে শুরু করলেন। ক্যাম্পাসে আয়োজন করে চললেন রোবটিকস নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা। এভাবে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকালেন।

এত দিন কার্যক্রম হতো শুধু ক্যাম্পাস ঘিরে। এবার তিনি তা ছড়িয়ে দিতে চান সারা দেশে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ব্যস, গুছিয়ে ফেললেন প্ল্যাটফর্ম। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করল ‘বাংলাদেশ রোবটিকস ফাউন্ডেশন’। 

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইমরানের সঙ্গে আরো রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর তাবাসুম, সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ সৌরভ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও মারুফ খান। এ ছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে আছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

 

কী কাজ?

‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েই তৈরি করে ফেলেছিলাম মানবাকৃতি রোবট ‘ডিবোট’। ‘এটি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় কথা বলতে পারে। হ্যান্ডশেক ও গান গাইতে পারে’, জানালেন হাফিজুল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে অভিজ্ঞতা থাকার পরও এটি তৈরি করতে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, নতুনদের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলোই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ করে দিতে চান তিনি। রোবট প্রকৌশল বিষয়ে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথটা তৈরি করার কাজ করছে এই ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ-সুবিধার যে অপ্রতুলতা তা কমিয়ে আনছে এই প্রতিষ্ঠান। দেশের সব রোবট গবেষকের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা ও  গবেষণা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ ও যোগাযোগ তৈরি করে দেবে ফাউন্ডেশন। 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে রোবটিকস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০টির বেশি গবেষণা দল তৈরি করা হয়েছে। দলগুলোর সদস্যরা নিয়মিত রোবটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নানা গবেষণা করছেন এবং নতুনদের সামনে তুলে ধরছেন।

হাফিজুল ইমরান

 

যত পরিকল্পনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরি ও গবেষণার জন্য সব রকম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রোবটিকস ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রোবটিকস ফাউন্ডেশন।

শুধু ঢাকায় নয়, দেশের বিভাগীয় পর্যায়েও এমন ল্যাব তৈরির ভাবনা। যেখানে যে কেউ যেকোনো সময় বিনা মূল্যে রোবটিকস গবেষণায় কাজ করতে পারবেন।

অন্যতম পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সময় রোবট সম্পর্কে বেসিক ধারণা দেওয়ার ধারা চালু করা।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বের অনেক দেশেই শিশুরা রোবট খেলনা তৈরি করে। এটি তাদের রোবটিকসে আগ্রহী করে। যদি দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে রোবটিকসে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করার মতো আমাদের জনবল তৈরি হবে।

এ ছাড়া শিশুরা বিদেশ থেকে আমদানি করা রিমোট খেলনা কিংবা রিমোটের গাড়ি না কিনে নিজেরাই রোবটিকসের নানা খেলনা তৈরি করতে পারবে।

এরই মধ্যে রাজধানীর আদাবর মডেল স্কুলে শিশুদের রোবটিকস শেখানোর কার্যক্রম শুরু করেছে ফাউন্ডেশন। যার নাম ‘রোবটিকস স্কুল’। সেখানে ছয় থেকে ১৫ বছরের শিশুদের জন্য রোবটিকসের বিশেষ কোর্স ও গাইড তৈরি করা হয়েছে। এতে ‘বেসিক’, ‘মিড’, ‘অ্যাডভান্স’  এবং ‘ওপেন’—এই চারটি ধাপে শিশুরা রোবটিকসে দক্ষতা নিচ্ছে।

শিগগিরই সেখানে রোবটিকসের বিভিন্ন কিট সরবরাহ করা হবে। আসছে বছর থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই রোবটিকস স্কুলের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

সমস্যার এক-দুই

দেশে রোবট প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম যন্ত্রাংশ। প্রথমত এগুলো প্রয়োজনমতো পাওয়া যায় না, দ্বিতীয়ত এগুলো বেশ দাম। কোনোভাবে পাওয়া গেলেও দামের কারণে শিক্ষার্থী-গবেষকদের পিছিয়ে যেতে হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে রোবটিকস ফাউন্ডেশনের এই জায়গায় কঠিন পথ পেরোতে হচ্ছে। এখানে সরকার ও বেসরকারি খাত এগিয়ে এলে সমস্যা অনেকটাই কেটে যায় বলে মনে করে ফাউন্ডেশন। 

রোবটিকস যন্ত্রাংশের আমদানি, কেনাবেচা ও দেশে তৈরির বিষয়ে নিয়ম-নীতিও দরকার। প্রায় সময়ই যন্ত্রাংশ নিয়ে আইনগত জটিলতায় পড়েন তাঁরা।

 

জিজ্ঞাসার উত্তর মিলবে যেখানে

রোবটিকস নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন ও কৌতূহলের বিষয়ে জানাতে পারেন ফাউন্ডেশনের ফেইসবুক পেইজে (https://www.facebook.com/bdrf.org.bd/)। যে কেউ মেসেজ করতে পারেন, উত্তর পাবেন।

এ ছাড়া ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণের বিষয়ে, গবেষণার খবরাখবর, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঘোষণাসহ বিস্তারিত জানতে এই ওয়েবসাইট http://bdrf.org.bd/-এ যেতে পারেন।

মন্তব্য