kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকৃত বিপ্লবই পারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



প্রকৃত বিপ্লবই পারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে

মিয়ানমারে একসময় কমিউনিস্ট আন্দোলন বেশ ভালো রকমের শক্তিশালী ছিল; কমিউনিস্টরা রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে নেবে এমনও মনে হয়েছে। সে দেশে সামরিক বাহিনী যে তাণ্ডব ঘটিয়েছে তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী নির্যাতিত, নিহত ও দেশান্তরিত রোহিঙ্গারা। অং সান সু চি সামরিক বাহিনীর নেতাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছিলেন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে টুঁ শব্দটিও করেননি, তাদের ওপর সামরিক ও সামাজিক নিপীড়নকে নীরবে সমর্থনই করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এখন টের পাচ্ছেন সেনাবাহিনী কতটা নৃশংস হতে পারে। প্রতিবাদকারীদের সেখানে নিয়মিত হত্যা করা হচ্ছে; চারজন সুপরিচিত গণতন্ত্রপন্থীকে প্রহসনের বিচারে প্রাণদণ্ডাদেশ দিয়েছে, দণ্ডাদেশ কার্যকরও করে ফেলেছে। বিশ্ব কী বলবে তার তোয়াক্কা করেনি। আর বিশ্ব তো তেমন কিছু বলেও না। দেশটির প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর পুঁজিবাদীদের চোখ রয়েছে।

আমরা টাকার শাসনের কথা বলছিলাম। গণচীন যে এখন আর কমিউনিস্ট নেই তার নানা ধরনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কিছু মানুষ অতি দ্রুত অসম্ভব রকমের ধনী হয়ে গেছে; তাদের অনেকেই দেশে থাকতে চাচ্ছে না, বিদেশে চলে গেছে বা চলে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এই লেখাটি লিখতে লিখতেই খবর পাওয়া গেল যে চীনের একজন সাবেক বিচারমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।  

আমাদের প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য মোটেই কমিউনিস্ট নন, কখনো ছিলেন না, ভবিষ্যতেও হবেন না; উল্টো ঘোরতর কমিউনিস্টবিরোধী বলেই তিনি সুপরিচিত। তবে ভারতের কমিউনিস্ট নেতাদের মতোই তিনি যে খুবই সাধারণ জীবন যাপন করেন, সেটি তো সুবিদিত। তাই টাকা-পয়সার দিকে ঝুঁকবেন না, এটিই প্রত্যাশিত। কিন্তু তাঁর দলের মস্ত বড় নেতা পার্থ চক্রবর্তী তো দেখা যাচ্ছে ঘুষ গ্রহণে পুঁজিবাদী নেতাদেরও হার মানিয়ে ছেড়েছেন। কানাঘুষা ছিল যে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময়ে তিনি শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগদানের বেলায় টাকা নেওয়ার ব্যাপারে কোনো রকম বাছবিচার করেননি, দুহাতে তো বটেই, থাকলে দশ হাতকেই কাজে লাগাতেন। আর এ ধরনের উপার্জনের স্বভাবটিই এ রকমের যে শুধু একজনের সেবাদাস হয়েই সে সন্তুষ্ট থাকে না, ওপরের দিকেও চলে যায়। এ ক্ষেত্রেও সে রকমের চলমানতার সন্দেহের গুঞ্জন যে নেই, তা নয়। সে যা-ই হোক, পার্থ চক্রবর্তী, যিনি দোর্দণ্ড প্রতাপের নেতা, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং নেত্রীর ডান হাত বলেই সুপরিচিত, তাঁর সংগৃহীত নগদ ৫০ কোটি রুপি, প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও স্থাবর সম্পত্তি যে ধরা পড়ল তার ব্যাখ্যাটি কী? শোনা যাচ্ছে, টাকা নাকি বিদেশেও পাচার হয়েছে। এই টাকা নিশ্চয়ই মাটি ফুঁড়ে গজায়নি কিংবা আকাশ থেকে ঝরে পড়েনি, এটি জনগণেরই টাকা; তৃণমূল যে জনগণের ‘রক্ষক’ বলে পরিচিত।

বুঝতে কোনো অসুবিধা নেই যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মোটেই সুবিধায় নেই। তারা আস্থা রেখেছিল মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ওপর; ওই দল ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু দেখা গেল দলটি শেষ পর্যন্ত আর কমিউনিস্ট থাকেনি, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রে’ বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এবং বুর্জোয়াদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে পিছু হটেছে। ভোট সংগ্রাহক ও জনসমর্থক সেজে সংগঠনের স্থানীয় স্তরে সুবিধালোভীরা দলে ঢুকে পড়েছে এবং যখন দেখেছে দল (মূলত তাদের কারণেই) জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে, তখন তৃণমূলে গিয়ে শামিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা শক্ত হাতে উচ্চে তুলে ধরেছেন, কিন্তু তিনি যে কতটা বাঙালিপ্রেমিক, তা তো বোঝা যায় রাজ্যে পেশিশক্তি ও আর্থিক দুর্নীতিকে তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া থেকেই। অতিরিক্ত প্রমাণও অবশ্য রয়েছে, বেশির ভাগ বাঙালির বাসভূমি বাংলাদেশকে তার পাওনা পানি দিতে তাঁর জোরালো অসম্মতির ভেতরে। তিনি কেমন বাঙালিপ্রেমিক, যিনি বিপুলসংখ্যক বাঙালির জলকষ্ট বৃদ্ধি করেন? ভালো কথা, বাম জোট ছেড়ে অনেক বুদ্ধিজীবী কিন্তু মমতার স্কুলে নাম লিখিয়েছিলেন; তাঁদের জন্য টানটা নিশ্চয়ই মতবাদগত ছিল না। ওদিকে পার্থ বলছেন যে টাকা তিনি সংগ্রহ করেছেন দলের অজান্তে নয়, দলের জ্ঞাতসারেই। এবং দলের নির্দেশেই টাকা তাঁর হেফাজতে রেখেছিলেন। আর যে টাকা ধরা পড়েছে সেটা নাকি আসলের ভগ্নাংশ মাত্র। এবং তিনি একা নন, সংগ্রহ অন্যরাও করেছেন।

পুঁজিবাদের দুঃশাসনের কালে পাকিস্তানের অবস্থা তো দেখা যাচ্ছে আরো করুণ। ইমরান খান পদচ্যুত হয়েছেন ‘দুর্নীতিতে দক্ষ’ প্রমাণিত হওয়ায়। তাঁর জায়গায় এসেছেন পুরনো মুসলিম লীগের পুরনো নেতা শাহবাজ শরিফ; কিন্তু তাঁকে তো শুনলাম আদালত তলব করেছেন অর্থপাচারের মামলায়। তাঁর ছেলেকেও। ওদিকে ইমরান খানের দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিদেশ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণের। অভিযোগ অন্য কেউ আনেনি, এনেছে দেশটির নির্বাচন কমিশনই।

গরিব বাংলাদেশের কত টাকা যে বিদেশে গেছে পাচার হয়ে তার হিসাব তো মনে হয় কোনো দিনই পাওয়া যাবে না। টাকা পাচার হয়ে নানা জায়গায় যায়। একটি অংশ নাকি নিশ্চিন্তে জমা থাকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে। এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ওই দেশটির ব্যাংকগুলো বেশ নিরাপদ। সেখানে কপালদার বাংলাদেশি ব্যক্তিদের জমা নাকি বাড়ছেই। ওরা কারা, তা জানা যায় না। ওদিকে এটি তো অনুমান না করে উপায়ই নেই যে বাংলাদেশের বড় বড় প্রজেক্টে বড় বড় মানুষের বড় বড় অঙ্কের অর্থলাভ ঘটে। ভর্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা হয় এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। টাকাই ঘটায় যা ঘটানোর। একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে নাকি ‘হাজার কোটি’ টাকার লেনদেন ঘটে থাকে। ভর্তির চেয়েও বড় বাণিজ্য চাকরির, সেই বাণিজ্য তো ক্রমাগত নিজেই নিজেকে অতিক্রম করে চলেছে।

সব কিছুই কিন্তু ঘটছে রাষ্ট্রের অধীনে। রাষ্ট্র অঙ্গীকার করেছে দুর্নীতি দমন করবে। দমনের জন্য বিস্তর ব্যবস্থা আছে। আইন আছে, আদালত রয়েছে, রয়েছে দুর্নীতি দমনের স্বাধীন কমিশন, কাজ করছে গোয়েন্দারা, তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন বাহিনী, গণমাধ্যমও উন্মুখ থাকে দুর্নীতির কাহিনি উন্মোচনের জন্য এবং উন্মোচন যে ঘটে না এমনও নয়, চমকপ্রদ খবরগুলো তো গণমাধ্যমের কল্যাণেই আমরা পেয়ে থাকি। কিন্তু দুর্নীতি কমে না, বরং বাড়তেই থাকে। বিদেশিরা বলে যতই ডাকাডাকি করো না কেন, বিনিয়োগে যাচ্ছি না। কারণ তোমাদের দেশের দুর্নীতি বিনিয়োগে পদে পদে বাধা দেবে, মুনাফা যা করব সেটি গিলে খেয়ে ফেলতে চাইবে। রাষ্ট্র যে পারছে না দুর্নীতি দমন করতে তার আসল রহস্যটি তো রয়েছে এখানে যে রাষ্ট্রের যারা শাসক শ্রেণি, তারা মুখে যা-ই বলুক না কেন, অন্তরে অন্তরে নিজেরাই দুর্নীতির প্রতি অনুরক্ত এবং সেই অনুরাগেরও আসল কারণ হলো পুরো ব্যবস্থাটি হচ্ছে পুঁজিবাদী। পুঁজিবাদ অন্য কিছু বোঝে না মুনাফা ছাড়া। পুঁজিবাদে দুর্নীতি থাকবে, এটি অনিবার্য। তবে যেসব রাষ্ট্রে কিছুটা জবাবদিহি আছে, আছে স্বচ্ছতাও এবং যেখানে সরকারের জন্য ঝুঁকি থাকে জনপ্রিয়তা হারালে ক্ষমতা থেকে পড়ে যাওয়ার, সেখানে দুর্নীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পুঁজিবাদ নিজেও সংযত হয় টিকে থাকার স্বার্থে। আর পুঁজিবাদ যেখানে রাষ্ট্রের বাধা-নিষেধের মোটেই তোয়াক্কা করে না, দায় নেয় না জবাবদিহির, সেখানে কে থামাবে লুণ্ঠন, কে বাধা দেবে দুর্নীতিকে? অনেক দেশেই কেউ তা দেয় না, দেয় না আমাদের এই বাংলাদেশেও। তবে আমাদের ক্ষেত্রে বেদনাটা এখানে যে মুক্তির জন্য আমরা বড় বড় সংগ্রাম করেছি এবং সেই সংগ্রামের লক্ষ্য একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র গঠন ছিল না, লক্ষ্য ছিল একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই।

সমাজতন্ত্রে পৌঁছার জন্যই গণতন্ত্র চাই। সেই গণতন্ত্রে শুধু মানুষের ভোটাধিকারই থাকবে না, থাকবে অধিকার ও সুযোগের সাম্যও; সেখানে ক্ষমতা কোনো একটি জায়গায় পুঞ্জীভূত থেকে স্বৈরাচারী, দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারবে না, সেখানে ক্ষমতার যথার্থ বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে এবং সর্বস্তরেই ক্ষমতা চলে যাবে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের হাতে। সেদিকে তো আমরা এগোতে পারিনি, এগোনো ভুলে বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একদা ঘোষিত লক্ষ্য থেকে ক্রমাগত পিছিয়েই গেছি।

একটি ভুল ধারণা চালু ছিল, এখনো মনে হয় আছে, সেটি হলো বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র। এটি বলার অর্থ দাঁড়ায় এই রাষ্ট্র শুধু একটি জাতির মানুষদেরই, যে মানুষেরা সবাই বাঙালি। এটি কিন্তু সত্য নয়। বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্র সেই রকম হয়নি বটে, তবে সেটিই তার হওয়ার কথা ছিল। বস্তুত এ যুগে একটি রাষ্ট্রের সব মানুষ এক জাতির হবে, এমনটি মোটেই সম্ভব নয়। আমেরিকা চেষ্টা করেছিল বিভিন্ন জাতির মানুষকে একসঙ্গে করে, ফুটন্ত পাত্রে ফেলে রান্না করার কায়দায়, এক জাতিতে পরিণত করে তবে ছাড়বে। পারেনি। করতে গিয়ে নানা ধরনের বিভেদ-বিদ্বেষের সৃষ্টি করেছে, এখনো করে চলেছে। গ্রেট ব্রিটেন মেনে নিয়েছে, বাধ্য হয়েছে মেনে নিতে যে ওই রাষ্ট্র শুধু ইংরেজদের নয়, এমনকি শুধু শ্বেতাঙ্গদেরও নয়, নানা বর্ণের ও সংস্কৃতির মানুষ সেখানে রয়েছে এবং থাকবে। বাংলাদেশেও বাঙালিদের পাশাপাশি অবাঙালিরা আছে, তা সংখ্যায় তারা যত কমই হোক না কেন। অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে এ রাষ্ট্রে নাগরিকদের ভেতর শ্রেণি, বর্ণ, ধর্ম ও লিঙ্গের ব্যবধান থাকার কথা নয়। সেটি যে রয়ে গেছে এবং অনবরত বাড়ছেই, তাতেই প্রমাণিত হয় যে এ রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক নয়; এ রাষ্ট্র পুঁজিবাদী এবং এর কাঠামো আমলাতান্ত্রিক। আগে যেমন ছিল।

রাষ্ট্র হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপদ কাটেনি, শিগগির যে কাটবে এমনও নয়। মূল সমস্যাটি অবশ্যই অর্থনৈতিক, কিন্তু সেটি তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। রাষ্ট্র চলে গিয়েছিল একটি পরিবারের সর্বাত্মক কর্তৃত্বের অধীনে। শাসকরা ভিন্নমত শুনতে চাননি, অন্য দলকে দাঁড়াতেই দেননি। যা ইচ্ছা তা-ই করেছেন। ফলে অর্থনৈতিক দুর্দশা বেড়েছে এবং তার কারণে মানুষ শেষ পর্যন্ত ভীষণ খেপে গেছে, রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অবরোধ করেছে, তাঁদের কেউ কেউ পালিয়ে বেঁচেছিলেন।

তা তো হলো, শ্রীলঙ্কার সরকারের পতনও ঘটল, কিন্তু কারা এলেন ক্ষমতায়? যাঁরা এলেন তাঁরা তো আগের শাসকদেরই আপনজন, তাঁদের ক্ষমতাপ্রাপ্তিতে রাষ্ট্রের স্বৈরাচারী চরিত্রে তো কোনো পরিবর্তন ঘটল না। আর পরিবর্তন যে ঘটবেও না, তা বোঝা যায় এটি দেখেই যে যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন বিপদে পড়েছেন। কয়েকজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। কেউ কেউ আত্মগোপন করেছেন। আন্দোলনকারীদের ওপর আধাসামরিক বাহিনীর হামলাও ঘটেছে। ওদিকে আন্দোলন নিজেও দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পুঁজিবাদী-কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় এটিই ঘটবে, সরকার নামে বদলাবে, কাজে বদলাবে না এবং রাষ্ট্রের স্বভাব-চরিত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে হয়তো সাময়িকভাবে কোনোমতে রক্ষা করা যাবে, কিন্তু তাতে তো সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে না। আসল কথা ওই একটিই, পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নাগরিকদের এখন আর স্বস্তি দিতে পারবে না, সুখ তো নয়ই। প্রতিটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এখন যা প্রয়োজন, তা হলো সামাজিক বিপ্লব, যে বিপ্লব প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু পুঁজিবাদী রাষ্ট্র তো নিজে বেঁচে থাকতে এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই সেটি ঘটতে দেবে না। নানা ধরনের বিপ্লব ঘটাতে থাকবে প্রকৃত বিপ্লবকে প্রতিহত করার প্রতিজ্ঞায়।

 লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা