kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নেতৃত্বের পরম্পরায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ

ড. আতিউর রহমান

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



নেতৃত্বের পরম্পরায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ

নেতৃত্বের পরম্পরায় বাংলাদেশ উদ্ভাসিত। এ কথা ঠিক, পঁচাত্তরের আগস্টে আমাদের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটি বিশ্বাসঘাতকদের আচমকা আঘাতে হঠাৎ খসে পড়েছিল। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার পর আরেকটি নক্ষত্র উদিত হয় ১৯৮১ সালের মে মাসে। যদিও তাঁর চলার পথে পাথর বিছানো ছিল, তবু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় ঠিকই জয় করতে পেরেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতিও তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে গভীর আন্তরিকতায়। তাইতো কবি বাবলু জোয়ারদার ‘একখণ্ড বাংলাদেশ’ কবিতায় লিখেছেন—

‘গতকাল আকাশ থেকে

একটি নক্ষত্র খসে পড়ল

আজ আকাশে একটি নক্ষত্র উদিত হয়ে

রোদের চাদর বিছিয়ে দিল জমিনে

গ্রহণলাগা চাঁদ হৈ হৈ হেসে উঠল

আকাশটা হয়ে গেল একখণ্ড বাংলাদেশ। ’

বঙ্গবন্ধুকন্যার এবারের জন্মদিনে নান্দনিক নেতৃত্বের সেই পরম্পরার আলোকে কিছু কথা বলতে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে তিনি যখন দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল ১০২.৩৭ বিলিয়ন ডলার। আর সেই অর্থনীতি ২০২১ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪১৬.২৬ বিলিয়ন ডলারে। ১২ বছরে চার গুণ বেড়ে যাওয়া এই অর্থনীতি আকাশ থেকে পড়েনি। সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সুদক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ২০০৯ সালে যখন তিনি ক্ষমতাসীন হন তখন সারা বিশ্বই খাবি খাচ্ছিল আর্থিক মন্দায়। বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করে সেই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে পেরেছিল। নেতৃত্বের গুণেই এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয়েছিল। আজও বিশ্ব এক মহা অর্থনৈতিক সংকটে। করোনা সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই চেপে বসেছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এর প্রভাবে বিশ্ব সরবরাহ চেইন আরো ভঙ্গুর হয়ে গেছে। জাহাজভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিশ্বজুড়েই মূল্যস্ফীতির লু হাওয়া প্রবল বেগে বইছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।

তবে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ এরই মধ্যে দারুণ মুনশিয়ানার সঙ্গে কভিড-১৯ মোকাবেলা করেছে। নিক্কেই কভিড-১৯ সূচকের ফল বলছে, মহামারি মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে। আর পুরো বিশ্বে এ বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। সেই একই রকম মুনশিয়ানার সঙ্গে আমরা এখন লড়ে যাচ্ছি ইউক্রেন যুদ্ধের কুফল থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেভাগেই কৃচ্ছ্র সাধন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছেন। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের জন্য যা যা করা দরকার তাই করছেন। সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সারের দাম খুব একটা বাড়াতে দেননি। বিদ্যুতের লোড শেডিং সত্ত্বেও রাতভর কৃষকের সেচযন্ত্র চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে বৃষ্টিও হয়েছে। মনে হয় আমন ধানের উৎপাদন ভালোই হবে। বোরোও ভালো হবে। সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ভালো বীজ, সেচ, কৃষিঋণ সরবরাহের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে খানিকটা হলেও রেহাই দেওয়ার জন্য সামাজিক সুরক্ষাবলয় আরো সুসংহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোটিখানেক পরিবারের জন্য সুলভে খাদ্য সরবরাহের কার্ড, খোলা বাজারে খাদ্য বিক্রিসহ নানামাত্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। হয়তো বিতরণব্যবস্থা শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন নয়। তবুও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বক্ষণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর।

গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। শিশুরা যাতে পড়তে পারে সে জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি ও বিনা মূল্যে বইয়ের ব্যবস্থা করেছেন। ওপর থেকে তিনি নীতি নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। বাস্তবায়নের কাজ প্রশাসনের এবং ব্যক্তি খাতের। সেই কাজগুলো ঠিকমতো করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টজনের। আমাদের সাধ্যমতো উন্নয়ন কর্মসূচি যাতে ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয় তার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অস্বীকার করার তো উপায় নেই যে বিগত ১২ বছরে আড়াই কোটি গরিব মানুষ দারিদ্র্যরেখার নিচ থেকে ওপরে উঠে এসেছে। দারিদ্র্য নিরসনের এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিকে যুগপৎ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বর্তমান সংকট সত্ত্বেও এডিবি বলছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০২২ সালে হবে ৬.৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা হবে ৭.৩ শতাংশ। শুধু আইএমএফ নয়, আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সিগুলোও বলছে, বাংলাদেশ কোনো বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে না। তার আন্তর্জাতিক ঋণ ব্যবস্থাপনা খুবই সুদক্ষ।

কী কৌশলে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রেখেছে? সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকীতে এক সাক্ষাৎকারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই আমরা সব সময় স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমাদের বর্ধিষ্ণু কৃষি খাত, ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা রপ্তানি, বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে আমাদের মৌলিক শক্তির জায়গা হলো—গণতন্ত্র, সরকারের ধারাবাহিকতা এবং শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক নীতি ও কর্মসূচিগুলো। ’

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি যথার্থই সাক্ষরতার হার বাড়ানো, গড় আয়ু বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সত্যি বলতে, ১৩-১৪ বছর ধরে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার মানুষের ওপর বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেই এ সময়ে শুধু আমাদের দারিদ্র্য হার কমেছে তা-ই নয়, পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়নও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্ষমতায়িত এই জনতাই আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের মুখ্য চালিকাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়াকে একই সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত গতি দেওয়া এবং টেকসই করে তোলার ক্ষেত্রে পুরো অর্থনীতির ডিজিটাইজেশন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষিনির্ভর শিল্পের বিকাশ প্রধান প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন যে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর সরকার শুধু দেশের ভেতরের কথা ভাবছে না, বরং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরো বৈশ্বিক ও টেকসই রূপ দিতে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সহজ যোগযোগ স্থাপনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। বহু বছর ধরেই বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন যে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাত্রা কম। দক্ষিণ এশিয়ার পারস্পরিক যোগযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে এই অঞ্চলের সবগু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নতুন মাত্রা পাবে বলে তাঁরা বলে আসছেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিকে তাই প্রধানতম গুরুত্বের জায়গায় রাখছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর উল্লিখিত সাক্ষাৎকারেও তাই বলেছেন—‘একটি সমৃদ্ধিশালী দক্ষিণ এশিয়া গড়তে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আকাশপথ, রেল, অভ্যন্তরীণ নদী এবং সমুদ্রপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির দিকে আমরা মনোনিবেশ করেছি। ’

এ কথা তো মানতেই হবে যে তাঁর নেতৃত্বগুণেই শত বাধা ডিঙিয়ে আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের আগামী দিনের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং সেই পথে এগোতে যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে, সেগুলোর বিষয়েও তিনি একই রকম সংবেদনশীল। তাইতো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর সফল অভিযান শেষ করেই তিনি ক্ষান্ত হচ্ছেন না। এখন হাতে নিয়েছেন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ কর্মসূচি। এ প্রসঙ্গে নিজেই বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছি এবং গ্রামে গ্রামে কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই আমাদের তরুণরা অন্যকে অনুকরণ করার বদলে নিজেরাই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিক। ’ একই সঙ্গে আগামী দিনের সোনালি সম্ভাবনার পথনকশা বাস্তবায়নের পথে প্রধানতম চ্যালেঞ্জ যে জলবায়ু পরিবর্তন, সেটি মোকাবেলার জন্যও তিনি সুচিন্তিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কারণেই বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ জলবায়ু পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আমাদের উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য ধারাবাহিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পুরো বিশ্বই বাংলাদেশের এই অর্জনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্বসভায়ও অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও যে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে সদা সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।

এখন থেকে ১০-১২ বছর আগেও বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে যে নেতিবাচক চিত্র উপস্থাপিত হচ্ছিল, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বগুণে তাতে নাটকীয় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের জ্বালানি সংকটের দেশ মনে করা হতো। অথচ এখন আমাদের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়েও আমাদের সময়োচিত সুনির্দিষ্ট পথনকশা রয়েছে। তবে বিতরণ সমস্যা যে রয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে, শিক্ষায় জেন্ডার সমতা এসেছে। অথচ আগে শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা দেশ হিসেবেই বাংলাদেশ চিহ্নিত হচ্ছিল। এখন তো আমরা শিক্ষার গুণগত মান ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতার জায়গাগুলো নিয়েও সময়োচিত কর্মপরিকল্পনা দাঁড় করাতে পেরেছি। অবশ্য শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে আরো বেশি কাজ করতেই হবে। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদামতো সুদক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য নয়া শিক্ষার ওপর বাড়তি বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

ক্ষুধা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ আজ মঙ্গাকে নিশ্চিহ্ন করে এবং কার্যকরভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করে নিজেকে সারা বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আধুনিক বহু ধাঁচের কৃষির ওপর জোর দিয়েই আমরা এই সাফল্য পেয়েছি। অল্প কয়েক বছর আগেও আমাদের শিল্প খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দুর্ভাবনা ছিল। আর আজ আমাদের কমপ্লায়েন্ট ও সবুজ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো পাল্লা দিচ্ছে চীন ও ভিয়েতনামের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের সঙ্গে। এই একই ধারাবাহিকতায় সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার সময়ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব আমাদের প্রধান পাথেয় হয়ে থাকবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো সুদক্ষতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে রয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই নেতৃত্বের সুফল ঘরে তুলতে পুরো সমাজকে আরো সচেষ্ট হতে হবে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

 



সাতদিনের সেরা