kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

স্মরণ

আমার মাঝে তুমি

নাঈমা সামাদ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আমার মাঝে তুমি

মনে পড়ে আব্বা, একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমরা একসঙ্গে গেলাম?  আমি পড়তে আর তুমি পড়াতে। আমরা যে যার ক্লাসে, এমন সময় গণ্ডগোল শুরু! এরশাদের স্বৈর শাসনামলে যেটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিত্তনৈমিত্তিক। গোলাগুলি হয়েছিল সেদিন। আমি বন্ধুদের সঙ্গে আশ্রয় নিই আমাদের সেমিনার রুমে।

বিজ্ঞাপন

উৎকণ্ঠিত ছিলাম তোমার জন্য! পরিস্থিতি একটু শান্ত হতেই দৌড়ে যাই সাংবাদিকতা বিভাগে, চেয়ারম্যানের ঘরের দরজায় কড়া নাড়ি! তুমি ওই ঘরে ছিলে শিক্ষকদের সঙ্গে, কি যে আশ্বস্ত হয়েছিলাম তোমাকে ওখানে পেয়ে!

তুমি ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে বলেছিলে, ‘কোথায় আমি তোমার খোঁজ করব, না তুমি আমার খোঁজে ছুটে এসেছ!’ তোমার কথায় আমার আশ্বস্ত হৃদয়ে একটু গর্ববোধও যোগ হয়েছিল, নিজেকে দায়িত্বশীল ভেবে! এখন তোমার নাতনি যখন আমাকে আগলে রাখে, আমার পাশে এসে দাঁড়ায়, তোমার কথা অনেক বেশি মনে হয়, মনে হয় তুমিও আমার পাশে।

সেদিন আমরা বাড়ি ফিরেছিলাম দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলাপে। তুমি বলছিলে আর আমি শুধু গোল গোল চোখ করে আগ্রহভরে শুনেছি, আর ভেবেছি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। যেখানে আমার আশার আলো ছিল ধিকিধিকি জ্বলা প্রদীপ, সেখানে তুমি দেখতে পেতে নতুন সূর্যোদয়ের উজ্জ্বল কিরণ। দেশের ব্যাপারে সব সময় আশাবাদী তুমি। যতই জর্জরিত হোক দেশ রাজনৈতিক দমনে, অর্থনৈতিক প্রতিকূলতায় বা সামাজিক অবক্ষয়ে, তোমার লেখায় তার সমাধান খুঁজেছ, দিয়েছও। যে ধারায় দেশ ও দশের মঙ্গল তারই দিকে আহ্বান জানিয়েছ তুমি।

গত দশ বছরে প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ এগিয়ে চলেছে ঠিকই, তবে তোমার মতো দেশপ্রেমিকরা আর কিছুদিন থাকলে আমার বিশ্বাস আরো শক্ত হতো আমাদের অবস্থান। তোমার অগ্রজ মুসা চাচা, ফয়েজ চাচাদের সঙ্গে তোমার নিয়মিত ফোনালাপ মনে পড়ে। তোমার লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে অথবা তোমার রিপোর্ট বিবিসিতে প্রচারের পর লম্বা আলাপ চলত তোমাদের, মূলত দেশ আর রাজনীতি নিয়েই। তুমি বাংলাদেশ টাইমসে কাজ করার সময় সুযোগ পেলে শহীদুল হক চাচাকে নিয়ে চলে আসতে বাসায় হাওয়াই ফাইভও দেখার আশায়!

আম্মা তড়িঘড়ি তোমাদের জন্য খাবারের আয়োজন করতেন। নাকে-মুখে গুঁজে আবার দৌড় দিতে খবরের পেছনে!

তোমরা বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এক স্বর্ণযুগ এনেছিলে আব্বা! দেশকে তার সৃষ্টি থেকে শুরু করে নব্বইয়ে দশকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করায় তোমরা ছিলে নির্ভীক সৈনিকদের কাতারে!

 চাচাদের বলো অনেক ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাঁদের। যেদিন তুমি চলে গেলে, মুসা চাচা এত কেঁদেছিল জানো! খালি বলছিল আমার যাওয়ার পালা খোকনের আগে, ও কেন চলে গেল! এখন হয়তো তোমরা সবাই আছ একে অপরের হৃদয়ের কাছাকাছি, সুন্দর শান্তিময় কোনো স্থানে।

তোমার অনুজ আমিন চাচা, নাফা চাচা আর হাসান চাচাদের তুমি কতই না স্নেহ করেছ! তাঁরা বিভিন্ন সময় তোমার সঙ্গে কাজ করেছেন। তুমি তাঁদের সামাদ ভাই। খবর সংগ্রহ শেষে তাঁরা এসে তোমার সঙ্গে বৈঠক করতেন। তাঁদের কাজে তোমার উত্তেজনা, কখনো বকাবকি—সবই তাঁরা চুপচাপ শুনতেন! অনেক সময় তাঁরা, আম্মা আর আমরা এসব নিয়ে হাসাহাসিও করেছি! তাঁরা হয়ে উঠেছিলেন আমাদের পরিবারের সদস্য, তাঁদের পরিবার ছিল আমাদের বর্ধিত পরিবার। তুমি অনেক খুশি ছিলে তাঁদের সাফল্যে! তোমার সর্বশেষ অনুজ জাকির ভাই তোমার স্মৃতিতে শ্রদ্ধাস্বরূপ ‘আতাউস সামাদ জীবনে ও পেশায়’ সংকলন প্রকাশ করেছেন ২০১৪ সালে। তোমার পড়ার টেবিলটা এখন তিনি ব্যবহার করেন! তোমাদের এই পরস্পর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বৃত্ত, অগ্রজ আর অনুজদের নিয়ে, আজকের দিনে বড়ই কাঙ্ক্ষিত। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার এই বীজ তুমি বপন করেছ আমাদের মাঝেও। জানলে খুশি হবে, আমারও আজ এ রকমই এক বৃত্তের মধ্যে বাস। যার বাসিন্দারা আমরা একে অপরের পাশে, সুখে-দুখে, একে অপরের মঙ্গল কামনায়।

তোমার কথা লিখছি আজ ১০ বছর ধরেই, পাতার পর পাতা, আমাদের জীবন থেকে নেওয়া। তবে তার অনেকটাই আমার মনের খাতায়! কাগজে-কলমে তার অভিব্যক্তি আমাকে এমন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়, যা আজও আমার জন্য অনেক কঠিন। তাই এবার তোমাকেই লিখছি! একসঙ্গেই হাঁটব এ পথ, ছোট ছোট পা ফেলে। প্রথম যেদিন তোমার বিরামস্থান আজিমপুর থেকে প্রার্থনা আর বুকভাঙা কান্না শেষে বাড়ির দিকে পা বাড়াই, মনে হলো তুমি বললে, ‘চল মা, এবার আমি তোর সঙ্গে সব জায়গায় যেতে পারি। ’ তোমার ঢিলেঢালা কর্ডের প্যান্ট আর হাওয়াই শার্ট পরে, পায়ে বাটার স্যান্ডেল। মিনতি করি পাশে থেকো, সাহস জুগিও, তোমার মতো না হলেও যতটা পারি নিজের মতো করে পৃথিবীর ঋণ যেন পরিশোধ করতে পারি।

জানো আব্বা, তুমি চলে যাওয়ার পর আম্মা তোমার অনেক গল্প করেছে, যা জানা ছিল না আমাদের! সত্তরের দশকে যখন আমরা দিল্লিতে থাকি, এক দাওয়াতে গিয়েছিলে তোমরা। ওখান থেকে হঠাৎই অফিসে যেতে হয় তোমাকে। ফিরে এসে আম্মাকে নিয়ে বাড়ি চলে এসেছিলে না খেয়ে। পরে আম্মাকে বলেছিলে, কাজ সেরে ওই বাড়িতে যখন আবার ঢুকছিলে তখন চালক ভাইদের বাইরে খাবার দেওয়া হয়েছিল। ভেতরে গিয়ে টেবিলে সাজানো খাবারের বিশাল আয়োজন আর বাইরের খাবারের মধ্যে এত ফারাক দেখে তোমার খিদে মিটে যায়।

তুমি আসলেও অনেক আবেগপ্রবণ মানুষ! তোমাদের বিয়ের পরপর আম্মার জন্য নাকি কী এক দামি ক্রিম টাকা জমিয়ে কিনে বাড়ি ফিরছিলে, পথে পরিচিত কার সঙ্গে দেখা। সে কেন ব্যাগ হাতড়ে ওই ক্রিমের কৌটা ধরেছিল, তুমি আর সেটা আম্মাকে দাওনি! বুড়ো বয়সেও দেখেছি আম্মার জন্য গরমে পাউডার আর শীতে ক্রিম নিয়ে আসতে তুমি। ঈদে-পরবে সব সময় শাড়ি তুমিই পছন্দ করে উপহার দিয়েছ আম্মাকে, তোমার আর আম্মার পছন্দ ছিল একই! কোনো এক বিদেশি সিনেমা দেখে আম্মাকে আবেগাপ্লুপ্ত হয়ে কথা দিয়েছিলে, আমরা কোনো দিন sayonara (জাপানি ভাষায় বিদায় বলা) বলব না। যাওয়ার সময় তা আর বলার সুযোগও হয়নি তোমার। আর আম্মাও তড়িঘড়ি পাট গুটিয়ে ওপারে পাড়ি জমালেন তোমাকে সঙ্গ দিতে। বিধাতা তোমার কথা শুনেছেন বোধকরি।

জানি, তুমি অনেক ইতিহাসের সাক্ষী! তার বেশ কিছু আমাদের জন্মের আগে অথবা আমাদের অনেক ছোটবেলায় ঘটা। যেমন—বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তোমার বিশেষ কিছু মুহূর্ত তোমার লেখায় পড়েছি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানির সময়, আবার একাত্তরের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায়। যে সন্ধ্যায় তিনি তোমাকে বলেছিলেন, ‘I have given you independence, now go and preserve it!’ মনে হলেও আমার গায়ে

কাঁটা দেয়! বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর লন্ডন আর দিল্লি হয়ে দেশে ফেরার সময় দিল্লি থেকে তুমি তাঁর সঙ্গে প্লেনে যোগ দিয়েছিলে। খুব কাছে থেকে দেখে লিপিবদ্ধ করেছ তাঁর আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া! তখন থেকে ২০১২ পর্যন্ত দেশের কত মাইল ফলকে দেখি তোমার চিহ্ন! যেমন—রাজনীতির অঙ্গনে তেমন দেশের সাধারণ মানুষের পাশে। উড়িরচরে সাইক্লোনের পর, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে, বন্যার্ত মানুষের সংগ্রামে, স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে, আরো কত জায়গায়! দেশও তোমাকে ভালোবেসে ভূষিত করেছে একুশে পদকের সর্বোচ্চ সম্মানে। তুমি বিনম্র কৃতজ্ঞ প্রাণে যা গ্রহণ করেছ। দেশের জন্য তোমার ভালোবাসা আর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আরো যত পদক আর মেডেল তোমার লাজুক ঝোলায়, তা আজ অনুপ্রাণিত করুক পরবর্তী প্রজন্মকে এই আশা করি। আমাদের ছেলে-মেয়েদের অনুপ্রাণিত করি তাঁদের নানার/দাদার জীবনাদর্শ আর জীবনাচরণকে পাথেয় করার। তোমার মতো নরম, সমবেদনশীল আর কৌতূহলী মন, অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন ব্যক্তিত্ব, বেশ অনেকটা দুঃসাহসিকতা, বিনম্র স্বভাব আর অক্লান্ত পরিশ্রমের স্পৃহা তাঁদের মধ্যে গড়ে উঠলে পৃথিবীর যেকোনোখানেই তাঁরা ভালো থাকবেন, ভালো করবেন, সবাইকে নিয়ে।

তবে তাদের এও বলি, ন্যায় আর সত্যের পথ সরল হলেও সহজ নয় সব সময়।

স্বৈরাচারী এরশাদের একের পর এক মিথ্যাচার তোমার বিবিসির রিপোর্টে উন্মোচিত হওয়ায় না পেরে তোমাকে অন্যায়ভাবে ১৯৮৭ সালে কারাবন্দি করে তারা। ভুলিনি সেই রাত, সেই দিনগুলো। তোমার পরিবার, তোমার বন্ধুরা, তোমার দেশ ছিল তোমার সঙ্গে। রাখতে পারেনি বেশিদিন তোমাকে কারারুদ্ধ করে। বহু বছর পর পাড়ার এক বন্ধুর সঙ্গে স্মৃতিচারণায় বন্ধুটি বলে, সে আর তার মা জেল হাসপাতালে তোমাকে দেখতে গিয়েছিল। তুমি নাকি তাঁকে অবাক করে ক্ষমা চেয়েছিলে, তোমাকে গ্রেপ্তারের রাতে সারা পাড়া জাগিয়ে পুলিশ ঘেরাওয়ের জন্য। বন্ধুটি আরো বলে যে মাঝেমধ্যেই সকালে ওদের স্কুলে যাওয়ার সময় তুমি রিকশা করে বাজার থেকে ফিরতে, তখন রিকশা থেকে নেমে রিকশা পাঠিয়ে দিতে ওদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ছোটবেলার সেই মিষ্টি স্মৃতি এত দিন পর দেখা হওয়ায় জানাল আমায়। আমার বন্ধুরা অনেক ভালোবাসে তোমাকে, সব সময় মনে করে। এত ব্যস্ততার মাঝেও তুমি তাদের সঙ্গে গল্প করতে। কারো সঙ্গে তাদের কাজ নিয়ে, কারো সঙ্গে তাদের ছেলেপিলে নিয়ে, কারো সঙ্গে সমাজ- সংস্কৃতি নিয়ে।

অনেক নামিদামি, মানি-গুণীর সঙ্গে তোমার ওঠাবসা থাকলেও এই সুন্দর মনের, খ্যাপাটে ভাবের, নিষ্পাপ হাসির আমার আব্বা তুমি। আমার কাছে তুমি স্কুলে পড়ালেখা নিয়ে বার্ষিক বকুনি দেওয়া আব্বা। প্রতি ঈদে নামাজ থেকে এসে আমাদের নিয়ে নাশতা করা আব্বা, অনেক রকম মাছ বাজার করতে পছন্দ করা শৌখিন আব্বা। ভাগ্নে-ভাতিজাদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পৃথিবীর তামাম বিষয় নিয়ে গল্প করতে ভালোবাসা আব্বা। জীবনের শেষ কটা বছর একনিষ্ঠভাবে আমার ছোট বোনকে তার ছবি আঁকায় অনুপ্রেরণা জোগানো আব্বা। আমার ভাইয়ার সঙ্গে খুনসুটি লেগে থাকা অথচ তার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গর্বিত আমার আব্বা। ফুপ্পিদের আদরের খোকন আর কাক্কুর প্রিয় ছোট ভাই আমার আব্বা। আমার আম্মাকে আজীবন প্রাণঢালা ভালোবাসা দিয়ে ঘিরে রাখা আব্বা তুমি।

একেবারে আমার পছন্দের বিপরীত রঙিন জামা কিনে দেওয়া, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার সময় হলের বাইরে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, বাংলাদেশের বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল বাঘশিকারি পচাব্দি গাজিকে আমাদের মাঝে এনে সাক্ষাৎকার নেওয়া আব্বা তুমি। তুমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার সময় আদর করে দেওয়া আর সাজগোজের অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাকে বক্তৃতা দেওয়া আব্বা। আমাকে কর্মক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করা আব্বা। আমার বিয়ের সময় আমার হবু স্বামীর একান্তে সাক্ষাৎকার নেওয়া, আমার মেয়েকে একেবারেই কোলেপিঠে করে মানুষ করা, সবুজ ঘাসে খেলতে নিয়ে যাওয়া, জলে ঢিল মেরে ঢেউ তোলা, গাছে চড়ানো, নাতনির জন্য মুরগি আর খরগোশ পালা আব্বা তুমি। কখনো কষ্টে, অভিমানে ডুকরে ওঠা মন কেঁদে বলে আর আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়া আব্বাও তো তুমি! পরক্ষণেই নিজেকে শুধরাই! বিধাতার বিধানে আমাদের আগমন আর প্রস্থান। বৃথা অভিমান কাটিয়ে স্রষ্টার কাছে তোমার আর  আম্মার জন্য সব মঙ্গল ও চিরশান্তি কামনা করি। আর কৃতজ্ঞতা জানাই নত শিরে, তোমাকে আমার প্রাণের মাঝে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। চিরদিন।

লেখক: সাংবাদিক আতাউস সামাদের মেয়ে



সাতদিনের সেরা