kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পিতৃহত্যার দায় ও অভিশাপ

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



পিতৃহত্যার দায় ও অভিশাপ

আজকে লেখার শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস, স্বাধীন দেশের যাত্রা শুরুর কথা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন মৌলিক আদর্শ ও দর্শন জানতে আগ্রহী হলে সর্বত্র যে নামটি একজন পাঠক পাবেন তাঁর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা, বাংলাদেশের স্থপতি এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের সংগ্রাম, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ—সব কিছুতে তিনিই ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী, নেতা, পরিচালক, অনুঘটক ও অনুপ্রেরণার স্থল।

বিজ্ঞাপন

জীবিত মুজিবের চেয়ে শারীরিকভাবে মৃত মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে এখনো বাংলাদেশকে রক্ষা করে চলেছেন।

বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে স্বাধীনতার প্রবর্তক ও প্রতিরক্ষক। শারীরিকভাবে একজন মানুষ না থাকলেও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, দর্শন ও কর্ম এবং সেখান থেকে ঝরনাধারার মতো প্রবাহিত চেতনা কত শক্তিশালী হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ বঙ্গবন্ধু এবং বর্তমানের বাংলাদেশ। তথ্য-উপাত্তসহ ইতিহাসের নির্মোহ বিচার-বিশ্লেষণ যেভাবেই করা হোক না কেন, শেখ মুজিবের নাম উচ্চারিত হবে উজ্জ্বল রঙিন বর্ণচ্ছটায়। স্বাধীনতা রক্ষাসহ রাষ্ট্রের উন্নতি এবং মানুষের সব বঞ্চনা ও বৈষম্য থেকে মুক্তির একমাত্র অবলম্বন বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জ্ঞানতাপস জাতীয় অধ্যাপক প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের কিছু কথা প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতে চাই। ধর্মীয় উগ্রতার বলি অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ ১৯৮৪ সালে জ্ঞানতাপসের একটি সাক্ষাৎকার নেন। সেই সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘জাতির পিতা ধারণাটি দিয়ে বোঝানো হয়ে থাকে যে একটি লোকের মধ্যেই জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে ওঠে। একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং আরো বহু ব্যাপার সংক্ষেপে জড়ো হয় ওই একটি শব্দবন্ধে। ওয়াশিংটনকে যখন বলা হয় আমেরিকার জাতির পিতা, গান্ধীকে ভারতের, জিন্নাহকে পাকিস্তানের—তখন শুধু এটাই বোঝানো হয় যে ওই কয়েকজন মানুষ স্বাধীনতা লাভের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানও ওই অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। একাত্তরের পঁচিশ মার্চের পরে তিনি বাংলাদেশের এক হাজার মাইলের মধ্যেও ছিলেন না, তবু সাধারণ ও একেবারে সাধারণ নয়, এমন মানুষ তাঁর কথা ভেবেই অনুপ্রাণিত হতো। যদিও তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন না, তবু তিনিই সব কিছুর কেন্দ্রে আছেন বলে মনে করা হতো। ’ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জ্ঞানতাপস বলেন, ‘কেউ যখন নিহত হন, তখন বুঝতে হবে তিনি কোনো না কোনো উপায়ে বিশেষ কারো বিরাগভাজন হয়েছিলেন, কারো স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছিলেন। লিংকন, গান্ধী বা শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, তাঁরা একদলকে শত্রুতে পরিণত করেছিলেন। এ হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে না যে ওই ব্যক্তিরা খারাপভাবে শাসন করেছিলেন বা বহু ভুল করেছিলেন। মুজিবের সম্পর্কেও তাই। ’

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক যেমনটি বলেছেন, কাদের কাছে বঙ্গবন্ধু শত্রুতে পরিণত হন—এটাই প্রথমে দেখা যাক। প্রথমত, পাকিস্তান, বিশেষ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দ্বিতীয়ত, বাঙালি, যাঁরা বাংলাদেশ চাননি; জামায়াত, মুসলিম লীগের তিন গ্রুপসহ সব উগ্র ইসলামপন্থী দল। তৃতীয়ত, আরেকটি পক্ষ ছিল, যারা না পশ্চিমের, না পূর্বের। এঁরা হলেন—সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ সার্ভিসসহ অন্যান্য সেক্টরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যাঁরা যুদ্ধের পুরোটা সময় ঢাকাসহ সারা দেশে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করেছেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ১৩ জন বাঙালি সচিবের একজনও মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেননি। সবার জন্যই ৯ মাসজুড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের অবাধ সুযোগ ছিল। এর পেছনে সম্ভাব্য দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, হতে পারে তাঁরা বাংলাদেশ চাননি অথবা ছিলেন চরম ভীতু ও কাপুরুষ, যাঁরা সারা জীবন ওপরে ভেসে ওঠা মাখন খেতে অভ্যস্ত; কিন্তু মাখন তুলতে পরিশ্রম করতে রাজি নন। সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ, সুযোগসন্ধানী ও বৃহত্তর জনমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন এসব ব্যক্তি এক রাতের ব্যবধানে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর পরম বিশ্বস্ত সহযোগী থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সব বড় পদে আসীন হয়ে যান। মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা, নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নয়, কোনো বিকল্প না থাকায় নতুন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এটাকে বলা হয় অ্যাকসিডেন্টালি আনুগত্য। পরবর্তী সময়ে স্বল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মনোভাব পরিবর্তন হতে দেখেছি, এটা ছিল ব্যতিক্রম মাত্র। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মুুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে যাঁরা পরাজিত পাকিস্তানের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ছিলেন, তাঁদের মনে মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক বিষয়ের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতা, প্রতিহিংসা ও হীনতা কাজ করবে—সেটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং ওপরে বর্ণিত প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ এই তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে সহজেই যোগসাজশ স্থাপনে সক্ষম হয়। তখন তিন পক্ষের সম্মিলিত লক্ষ্য হয়ে যায় এক ও অভিন্ন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পুলিশের আইজি, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডিজি এনএসআই, ডিজিএফআই, পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা, এসবির প্রধান—সবাই উল্লিখিত গোত্রভুক্ত ছিলেন। একটি মাত্র উদাহরণ দিই। ১৯৭৪ সালে খাদ্যাভাবে যখন দুর্ভিক্ষ হয়, তখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন আবদুল মোমেন খান। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি হয়ে গেলেন খাদ্যমন্ত্রী। তার মানে কি এই দাঁড়ায় না যে খাদ্যসচিব হিসেবে দুর্ভিক্ষ ঘটাতে পেরে ভালো কাজ করেছেন বলেই তিনি প্রমোশন পেয়ে খাদ্যমন্ত্রী হলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় সরাসরি জড়িত ফ্রন্টলাইনে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেজর ফারুক ও মেজর রশিদ। পরে জিয়াউর রহমান তাঁদের লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। মেজর রশিদ একাত্তরে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে নভেম্বরের শেষ দিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছুটিতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধের এই শেষ মুহূর্তে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারকে যখন ছুটি দেওয়া হয়, তখন নিশ্চিতভাবে বুঝতে হবে তাঁকে ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক প্লান্টেড করা হয়েছে। মেজর ফারুকের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি একাত্তরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কর্মরত ছিলেন, ইচ্ছা করলে অনেক আগে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করতে পারতেন। কিন্তু এলেন ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে। তারপর সূক্ষ্ম পরিকল্পনার আওতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগে দুজনই ঢাকা সেনানিবাসের ট্যাংক ও গোলন্দাজ বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তাঁদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান সন্দেহজনক, রশিদ-ফারুক সম্পর্কে ভায়রা, দুজনেই মেজর অবস্থায় প্রায় একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা সেনানিবাসের কমান্ডিং অফিসার হলেন; এগুলোকে কি স্বাভাবিক বলা যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু বুঝলেন না।

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতের মধ্যপ্রহরের পরপরই ঢাকা সেনানিবাস থেকে ট্যাংক ও গোলন্দাজ বাহিনী ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। বঙ্গবন্ধু নিহত হন ওই রাত ভোর ৫টার পর। চার-পাঁচ ঘণ্টা ধরে এত কাণ্ড ঘটছে, অথচ এনএসআই, ডিজিএফআই, এসবি, কেউ টের পেল না, কারো মনে প্রশ্নের উদ্রেক হলো না। তাহলে কি আমার আগের কথার যথার্থতাই প্রমাণিত হয় না যে ওই তিন পক্ষ সবাই এক হয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, জাতির পিতার হত্যার দায় কি শুধুই খুনিদের। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মেজর জেনারেল মঈনুল হুসেন চৌধুরী বীরবিক্রম ১৯৭৫ সালের ওই সময়ে ঢাকা সেনা সদরে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদে ছিলেন। তিনি একটা বই লিখেছেন, যার শিরোনাম ‘দ্য সাইলেন্ট উইটনেস বাই আ জেনারেল’। তিনি স্বচক্ষে সব দেখেছেন। ওই বইয়ের ৭৫-৭৯ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সেনা আইনের ৩১ ধারা মতে, খুনিরা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন, একই সঙ্গে তখন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কমান্ডিং কর্তৃপক্ষের সবাই নীরবে সব কিছু মেনে নিয়ে একই রকম রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন। কোনো অজুহাতেই নীরব থাকার সুযোগ নেই। জেনারেল মঈন আরো বলেছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লিখিত সেনা কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা ছিল, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিদ্রোহ দমন করা, সেটা না করা ছিল বড় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। তখন কেউ যদি বলে, আর যাতে রক্তপাত না হয় তার জন্য সবাই নীরব থেকেছে। কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রের সব কিছুকে বিনাশ করবে, আর বাকিরা সব রক্তপাতের ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। এসব কথা যাঁরা বলেন তাঁরা হত্যাকারীদেরই সঙ্গী।

কেউ কেউ বলেন, তাতে কি জাতির পিতাকে ফিরে পাওয়া যেত? এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। বিদ্রোহ হয়েছে, সেটাকে দমন করতে হবে, দ্রুত বিচার হতে হবে—এটাই সভ্য জগতের কথা। তার সঙ্গে এ কথাও অকাট্য সত্য—রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমগ্র জাতিকে জাতির পিতাকে রক্ষা করতে না পারার দায় নিতে হবে। কেউ দায় এড়াতে পারেন না। যে মানুষটি সারা জীবন সব কিছু ত্যাগ করে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য মৃত্যুকে পরোয়া না করে সংগ্রাম করলেন; সেই সংগ্রামে সফল হলেন, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের যাত্রাও শুরু করলেন। সেই মহান নেতা, জাতির পিতাকে হত্যার যে দায় তার পরিণতিতে সমগ্র জাতি প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই অভিশপ্ত হয়ে আছে। সেই অভিশাপের স্বরূপ সবাই দেখেছি। এত বড় গর্বের বাংলাদেশ সারা বিশ্বে খুনি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হলো। কারণ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়ে সব খুনিকে আইনের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তি থেকে মুক্ত করে দিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দিলেন, তাঁরা পদোন্নতিও পেলেন।

যেখানে স্বঘোষিত খুনিরা পুরস্কৃত হয়, সেখানে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। ২৩ বছর ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথে পথে যেসব গৌরবোজ্জ্বল চিরন্তন অনুপ্রেরণাদায়ী ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে তার সব কিছু রাষ্ট্রের সব অঙ্গন থেকে বিনাশ হতে থাকে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাহাত্তরের সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-দর্শন বলতে যা কিছু বোঝায় তার সব শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদ বাতিল হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ও এক নম্বর মৌলিক আদর্শ নিরপেক্ষতা বাতিল হয়ে যায়। ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি ফিরে আসে। একাত্তরে পরাজিত জামায়াত, মুসলিম লীগসহ সব পাকিস্তানপন্থী একসময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ২০০১-০৬ মেয়াদে জামায়াতি নেতারা মন্ত্রী হয়ে বলতে থাকেন, একাত্তরে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। একসময়ে স্লোগান উঠেছে—আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান। সাম্প্রদায়িকতার চরম উত্থান ও বিস্তার কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। এর থেকে বড় অভিশাপ বাংলাদেশের জন্য আর কী হতে পারে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু জাতির পিতা, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, একাত্তরের মুজিবনগর সরকার ও বাহাত্তরের সংবিধান যারা সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে, তারা এখনো প্রবল প্রতাপে রাজনীতিতে বহাল। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি বাংলাদেশে যত দিন বহাল থাকবে, তত দিন পিতৃহত্যার অভিশাপ থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব না।

 

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

[email protected]



সাতদিনের সেরা