kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কিংবদন্তি গাফ্‌ফার ভাই স্মরণে

ড. আতিউর রহমান

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কিংবদন্তি গাফ্‌ফার ভাই স্মরণে

শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে অতল সাগরে ভাসিয়ে চলেই গেলেন। এই চলে যাওয়া একদম মেনে নিতে পারছি না। আমার ধারণা, আমার মতো আরো অনেকেরই এই কষ্ট হচ্ছে। বললে ভুল হবে না উদারনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক, দুর্নীতিমুক্ত এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আদলের বাংলাদেশের জন্য পুরো ৫০ বছরই দুই হাতে লিখেছেন।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং একাত্তরে তাঁর কলমযুদ্ধের কথা না-ই বা বললাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুসহ স্বাধীন দেশের স্থপতিদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। বিদেশে থেকেও তিনি মানবতাবিরোধী এই অপরাধের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যাদের অভিভাবক হিসেবে স্নেহ ও সাহস জুগিয়েছেন। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে অবিরাম লিখে গেছেন। বলে গেছেন। এমনকি বর্তমান সরকারি দলের সুবিধাবাদীদেরও তিনি ছেড়ে কথা বলেননি। আর যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধী তাদের তো তিনি বরাবরই তুলাধোনা করে গেছেন। অসুস্থ শরীরেও তিনি নিরন্তর লিখে গেছেন। বলে গেছেন। গাফ্ফার ভাইয়ের কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আরেকটি কারণে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর তিনি আমার গবেষণাকর্ম ‘নান্দনিক বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েও বিস্তারিত একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিতব্য এই নামের বইটিতে সেটি লিপিবদ্ধ করেছি। দুর্ভাগ্য, আমরা তাঁকে বইটি দেখাতে পারলাম না।

সম্প্রতি অনেক ওয়েবিনারে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। সর্বশেষ ওয়েবিনারে দেখলাম তিনি বেশ অসুস্থ। কিন্তু মনের জোর ছিল প্রবল। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে তাঁর সামান্য দুর্বলতা চোখে পড়েনি। মনে হয়, মনের জোরে তিনি আরো যেন বলীয়ান হয়ে উঠতেন এসব আলোচনার সময়। এ ছাড়া তিনি ছিলেন আমার এবং আমার স্ত্রীর আত্মার আত্মীয়। সুখে-দুঃখে আমাদের ভরসার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরেই শুনছিলাম গাফ্ফার ভাই হাসপাতালে। কয়েক সপ্তাহ আগেও একটি ওয়েবিনারে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন। কথা স্পষ্ট। তবে বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। অনেক দিন ধরেই তিনি একা চলাফেরা করতে পারছিলেন না। এই শরীর নিয়েই সর্বক্ষণ লিখে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের ভালো কী করে হয়, সেসব নিয়েই নিরন্তর লিখেছেন। একেক সময় মনে হতো, তিনি যেন পুরো দেশটাকেই কাঁধে নিয়ে চলছেন। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকেও কথা বলেছিলেন। ভেবেছিলাম, তত দিনে অনেকটাই ভালো হয়ে উঠেছেন।

গাফ্ফার ভাইয়ের কাছের মানুষদের কাছ থেকে জেনেছিলাম, তাঁর শরীরটা আসলেই ভালো যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিস ওঠানামা করছিল। অক্সিজেন ও নেবুলাইজার নিতে হচ্ছিল। ক্যাথেটার ব্যবহার করতে হচ্ছিল। কিডনি দুটিই প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছিল। ফুসফুসে সমস্যা ছিল। পানি জমেছিল। বের করে নেওয়া হয়েছিল। কথাও স্পষ্ট করে বলতে পারছিলেন না। তাঁরা জানিয়েছিলেন, যখন কথা বলতে পারছিলেন তখনই আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে স্মরণ করছিলেন। মাসখানেক আগে আমরা দুজনেই তাঁর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছিলাম। তাঁদের কথা শুনে মনটা খারাপই হয়ে গিয়েছিল। টেলিফোন করেছিলাম।

কথা শেষ করেই হারিয়ে গিয়েছিলাম গাফ্ফার ভাইয়ের সঙ্গে থাকা অসংখ্য স্মৃতির সমুদ্রে। ঢাকায় যখন তিনি সাংবাদিকতা করতেন, তখন তাঁর কলাম পড়তাম। সামনাসামনি পরিচয় লন্ডনে। কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোয়াসে গিয়েছিলাম। ১৯৭৮-এর শেষ দিকে মাস্টার্স শুরু করি। তখনই জানতে পারি গাফ্ফার ভাই ‘বাংলার ডাক’ পত্রিকাটি প্রকাশ ও প্রচার করছেন। দেশে তখন জিয়াউর রহমানের শাসনামল। জিয়াউর রহমান লন্ডনে গেলে গাফ্ফার ভাই কালো পতাকা দেখিয়েছিলেন। পত্রিকা ও নিজের সংসার চালানোর জন্য প্রবাসী বাঙালিদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছিলেন। পূর্ব লন্ডনের ‘ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি’ স্টোরে হিসাবপত্র দেখে দিতেন। আমিও তখন বিবিসি বাংলা বিভাগে আউটসাইড কন্ট্রিবিউটর হিসেবে পার্টটাইম কাজ করি। হঠাৎ একদিন গাফ্ফার ভাইকেও দেখলাম, আমারই মতো বিবিসিতে পার্টটাইম কাজ করতে এসেছেন। আদর্শের মিল থাকায় পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা হতে সময় লাগল না। একসঙ্গে অনুষ্ঠান করি। লাঞ্চ খাই। আড্ডা মারি। তখন আমি আরেক প্রবাসী মুক্তি সংগ্রামী ডা. মাহবুব তালুকদারের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক জাগরণে লিখছি। শনিবার দুপুরে বিবিসির কাজ সেরে রাসেল স্কয়ারের কাছেই একটি কমিউনিটি সেন্টারের বেইসমেন্টে বসি। ডা. হাসানও আমাদের সঙ্গে কাজ করেন। তিনি গাফ্ফার ভাইয়ের ‘বাংলার ডাক’ এবং পরবর্তী সময়ে ‘নতুন দিন’-এ কাজ করতেন। আমরাই ডা. তালুকদারকে বললাম গাফ্ফার ভাইয়ের লেখা ছাপতে। তিনি রাজি হলেন। প্রায় নিয়মিতই লিখতেন। আমি পিএইচডি শেষ করে চলে আসার আগ দিয়ে তালুকদার সাহেবকে বললাম, গাফ্ফার ভাইকে পুরোপুরি তাঁর পত্রিকায় নিয়ে আসতে। তিনি কথা রেখেছিলেন। গাফ্ফার ভাই-ই ওই সময় জাগরণের প্রকাশনার ভার নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী দুজন মানুষ ভালোভাবেই কাগজটি চালাচ্ছিলেন। আমি দেশে চলে এলাম। লন্ডনে গেলে অবশ্যই গাফ্ফার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতাম। তিনি পণ করেছিলেন, সেনা শাসনাধীন বাংলাদেশে আসবেন না। দীর্ঘ ২২ বছর বাদে বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর এসেছিলেন।

লন্ডনে থাকার সময় আমার স্ত্রী পাপড়ি কয়েক মাসের জন্য ছিলেন। এই সময়টায় গাফ্ফার ভাই সময় পেলেই আমাদের ফ্ল্যাটে চলে আসতেন। আমার স্ত্রীর হাতের রান্না খুব পছন্দ করতেন। আর বিরামহীন আড্ডা। পরবর্তী সময়ে দেখা হলেই সেই সব স্মৃতি রোমন্থন করতেন। মাসখানেক আগেও বলেছিলেন সেসব কথা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএসএমএমইউয়ে অনলাইনে বক্তৃতা করেছিলেন আমার স্ত্রীর অনুরোধে। তিনি তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ছিলেন।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়টা খুবই হতাশাজনক। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ তখন হাঁটছিল ‘উদ্ভট উটের পিঠে’ অন্ধকারপানে। এমনই এক সময়ে হঠাৎ করেই গাফ্ফার ভাইকে পেয়ে গিয়েছিলাম নিউ ইয়র্কে হাসান ফেরদৌসের বাড়িতে। সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। পর পর দুই দিন তুমুল আড্ডা। বিষয় ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’। একদল বলেছিলেন, এই অন্ধকার টানেল থেকে আর বাংলাদেশ বের হতে পারবে না। গাফ্ফার ভাই, আমি, সায়ীদ স্যারসহ আমরা অনেকেই বলেছিলাম যে এই আঁধার কেটে যাবে। তারুণ্যের ওপর ভর করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ফের হাঁটবে সম্মুখপানেই। এই আড্ডা নিয়ে গাফ্ফার ভাই, সায়ীদ স্যার এবং আমি পত্রিকায় লিখেছি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি নিবেদিত সেই গাফ্ফার ভাই শেষ পর্যন্ত সমান তালে সজাগ ও সক্রিয় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। বহুবার তিনি আমাদের ঢাকার বাসায় এসেছেন। খেয়েছেন। আড্ডায় অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকেও এসেছিলেন। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে খুবই স্নেহ করতেন। আমি অবসরে যাওয়ার পরও তিনি আমাকে তরুণ অর্থনীতিবিদ বলে লিখেছেন। আমি খুশিই হতাম। এমন স্নেহমাখা সম্বোধন আর কে করবেন? আমার সুদিনে ও দুর্দিনে সমানভাবেই তিনি আমার পাশে ছিলেন। আমার ওপর যখন কিছু মুখোশধারী ‘ভালো মানুষ’ নির্দয় আক্রমণ করেছিলেন, তিনি সেদিন তাঁর কলমকে নাঙ্গা তরবারি বানাতে ভুল করেননি। এর পরও বহুবার বহু লেখায় তিনি আমার গরিবহিতৈষী কাজগুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন। এই শুভজন সর্বদাই শুভ চিন্তাই করতেন। স্নেহের চাদরে আমাদের ঢেকে রাখতেন।

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যার বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান সরকারের কোনো নীতি বা কাজে ব্যত্যয় দেখলে স্পষ্ট করেই বলে ফেলতেন। এটিই তাঁর বৈশিষ্ট্য। সত্যিকারের স্বাধীন সাংবাদিকতার সিংহপুরুষ ছিলেন তিনি। নিজে মাদরাসায় পড়েছেন। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা তথা অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে একচুলও ছাড় দেননি। অভিভাবকের মতো পুরো সমাজকে তিনি সচেতন করে দিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলতেন। এবারের দুর্গাপূজা ঘিরে যেসব অনাচার ও মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটে গেল, গাফ্ফার ভাই সুস্থ থাকলে কী প্রবল প্রতিক্রিয়া জানাতেন—তা শুধু অনুমানই করা যায়। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার আগেই সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেভাবে বিনষ্ট হয়েছিল তাতে বাংলাদেশের হৃদয়টাই যে ভেঙে গিয়েছিল। সেই সময় গাফ্ফার ভাই এবং তাঁর বন্ধু ওয়াহিদুল হক কী প্রতিবাদটাই না করেছিলেন! তাঁদের সেদিনের সেই কলমযুদ্ধের ফলেই মুক্তিকামী মানুষের মন ভেঙে পড়েনি। এর সাত বছর পর ওয়াহিদ ভাইয়ের মৃত্যুর পর গাফ্ফার ভাই পর পর কয়েকটি কলাম লিখেছিলেন তাঁর সাংস্কৃতিক লড়াই নিয়ে। রবীন্দ্রসাধক অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক ওয়াহিদ ভাইকে নিয়ে তাঁর লেখাগুলো এখনো অন্তরে বাজে। একইভাবে তিনি কবি শামসুর রাহমান থেকে শুরু করে যাঁদেরই প্রয়াণ হয়েছে তাঁদের নিয়ে লিখেছেন। ছিলেন তিনি এক জীবন্ত উইকিপিডিয়া। কত তথ্য, কত স্মৃতি এবং কত ব্যাখ্যা তাঁর লেখায় পেয়েছি। বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাস লিখতে গেলে গাফ্ফার ভাইয়ের এসব লেখা অমূল্য উপকরণ হিসেবে কাজে লাগবে। জানি না কোনো গবেষক তাঁর সব কলাম গ্রন্থিত করে অনেক খণ্ডে ভবিষ্যতের গবেষকদের জন্য প্রকাশ করবেন কি না। তা না হলে এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ অথবা পিআইবি এ কাজ নিশ্চয়ই করতে পারে।

গাফ্ফার ভাইকে আমরা সাংবাদিক হিসেবেই বেশি জানি। কিন্তু তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি হতে পেরেছিলেন একুশের সেই অমর গানটি লিখে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’ এই গান এখন সারা বিশ্বে একুশের স্মৃতিবিজড়িত এক অমর সৃষ্টি হিসেবে সমাদৃত। নিশ্চয় হাজার হাজার বছর ধরে উচ্চারিত হবে এই গান। তিনি লেখক হিসেবেও কম যাননি। তাঁর লেখা ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘নাম না জানা ভোর’, ‘নীল যমুনা’, ‘শেষ রজনীর চাঁদ’, ‘কৃষপক্ষ’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘সুন্দর হে সুন্দর’, ‘ডানপিটে শওকত’ বাংলাদেশ সৃষ্টির আগেই প্রকাশিত হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশিত তাঁর সম্পাদনায় ‘বাংলাদেশ কথা কয়’, ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’, ‘আমরা বাংলাদেশী নাকি বাঙালি’ ছাড়াও অসংখ্য সংকলনে, ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা ও সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তিনি একাত্তরে ‘জয় বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ‘পূর্বদেশে’ লিখেছেন ‘নিরুদ্দিষ্ট নয় মাস’। বাংলাদেশের কত পত্রিকায় যে তাঁর লেখা ছাপা হতো তা বলে শেষ করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গেও একটি কাগজে নিয়মিত তাঁর লেখা বের হতো। লেখালেখির জন্য তিনি সব জাতীয় পুরস্কারই পেয়েছেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন থেকেও পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় পুরস্কার—তিনি বঙ্গবন্ধু ও এ দেশের অগুনতি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হতে পেরেছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশের উন্মেষকালে তাঁর অমর সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ আমাদের ভাষা ও বাঙালির প্রতি দায়বদ্ধ রাখতে বিরাট ভূমিকা পালন করে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। শারীরিকভাবে চলে গেলেও তিনি থাকবেন মুক্তমনা মানুষের অন্তরজুড়ে। তিনি যে ছিলেন বাঙালির বড় আপনজন। আগামী দিনেও তাই-ই থাকবেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক



সাতদিনের সেরা