kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

ইউক্রেন সংকট সমাধান অনিশ্চিত

অনলাইন থেকে

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউক্রেন সংকট সমাধানের সামান্য প্রত্যাশা জাগিয়ে গত সপ্তাহটি শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ হয়েছে আরো বেশি হতাশার মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যদের মধ্যে তিন দফা আলোচনায় ইউক্রেন সংকটের জাদুকরী সমাধান মিলবে—এমনটা কেউই বিশ্বাস করেনি। তার পরও দেশটির সীমান্তের কাছে এক লাখ রুশ সেনা মোতায়েন, অস্ত্রশস্ত্র মজুদ ও মস্কো থেকে ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির কারণে এমন একটা আশা ছিল যে এই আলোচনাগুলো অন্তত ভ্লাদিমির পুতিনের অভিপ্রায় সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে এবং তাকে উত্তেজনার তীব্রতা কমিয়ে আনার একটা উপায় বাতলে দেওয়া যাবে।

বেশ কয়েক দিনের সংলাপের পরও ফল না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিমর্ষ।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিবিগনিভ রাউ সতর্ক করেছেন যে ইউরোপ তিন দশক পর যুদ্ধের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছে। ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পর এবং ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) আলোচনা শেষ হওয়ার আগে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছিলেন, সব পক্ষই একটি নিষ্ফল উপসংহারে উপনীত হয়েছে।

আলোচনাগুলো যখন চলছিল, রুশ সেনা সরবরাহ তখনো অব্যাহত ছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান অভিযোগ করেছেন, সংকটকে বাড়িয়ে দিতে রাশিয়া গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ইউক্রেন দাবি করেছে, দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটগুলো রাতারাতি ব্যাপক সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এর পরপরই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সাংবাদিকদের বলেন, মস্কোর ‘ধৈর্য ফুরিয়ে এসেছে’। আর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে অভিযোগ হচ্ছে, রাশিয়া একটি ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশনের (ছদ্মবেশী আক্রমণ) জন্য ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের প্রস্তুত রেখেছে, যাতে রুশ আক্রমণের অজুহাত তৈরি করা যায়।

ওয়াশিংটন ও মস্কো কখনোই একে অপরের মূল দাবির সঙ্গে একমত হবে না। রাশিয়ার দাবি হচ্ছে, ন্যাটোকে অবশ্যই পূর্বাঞ্চলে নতুন সদস্যদের জন্য তার দরজা বন্ধ করতে হবে এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র ফিরিয়ে নিতে হবে। অথচ মস্কো ঠিকই জানে যে ন্যাটোর ইউক্রেন ও জর্জিয়া পর্যন্ত যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই; কিন্তু সেটা ন্যাটো প্রকাশ্যে বলতেও পারবে না। আর যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হচ্ছে, রাশিয়াকে ইউক্রেনের সীমানা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত অর্থেই ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ও সামরিক মহড়ার বিষয়ে বিশেষ মনোনিবেশ করেছিল, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে আনতে এবং রাশিয়াও আগ্রহী হতে পারে। কিন্তু এসব উদ্যোগ পুতিনের কাছে দ্বিতীয় সারির গুরুত্বের মধ্যে স্থান পেয়েছে। এর চেয়ে বরং ন্যাটোর প্রভাবের ক্ষেত্র সংকোচনে বাধ্য করতে এবং এর সম্প্রসারণ নিয়ে মস্কোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ইউক্রেন নিয়ে অচলাবস্থা দূর করতেই তাকে বেশি উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে। এ অচলাবস্থাই রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল ও ডনবাসে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। ২০১৫ সালের শান্তিচুক্তি চলমান সংঘাত প্রতিরোধ করতে পারছে না। ফলে চুক্তিটি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়া যদিও ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে, কিন্তু এটাকে সে তার ভাষায় ন্যাটোর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মিলিটারি টেকনিক্যাল রেসপন্স (বেসামরিক সুরক্ষায় হালকা সামরিক সহায়তা প্রস্তুতি) বলে অভিহিত করেছে।

সুতরাং আলোচনাগুলো ভুল ছিল বলা যাবে না। পুতিনের রেকর্ড বলছে, তাঁর যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই। আর ২০১৪ সালের (ক্রিমিয়া দখল) জন্য তিনি খুব কমই অনুতপ্ত। তবে রাশিয়াকে উত্তেজনা কমিয়ে আনার সুযোগ দেওয়াটা ঠিক ছিল, যদিও সুযোগটা নিতে সে খুব কমই আগ্রহ দেখায়। আবার হতাশার মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ হওয়ার অর্থ এই নয় যে সামরিক পদক্ষেপ অনিবার্য।

অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ের এই শীতে একটি হামলা সম্ভব। আবার পুতিনও তাঁর সেনাদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেবেন না, যদিও বাহ্যিকভাবে তিনি অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নিতে পারেন। পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ও রাশিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়া নর্ড স্ট্রিম-২ গ্যাস পাইপলাইনের ভাগ্যকে বাধা হিসেবে ভাবছে। সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করাসহ ইউক্রেনের জন্য প্রতিরক্ষা সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু তা আমূল পরিবর্তন আনার জন্য যথেষ্ট নয়। আর পুতিনের উদ্দেশ্য অনিশ্চিত এবং এ বিষয়ে তাঁর কূটনীতিকরাও সম্ভবত তাঁদের পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের চেয়ে খুব বেশি পরিষ্কার নন। ক্রেমলিন বলছে যে তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও ন্যাটোর কাছ থেকে তাদের দাবির লিখিত জবাবের অপেক্ষায় থাকবে। কিন্তু গত সপ্তাহে যেসব নিরুৎসাহমূলক বার্তা পাওয়া গেছে, তাতে অপেক্ষার খেলা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)

 



সাতদিনের সেরা