kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিপর্যয়ের মুখে আফগানিস্তান

অনলাইন থেকে

২৩ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বের মনোযোগ কমে গেছে বটে, কিন্তু সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। একটি অসহনীয় বছর কাটানোর পর আফগানরা এখন আরো অসহনীয় এক শীতের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, আগামী বসন্তের আগে দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকট অথবা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় জরুরি অবস্থার মুখোমুখি হবে। গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের দূত দেবোরা লিয়োঁ সতর্ক করে দেন যে দেশটি এখন বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে।

চলতি বছর আফগানিস্তানে ডাব্লিউএফপির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫১ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটির ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, ২০২২ সালে এর প্রায় পাঁচ গুণ বেশি খরচ হবে। আগস্ট মাসে তালেবান ফের ক্ষমতা দখল করার পর দেশটির অর্থনীতি ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘর্ষ, মহামারি ও তীব্র খরার কারণে সর্বনাশের চূড়ায় অবস্থান করছে দেশটি। সাহায্য ও অন্যান্য বৈদেশিক নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল একটি দেশের অর্থপ্রাপ্তির পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। জনসংখ্যা আগের চেয়ে বেশি, তাদের কোনো রকমে বেঁচে থাকার মতো চাষাবাদও কঠিন হয়ে পড়েছে, দেশ ছাড়ার সুযোগও কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষের বিক্রি করার মতো জিনিস শেষ হয়ে যাচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নারীরা করুণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

সমস্যাটি হচ্ছে, আফগান জনগণকে অনাহার থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি কিভাবে কখনোই তাদের চাহিদা পূরণ করতে না পারার একটি নৃশংস ও জবরদস্তিমূলক নেতৃত্বের সুবিধা কমিয়ে আনা যায়। কেউই বর্তমান আফগান নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে চায় না বা এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে একই ধরনের তৎপরতাকে উৎসাহিত করতে চায় না। আরেকটি চিন্তার কারণ হচ্ছে, তালেবান শাসনের বর্তমান বিকল্পটি স্থিতাবস্থায় ফিরতে না পারায় সেখানে একটি পতন, মানে ইসলামিক স্টেটকে নতুন করে সুযোগ দেওয়া, যার প্রতিফলন আফগানিস্তানের অনেক বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। এরই মধ্যে তার পুনরুত্থান ঘটেছে। কারণ এই গ্রুপের জড়িত থাকা হামলার সংখ্যা ২০২০ সালের ৬০টি থেকে বেড়ে এ বছর ৩৩৪টিতে পৌঁছেছে।

এখন সেই দেশগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের, যারা জাতিসংঘকে অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সেই অর্থ তাদের প্রদান করতে হবে। মানবিক সহায়তা অবশ্য পুনরায় শুরু হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে বিধি-নিষেধ শিথিল করার জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছে। কিন্তু দেশটিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থা কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কেউ কেউ যুক্তি দেখান যে জব্দকৃত ৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিধেষাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আইএমএফের সহায়তা পুনরায় শুরু করার সময় এসেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এর পরও এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সংকট সামান্যই কাটিয়ে ওঠা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে একটি নতুন মানবিক আর্থিক করিডর স্থাপন; এবং সেটা হতে পারে একটি বেসরকারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে।

জরুরি সহায়তা যথেষ্ট নয়, দরকার উন্নয়ন তহবিলের। কিছু এলাকায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে; যেমন—মেয়েদের যেতে বাধা দেওয়া হয় এমন স্কুলে সহায়তা না করা, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের অন্যত্র নতুন জীবনের জন্য সহায়তা করা। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর ধীরগতিতে হাঁটা দুঃখজনক। কারণ তারাই নারীদের পুলিশের মতো কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিল।

লজ্জার বিষয় হচ্ছে, আফগানদের হতাশার কারণে পশ্চিমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। মিজ লিয়োঁ যখন আফগানিস্তানের সামনে চলে আসা বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেন, তখন তিনি এটাও লক্ষ করেন যে দেশটির জনগণ নিজেদের পরিত্যক্ত বোধ করছে। তাদের মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত করা কঠিন।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)

 

 



সাতদিনের সেরা