kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক উন্নয়ন

ড. মুহম্মদ মনিরুল হক

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দারিদ্র্য একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। প্রত্যেকের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান—এই পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজনের যে ন্যূনতম পরিমাণ বা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে দারিদ্র্যসীমা বলে। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী মানুষের জীবন হয় মানবেতর। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন। ১৯৯২ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সাল থেকে ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালিত হয়।

একসময় বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ ছিল গরিব। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন (নভেম্বর ২০২০) অনুসারে, বিশ্বের ৭০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে। দারিদ্র্য বিমোচনের কোনো একক বা নির্দিষ্ট উপায় না থাকলেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম কৌশল। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনিই দেশের ইতিহাসে প্রথম ‘বয়স্ক ভাতা’, ‘বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ভাতা’, ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা’, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’, ‘গৃহায়ণ’, ‘আদর্শ গ্রাম’, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ কর্মসূচিসহ অনেক মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৩৬ কোটি টাকা, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা, যা বাজেটের ১৭.৮৩ শতাংশ ও জিডিপির ৩.১১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ মিহির শর্মার মতে, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তান ৭০ ভাগ ধনী ছিল; আর আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ ভাগ ধনী।’ ২৪ মে ২০২১ তারিখে ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে’ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিশ্বব্যাংকের সাবেক উপদেষ্টা আবিদ হাসান বলেছেন, ‘বর্তমানে যে গতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে তার তুলনায় পাকিস্তানের অবস্থা তথৈবচ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের কাছে সহায়তা চাইতে পারে পাকিস্তান।’ শুধু পাকিস্তান নয়, মাথাপিছু আয় এবং অন্যান্য কয়েকটি সেক্টরে ভারতসহ বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রকেই এরই মধ্যে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ (সিবিআর) ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫টি বড় অর্থনীতির দেশের একটি। ২০৩৩ সালে অর্থনীতির মানদণ্ডে বাংলাদেশের পেছনে থাকবে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ।

শেখ হাসিনার টানা প্রায় এক যুগের শাসনামলে জনগণের জীবনমান, মাথাপিছু আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে (১৯৯৫-৯৬ সাল) দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১.৫ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২০.৫ শতাংশে। কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচনের হার বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেও জাপানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক নিক্কির প্রতিবেদন (৬ অক্টোবর ২০২১ সালে প্রকাশিত) অনুসারে, কভিড-১৯ রিকভারি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্ট (১২ অক্টোবর ২০২১) অনুসারে জিডিপি বা মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে ভারতকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বর্তমান সরকার এমন অনেক কার্যাবলি সম্পন্ন করেছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি একটি মানবিক রাষ্ট্রের ধারণাকেও সমুন্নত করেছে।

লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক



সাতদিনের সেরা