kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

টোকিও অলিম্পিকে যেন খুব বেশি মূল্য দিতে না হয়

অনলাইন থেকে

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহামারির দেড় বছর পর উদযাপনের উপলক্ষের দিক থেকে পৃথিবীটা ছোট। বিনোদন, প্রদর্শনী বা চমক সৃষ্টির মতো ঘটনা কোনোভাবেই সাদরে গৃহীত হতে পারে না। একই সময়ে দেশে দেশে ও দেশগুলোর অভ্যন্তরে বিভাজন যেমন বাড়ছে, তেমনি যৌথ সুবিধা ও প্রচেষ্টাও সমাদৃত হচ্ছে। সব মিলিয়ে নীরব-নিস্তব্ধ পরিবেশ সত্ত্বেও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক বৈশ্বিকভাবে উদ্দীপনা ছড়াতে পারে, দর্শকরাও মানবিক সাফল্যের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখে উল্লাস প্রকাশ করতে পারে।

ক্ষোভ ও উদ্বেগ অনুভব করেই জাপান এই ক্রীড়ানুষ্ঠান শুরু করেছে। ১৯৬৪ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অলিম্পিক গেমসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির আধুনিকীকরণের প্রতীক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে পুনঃপ্রবেশকে ত্বরান্বিত করেছিল। আর ২০২০ সালের অলিম্পিক ১০ বছর আগের ভূমিকম্প, সুনামি ও পারমাণবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা থেকে পুনরুত্থানের সুদৃঢ়তা জানান দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে যখন ২০২০ সালের আয়োজনটি স্থগিত করা হয়, তখন তারা এটিকে কভিড-১৯ থেকে বিশ্বের বেরিয়ে আসার উদযাপন হিসেবে নতুন লক্ষ্য স্থির করেছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মহামারি আরো ছড়িয়ে পড়ায় এখন জনভীতি উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভয়ের কারণটি হচ্ছে, একটি দেশে হাজার হাজার বিদেশির আগমন থেকে ভাইরাসটির সংক্রমণ ও ভেরিয়েন্ট আমদানি বেড়ে যেতে পারে, যেখানে এক-চতুর্থাংশেরও কম মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টোকিওতে এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সংক্রমণ হার এখন সর্বোচ্চ।

৮০ শতাংশের বেশি জাপানি জনগণ চেয়েছিল গেমসটি আরো এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হোক কিংবা সরাসরি বাতিল করা হোক। দেশটির প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে এটি চালিয়ে যাওয়া ‘স্বাভাবিক নয়’। এমনকি জাপানের সম্রাটও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অফিশিয়াল স্পনসররা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেছেন। এর মধ্যে আশাহি শিম্বুন পত্রিকা প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগাকে গেমসটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। অনেকে মনে করেন, এটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির মর্যাদা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে জাপানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অনুষ্ঠান। এ ছাড়া টোকিও অলিম্পিক সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারিও ঘটে গেছে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিচালক রয়েছেন, যিনি (হলোকস্ট নিয়ে রসিকতা করায়) অনুষ্ঠানের ঠিক আগের দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরেকটি দুশ্চিন্তা যুক্ত হয়েছে যে দেশটিকে খুব সামান্যই তার সর্বোত্তম রূপে দেখা গেল। সম্ভবত এটা তাদের জাতীয় আত্মবিশ্বাসের বৃহত্তর অবনতিরই একটা প্রতিধ্বনি।

শুক্রবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল প্রথাগত আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে সংযমী। ফলে অনুষ্ঠানটিতে এক হাজারেরও কম বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সশরীরে হাজির হয়েছিলেন। আর বাইরে একে ‘স্বাগত’ জানানো হয়েছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। গেমস চলাকালে স্টেডিয়ামগুলো বেশির ভাগ খালি থাকবে, বেশির ভাগ ইভেন্টে বলতে গেলে কোনো দর্শকই থাকবে না। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ঘটনার মতো এখানেও যাতে সুপারস্প্রেডিং (সংক্রমণের অতিবিস্তার) ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করা যায়, সে জন্যই এমনটা করা হয়েছে। এর আগে গেমসের কিছু অংশগ্রহণকারী রওনা দেওয়ার ঠিক আগে সংক্রমিত হয়েছেন, যার ফলে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। আবার জাপানে আসার পর অলিম্পিক ভিলেজে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী সত্ত্বেও অনেক ক্রীড়াবিদ ও অন্যরা কভিড পজিটিভ হয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল ফাঁকি দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

আশা করা যায় যে ক্রীড়ানুষ্ঠানটি অব্যাহত থাকবে। জাপানি জনগণও অন্তত তাদের ক্রীড়াবিদ ও অন্যদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে কিছুটা আনন্দ এবং সন্তুষ্টি খুঁজে পেতে পারে। যদিও তাদের তা বাড়ি থেকেই দেখতে হবে। এর মধ্য দিয়ে অলিম্পিক চেতনাও ফুটে উঠবে। আশা করা হচ্ছে. লোকজন যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে সংক্রমণ হারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই যে এই কর্মযজ্ঞটি একটি বিশাল জুয়া ছিল এবং আছে। এখন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত আচরণ করতে হবে, যাতে অনিচ্ছুক আয়োজকদের (জনগণ) খুব বেশি মূল্য দিতে না হয়।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

 



সাতদিনের সেরা