kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

সেলাই করা খোলা মুখ

‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’

মোফাজ্জল করিম

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’

বহুদিন পর সেদিন আমাদের দুই বহুল আলোচিত মনীষীর কলিজা শীতল করা বাণী শুনে ভেবেছিলাম ওগুলো নিয়েই আজকের নিবন্ধে দু-চার কথা কপচাব কিন্তু তা আর হলো কই। আমাদের ক্রিকেটাঙ্গনের ‘পোস্টার বয়’ বলে খ্যাত শ্রীমান সাকিব আল হাসান আচমকা এমন একটা গুগলি ছুড়ে দিলেন যে আমাদের মতো সিনিয়র সিটিজেনদের তো রীতিমতো ‘হাড্ডি পিল পিলায় গায়া’ (পরশুরাম : চিকিৎসা সঙ্কট) অবস্থা। তাসের কন্ট্রাক্ট ব্রিজের ভাষায় বলতে হয়, সাকিব অন্য সব কিছুকে ওভার ট্রাম্প করে দান জিতে নিলেন। ওই মনীষী দুজনের কাছ থেকে আপাতত ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ‘পোস্টার বয়’ (কথাটা গৌরবার্থে ব্যবহৃত হলেও আমার কেন জানি মানহানিকর মনে হয়। মনে হয় যেন পোস্টার বয় মানে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফাই-ফরমাশ খাটা ছেলে-ছোকরা।) বাবাজির সর্বশেষ কীর্তি নিয়ে দুটো কথা বলা জরুরি বোধ করছি। তবে উত্সুক পাঠকের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি, ওই মনীষী দুজনের একজন হচ্ছেন আমাদের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অপরজন মান্যবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার। প্রথমজন সম্প্রতি এই বলে সাফাই গেয়েছেন যে করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আর অন্যজন বলেছেন, ‘নির্বাংড়হ’ করোনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য সিইসি সাহেবের এই ‘কোটেবল কোট’টি আন্তর্জাতিকভাবে ‘ভাইরাল’ হয়ে বাংলাদেশের মর্যাদা গগনচুম্বী উচ্চতায় নিয়ে গেছে কি না আমরা জানি না। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। না যাক। তবে আমাদের নির্বাচন কমিশন যে এই করোনাকালেও বেশ কিছু নিশিকুটুম্বের মধ্য রাত্রিকালীন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হবে, তাতে সন্দেহ নেই। এই দুই অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উক্তি থেকে সারা বিশ্ব জানতে পারল বাংলাদেশের—ক. স্বাস্থ্য খাত, মাশাআল্লাহ, দুর্নীতিমুক্ত, এবং খ. গণতন্ত্রের জন্য শহীদ হতে প্রস্তুত আমাদের নির্বাচন কমিশন যেকোনো অবস্থায় একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। এর চেয়ে বড় সুখবর আর কী হতে পারে! ‘আহা, কী আনন্দ আকাশে বাতাসে...!’

২.

এবার আসুন, ‘পোস্টার বয়ের’ পোস্টারের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। গোড়াতেই একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। ‘পোস্টার বয়’, ‘রোল মডেল’, ‘লিডার’, ‘নেতা’, ‘নেত্রী’ ইত্যাদি চাইলেই কেউ হতে পারে না। এমন না যে এগুলো সুপারমার্কেট থেকে কিনে এনে নামের আগে জুড়ে দিলাম, কিংবা বাড়ির গেইটে সেঁটে দিলাম আর ওতেই তকমাটি আমার হয়ে গেল। কোনো রাজ-রাজন্যের দেওয়া খেতাবও নয় এসব। এগুলো অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, অনেক রক্ত জল করা পরিশ্রমের দ্বারা অর্জন করতে হয়। সর্বোপরি আল্লাহর মেহেরবানি না হলে শত পরিশ্রমেও কিছু হয় না। সেই অর্থে এই নেতৃত্ব পাওয়াটা কিংবা আদর্শস্থানীয় হওয়াটা আল্লাহর তরফ থেকে লাভ করা নিয়ামত বটে। এটা পাওয়া যেমন সাধনার ব্যাপার, এটা ধরে রাখাটাও তেমনি ত্যাগ-তিতিক্ষা, কষ্ট-সহিষ্ণুতা, সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ব্যাপার। এটা অনেকটা কোনো দেশের স্বাধীনতা লাভের মতো। দেশের সূর্য-সন্তানেরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ একটি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিতে পারে কিংবা লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে দেশ স্বাধীন হতে পারে, কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দেশের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে বিরাট দায়িত্ব বর্তায় আপামর জনগোষ্ঠীর ওপর। এর ব্যত্যয় হলে স্বাধীনতা এক দরজা দিয়ে এসে আরেক দরজা দিয়ে চলেও যেতে পারে। আর ব্যক্তিজীবনে তো হরহামেশাই এরূপ ঘটতে দেখি আমরা। মারিফতি গানে এর প্রতিধ্বনি শুনি এভাবে : আজ যে বাদশা কাল সকালে ফকির হবে সে-ই তো। ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং (১৮১২-৮৯)-এর একটি কবিতায় (এই মুহূর্তে কবিতাটির নাম মনে পড়ছে না। বোধ হয় দ্য প্যাট্রিয়ট বা ওই রকম কিছু। এর শুরুটা এরূপ : ইট ওয়ায রউযেস্ রউযেস্ অল দ্য ওয়ে/উইথ্ মার্টল্ মিক্সড্ উইথ্ গ্রীন)। একজন জননেতার কথা বলা হয়েছে, যাঁকে তাঁর দেশবাসী একদিন/অজস্র গোলাপ ও চিরহরিৎ লতাগুল্ম দ্বারা বরণ করে নিয়েছিল, হর্ম্যরাজির অলিন্দ থেকে তাঁর ওপর করেছিল অঝোর ধারায় পুষ্পবৃষ্টি। তারপর কিছুদিন যেতে না যেতেই তাঁর অপকর্মের কারণে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে পিছমোড়া করে বেঁধে টেনে টেনে নিয়ে যায় বধ্যভূমির দিকে সেই একই জনতা। পবিত্র কুরআন শরীফে এ জন্যই সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইয্যত এবং যিল্লতি (দুর্গতি) দুটোর মালিকই আল্লাহ।

কথাটা এত জোর দিয়ে বলার উদ্দেশ্য একটাই। এখন যাঁরা তাঁদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও নৈপুণ্যের কারণে ক্রীড়াঙ্গনে রোল মডেল হয়ে আছেন নবীন খেলোয়াড়দের কাছে, তাঁরা যদি তাঁদের সেই অবস্থানকে ধরে রাখতে চান, তবে কিছু কিছু ‘নর্ম’ বা নিয়ম-কানুন তাঁদেরকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আর শুধু খেলার মাঠের নৈপুণ্য বা সাফল্যই নয়, মাঠের বাইরেও তাঁদের চালচলন, কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসরণ করে তাঁদের ভক্তরা। তাঁদের স্বপ্ন একটাই : আমিও একদিন অমুক ভাইয়ের মতো হব। অমুক ভাই কী করে কথা বলেন, কী ধরনের পোশাক-আশাক পরেন, কী খান—এসবই তারা দেখে ও অনুকরণ করে। ফলে অমুক ভাইটি যে অবস্থানে পৌঁছে গেছেন সেই অবস্থানটি ধরে রাখতে তাঁকে সযত্ন প্রয়াস চালাতে হবে। সেখানে যদি তিনি উল্টো কিছু করে বসেন, তাহলে তাঁর অন্ধ ভক্তরাও তাই করবে।

৩.

এবার আসা যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন ‘রোল মডেল’, ‘পোস্টার বয়’ বা অন্য যেকোনো অভিধায় অভিহিত করুন না কেন সেই সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সাকিব-তানিম-মুশফিক-মাশরাফিরা এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন। সারা দেশে ছেলে-বুড়ো অনেকেই তাঁদের ভক্ত। আর এই জনপ্রিয়তা তাঁরা অর্জন করেছেন তাঁদের মেধা ও সনিষ্ঠ শ্রমের ফসল হিসেবে। দেশবাসী তাঁদের এই অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের অফুরন্ত ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে। তারা চায় তাদের প্রাণপ্রিয় মানুষগুলোকে যে উচ্চাসনে তারা বসিয়েছে সেখানে যেন সামান্য কালিমাও তাঁদের স্পর্শ না করে। খেলার মাঠে একদিন যদি তাদের স্বপ্নের কোনো নায়ক তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন তবু সেদিন তারা তাঁর ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে তাঁর ওপর আস্থা অটুট রাখে, ভাবে, আজ হয়নি তাতে কী হয়েছে, নিশ্চয়ই কাল রান পাবেন, উইকেট পাবেন। কিন্তু সেই নায়কের যদি আদর্শের স্থান থেকে সামান্য পদস্খলনও হয়, তাহলে সেটা মেনে নিতে তাদের কষ্ট হয়। স্বপ্নের মানুষটিকে তারা মর্ত্যের ধুলোবালিতে নেমে আসতে দিতে চান না। এটা শুধু ক্রীড়াঙ্গনের নায়কদের বেলায়ই নয়, শিক্ষাঙ্গন-শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি-সমাজসেবা—সবখানেই এই ভক্তিমার্গের চর্চা চলে আসছে আবহমান কাল ধরে। কমবেশি সব দেশে, সব কালে। ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালোবাসামিশ্রিত তুরীয়ানন্দের কারণে ভক্তরা তাদের ‘হিরোর’ কোনো দোষ-ত্রুটি দেখেও দেখে না। হিরো তখন এক ধরনের প্রশ্রয় পেয়ে কখনো কখনো রীতিমতো স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন, যা তাঁর নিজের ক্যারিয়ারের জন্য এবং ব্যাপক অর্থে সংশ্লিষ্ট অঙ্গনটির জন্য বড় রকম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্রিকেটের মাঠে সাকিব আল হাসানের সাম্প্রতিক আচরণ নিশ্চয়ই ক্রিকেট বোদ্ধাদের ললাটে অনেক কুঞ্চনরেখার জন্ম দিয়েছে। আর দেবে না-ই বা কেন? সাকিবের মতো একজন স্বনামখ্যাত খেলোয়াড়, যাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আছে দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় আসরের স্মৃতি, তিনি কিনা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পাড়ার শিশুদের মতো রেগে গিয়ে উইকেট উপড়ে ফেলে আছড়ে ফেলবেন, রাগে গজগজ করবেন—ক্রিকেট মাঠে এর চেয় বড় গর্হিত আচরণ আর কী হতে পারে? ধরে নিলাম, আম্পায়ার ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তাই বলে কি মাঠে এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে? টিভির পর্দায় দেখে মনে হচ্ছিল সাকিবকে যেন খেলার আগে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছিলেন, ‘আজ তোমার সাত খুন মাপ। তুমি মাঠে যা খুশি করতে পার।’ এ রকম বরাভয় না পেলে তো পৃথিবীর কোনো খেলোয়াড়ই এ ধরনের কাণ্ড ঘটাতে পারেন না। তবে কি সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খ্যাতি তাঁর মগজ বিগড়ে দিয়েছে? গড্ ফরবিড। সেটা হলে তো রীতিমতো ভাবনার কথা। একজন শত শত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় কি জানেন না নিজের বাসার খাবার টেবিলে রেগে গিয়ে গ্লাস-প্লেট ছুড়ে ফেলা, আর অজস্র নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে নিবদ্ধ একটি টুর্নামেন্টে স্ট্যাম্প উপড়ে আছাড় মারা এক জিনিস নয়।

আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে নিজের ট্র্যাক রেকর্ডও যে খুব একটা উজ্জ্বল নয় তা তো সাকিবের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এইতো মাত্র সেদিন তিনি এক বছরের ‘অজ্ঞাতবাস’ থেকে মুক্তি পেয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে ফিরে এসেছেন। আবার কোনো বড় রকমের ফ্যাসাদ বাধালে যে তাঁর ‘যাবজ্জীবনও’ হতে পারে তা কি তিনি জানেন না? আল্লাহ না করুন, সে রকম কিছু ঘটে গেলে আমাদের হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে যাওয়া শার্দূল-শাবকদের কী হবে? তার চেয়ে বড় কথা, সাকিবকে যেসব নবীন খেলুড়ে ‘রোল মডেল’ মনে করে পীরের মতো মেনে চলে, তারা যদি উইকেট না ভাঙুক, আম্পায়ারের সঙ্গে অশোভন আচরণও করে তা হলে কী হবে? আর এটা যে শুধু ক্রিকেটাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা তো না; ফুটবল, হকি, ভলিবল ও অন্যান্য খেলাধুলায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। জাস্ট ভেবে দেখুন, আমাদের আর্চাররা কোনো কারণে রেগেমেগে তাদের হাতের তীর বুলস্ আই-য়ে তাক না করে আম্পায়ারের চোখে তাক করে বসল, কিংবা শুটিংয়ের মাঠে শ্যুটাররা...। থাক্, ওসব বীভৎস রসাত্মক দৃশ্য কল্পনা করাও হারাম।

একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে পুত্রতুল্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের সস্নেহে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে বৃক্ষে ফল-ফুল যত বেশি সেই বৃক্ষ ফল-ফুলভারে তত বেশি নত। খ্যাতি ও যশের প্রকৃত অধিকারীর ভেতর ঔদ্ধত্য, অহমিকা বা দাপাদাপি নেই, বরং আছে বিনয় ও শিষ্টাচারের সলাজ ভঙ্গিমা, যা তাকে মানুষের কাছে আরও আদরণীয়, আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

৪.

শেষ করার আগে আরেকটি বিষয়ের প্রতি ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সেটা হচ্ছে, আত্মস্বীকৃত অপরাধী সাকিব আল হাসানকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা কি যথেষ্ট? এই শাস্তি কি অন্যদের এ ধরনের অপরাধ করা থেকে নিরুৎসাহ করবে? অর্থাৎ এটা কি দৃষ্টান্তমূলক হয়েছে? না বোধ হয়। সাকিব সেদিন মাঠে যা করেছেন তা অবশ্যই ‘কবীরা গুনাহ্,’ আর যে শাস্তি তাঁকে দেওয়া হয়েছে তা ‘সগিরা গুনাহ্র’ শাস্তির মতো মনে হতে পারে যেকোনো নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের কাছে। এটা যেন গুরুপাপে লঘু শাস্তির নমুনা। সাকিব না হয়ে অন্য কোনো কম খ্যাতিমান খেলোয়াড় এ ধরনের অপরাধ করলে কর্তৃপক্ষ তো তাঁর ক্যারিয়ারটাই জবাই করে বসতেন।

আর আমাদের আম্পায়ারদের ব্যাপারেও ‘দুইখান কথা’ বলা দরকার। পত্র-পত্রিকার মারফত আমরা আম্পায়ারদের পক্ষপাতদুষ্ট স্বৈরাচারী ভূমিকার কথা প্রায়ই শুনে থাকি। এগুলো সবই কি গ্যালারির গল্প? মনে তো হয় না। বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে পারে। তাতে আর কিছু না হোক, বিসিবির নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হবে। নইলে সন্দেহভাজন আম্পায়ারদের কারণে মাঠে সাকিব আল হাসানদের মতো আচরণকারীদের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা আছে।

পাদটীকা (সাকিবের উদ্দেশে) : আট দশকের জীবনে মণিমুক্তার মতো অজস্র হিতোপদেশ, অসংখ্য নীতিকথা শুনেছি, যার বেশির ভাগই উড়ন্ত চড়ুই পাখির মতো এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে ফুড়ুৎ করে বেরিয়ে গেছে। এখন আর আফসোস করে লাভ নেই। চড়ুই পাখিরা ফিরে আসবে না। তবে এর মধ্যে সাত রাজার ধন এক টুকরো মণির কথা দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করতে চাই। আশা করব, দৈবাৎ সাকিব বা তাঁর মতো সত্যিকারের সোনার টুকরো কোনো তরুণ লেখাটি পড়ুক বা না পড়ুক অন্তত এই অংশটি পাঠ করবে ও হিতোপদেশটি আমল করবে।...‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’

 লেখক : সাবেক সচিব, কবি

 [email protected]



সাতদিনের সেরা