kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

করোনা বিজয়ের দিগন্তরেখা

মঈনউদ্দিন মুনশী, এমডি, পিএইচডি

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা বিজয়ের দিগন্তরেখা

করোনা মহামারি ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত চলছে। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত সাড়ে ১৭ কোটি মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় ৩৮ লাখ মৃত্যুবরণ করেছে। বর্তমানে ভারত ও ব্রাজিল করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে এগিয়ে আছে। বিভিন্ন দেশে লকডাউন দিয়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন বিশ্বব্যাপী চলছে ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচি। ভ্যাকসিনের সুফল এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। পৃথিবীর যে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ও মারা গেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেছে। এর ফলে সেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ভারতে অনেকবার লকডাউন দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ব্যাপক হারে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব না হওয়ার ফলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্ত অঞ্চলে। এই রোগ বিস্তার মূলত ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট দ্বারা। লকডাউন দিয়ে করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন ভ্যাকসিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত যেকোনো ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল’ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বর্তমানে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে মেসেনজার RNA ভ্যাকসিন (ফাইজার ও মডার্নার তৈরি) প্রধান তিনটি ভেরিয়েন্ট (ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল ভেরিয়েন্ট) প্রতিরোধে কার্যকর। Astra-Zaneka ও ফাইজারের ভ্যাকসিন ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট প্রতিরোধে কার্যকর।

চীনের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, চীনের ভ্যাকসিন ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট প্রতিরোধে সক্ষম।

করোনা ভ্যাকসিন এই রোগে আক্রান্তের হার এবং মৃত্যুর হার কমাতে সক্ষম। তবে ভ্যাকসিন সুলভ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ এই রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে স্বাস্থ্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো মেনে চলতেই হবে। যেমন—মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম পরিহার করা, ঘন ঘন হাত ধোয়া ইত্যাদি। করোনা ২০১৯-এর মূল ভাইরাস হোক বা বর্তমানের ভেরিয়েন্ট হোক—সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো মেনে চললে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্য ধনী দেশগুলো যদি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করে তাহলে বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধে সক্ষম হবে। মানুষ অতীতে বসন্তের মতো ভয়াবহ ভাইরাসজনিত রোগ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও সে জয়ী হবেই।

 লেখক : মেডিক্যাল ডিরেক্টর, সংক্রামক ব্যাধি বিভাগ, সুমা বারবারটন হাসপাতাল, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র; সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, নর্থ ইস্ট ওহাইও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র; ফেলো, যুক্তরাষ্ট্র সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ সমিতি এবং সম্পাদনা পরিষদ সদস্য, জার্নাল ‘Infectious Diseases in Clinical Practice’.