kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

সেলাই করা খোলা মুখ

রোজা যায় রোজা আসে

মোফাজ্জল করিম

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



রোজা যায় রোজা আসে

আজ রোববার, রমজান মাসের ২৬ তারিখ। আর তিন-চার দিন পর ঈদ, ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তবে ঠিক কবে ঈদ হবে তা আজই বলা যাচ্ছে না, কারণ সেটা নির্ভর করছে শওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর। এখন চলছে রমজান মাস। রমজান যদি ২৯ দিনে শেষ হয়ে যায়, তবে পরদিন ঈদ। আর তা না হলে ৩০টি রোজা পুরো করে তার পরের দিন, অর্থাৎ শওয়ালের প্রথম দিন হবে ঈদ।

ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশি। ঈদের দিন তাই ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবাই রমজান মাসজুড়ে কৃচ্ছ্রতা ও সংযম সাধনার পর খুশিতে মেতে ওঠে। এটাই ঈদের চিরায়ত চিত্র। কিন্তু এবার? এবার সেই চিত্রটাই গেছে বদলে। করোনা নামক এক কাল কেউটের ছোবলে গোটা বিশ্ব এখন বেদনায় নীল। মানুষের জীবন থেকে আনন্দ-হাসি-গান এখন দ্রুত অপসৃয়মাণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে শতকরা আশি জন মানুষেরই বেঁচে থাকার সংগ্রামে নিরন্তর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে রিকশাওয়ালা সেই কাকভোরে রিকশা নিয়ে বের হয়ে গভীর রাত অব্দি যন্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিঠে মানুষ বয়ে বেড়ায়, তবু ভিক্ষার হাত পাতে না কারো কাছে, এখন সেও লজ্জা-সংকোচ ঝেড়ে ফেলে সওয়ারিকে কটি টাকা বেশি দিতে বলে : সারাদিনে একশটা টাকাও পাইনি আজ। ঘরে এতজন খানেওয়ালা, দশটা টাকা বাড়িয়ে দেন, স্যার। গায়ে-গতরে পরের বাড়িতে খেটে খেটে যে কর্মঠ বুয়া দিনশেষে পঙ্গু স্বামী আর হাড়জিরজিরে অভুক্ত শিশুদের জন্য দুমুঠো অন্নের সংস্থান করত, সে এখন কর্মহীন ভিক্ষুকের দলে ভিড়ে রাজপথে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর অপমানের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর ছয়-সাত বছর বয়েসী শিশু ভিক্ষুকের সংখ্যা তো এখন শহরে-বন্দরে অজস্র। আতুর-ল্যাংড়া-অন্ধ বনেদি ভিক্ষুকরা তো আছেই। করোনার আবির্ভাবের আগে আমরা পথে-ঘাটে ভিক্ষুকের উৎপাত কমে আসছে দেখে যেখানে মনে মনে শ্লাঘা অনুভব করতাম, ভাবতাম, আর কদিন পর হয়তো ভিক্ষা দেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই করোনা রাক্ষসী এমন ভানুমতীর খেল দেখিয়ে দিল যে অনাগত দিনগুলোর কথা ভেবে আমরা রীতিমতো শঙ্কিত বোধ করছি। এর ভেতর আবার চাল-ডাল-তেল-নুন-পিঁয়াজ-মরিচসহ আমিষ-নিরামিষ সব কিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাই যাই করছে সারাক্ষণ। হ্যাঁ, সাধারণ মানুষের। যাঁরা ‘অসাধারণ’ মানুষ সেই সব ঐশ্বর্যের বরপুত্রদের যেকোনো জিনিসের—তা তৈলতণ্ডুল ও অন্য যেকোনো ভোগ্যপণ্য হোক আর ওষুধপত্রই হোক—মূল্য গগনচুম্বী হলেও কিছু যায়-আসে না। তাঁদের কাছে চালের কেজি ৫০ টাকাই কী আর ১০০ টাকাই কী, কিচ্ছু যায়-আসে না। তাঁদের বাজেটে সাংসারিক ব্যয়ের মাসিক বরাদ্দ হয়তো দুই লাখ থেকে বেড়ে চার লাখ হবে, সো হোয়াট? তাঁরা ব্যয়ের ‘যাউতিটা’ বেড়ে যেতে দেখলে সাথে সাথে তাঁদের আয়ের ‘আউতিটা’ ইলাস্টিকের মতো ইচ্ছামাফিক দেবেন বাড়িয়ে। সেটার কত ফন্দি-ফিকির আছে। সোজা ‘ধলো’ পথে সেটা সম্ভব না হলে বাঁকা হাজারটা ‘কালো’ পথ আছে না? পণ্যের গুণগত মান কমিয়ে উৎপাদন-ব্যয় কমানো অথচ বিক্রয়মূল্য আগের মতোই রাখা বা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো বাড়িয়ে দেওয়া, পণ্যে ভেজাল দেওয়া, ওজনে কম দেওয়া ইত্যাদি ছাড়াও আছে মজুদদারি-কালোবাজারি-চোরাচালানির কত শত চোরাগোপ্তা পথ। আছে রমজান ও ঈদের অজুহাত। আর যাঁরা মাইনেখোর কর্মচারী-কর্মকর্তা তাঁরা তাঁদের ঘুষের রেট, পারসেন্টেজের রেট, কমিশনের রেট দেবেন বাড়িয়ে। ‘আরে ভাই, কী বলছেন এক লাখ টাকা, সেই দিন কী আর আছে? দেখছেন না জিনিসপত্রের দাম কী পরিমাণ বেড়েছে। গতবার এক লাখ দিয়েছিলেন ঠিক আছে, কিন্তু তখন কি করোনা ছিল? সামনে ঈদ। গিন্নী বায়না ধরেছে তাকে এক সেট জড়োয়া দিতেই হবে অমুক সাহেবের বিবির নতুন সেটটার মতো। আর বসুন্ধরাতে একটা ফ্ল্যাটের বুকিংও এবার দিতে চাই। পরে আবার হাতছাড়া হয়ে গেলে আফসোস করতে হবে। যান, প্যাকেটের সাইজটা ডাবল করে নিয়ে আসুন।’ ...এই হচ্ছে তথাকথিত ‘ফিক্সড ইনকাম গ্রুপের’ সদস্যদের ইদানীংকালের ডায়ালগ।

রমজানের অজুহাত, ঈদের অজুহাত, করোনার জেনুইন অজুহাত সবাই দেয়, দিয়ে ভোক্তার গলা কাটে। অজুহাত দেয় না শুধু একজন। সেজন গলা কাটতেও জানে না। তার চৌদ্দপুরুষেও কেউ কোনো দিন কারো গলা কাটেনি। সে হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষক। অথচ ফসলটা ন্যায্য দামের কমেও বেচে যখন সে শাড়িটা-লুঙ্গিটা-ওষুধটা কিনতে যায় তখন তার শীর্ণ গলদেশে ছুরি বসায় সব কসাই। তার কাছে ঈদ-পার্বণ, মহামারি-অতিমারি-বেশিমারি-কমমারি শীতগ্রীষ্ম-বার মাস একই ঝকমারি। সে লেখাপড়া জানে না, প্রফিট অ্যান্ড লস বোঝে না, শুধু উৎপাদন খরচটা কোনোমতে উঠিয়ে দুবেলা দুমুঠো গিলতে পারলেই খুশি। তার চাহিদা শুধু ওইটুকুই। সে সত্যিকার অর্থে একজন অল্পে তুষ্ট মানুষ। কিন্তু আফসোস, দিনশেষে দেখা যায় তার ওই সামান্য চাহিদাটুকুও পূরণ হয় না। এভাবে অভাবের নেকড়েটার সঙ্গে লড়াই করতে করতে একদিন সে বাপ-দাদার জন্মভিটা ছেড়ে বৌ-ছেলে-মেয়ের হাত ধরে পাড়ি দেয় শহরে। শুরু হয় তার বস্তির জীবন। শুরু হয় রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবনের চাকা ঘোরানোর মানবেতর অধ্যায়।

২.

আজ করোনাক্রান্ত জীবনে বাংলাদেশে ঈদ এসেছে। ঈদ এসেছে ধনী-গরিব-সবল-দুর্বল সকলের ঘরে। খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে ঈদ। কিন্তু সত্যি কি সবাই খুশি হতে পারছে? পুরো রমজান মাসটা যাদের কেটেছে এক মুঠো ভাতের ধান্দায়, ইফতার করতে হয়েছে এক ঢোক পানি খেয়ে, ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না শুনে শুনে, তারা কি আজ খুশি হতে পারছে? না। তাদের কাছে ঈদ আসে চিরকাল দুঃখের পসরা নিয়ে, ধনী-গরিবের বৈষম্যের ভ্রুকুটি হয়ে। হাঁ, খুশি হয় তারাই, যারা সারা বছর শপিংমল, সি-বিচ, বিউটি পার্লার, রিসোর্ট ইত্যাদি মাতিয়ে রাখে। যাদের মন খারাপ হয় লকডাউনের কারণে ওগুলো এস্তেমাল করতে না পেরে। ঈদ এলে তারা ওগুলোতে আরেকটু বেশি নরক গুলজার করতে পারে।

করুক, করতে দিন। তাদের পয়সা আছে, তারা যা খুশি করবে এটাই তো স্বাভাবিক। তাদের মুরগি তারা যেভাবে খুশি জবাই করবে তাতে কার কি বলার আছে। অতি ন্যায্য কথা। কিন্তু তারপরেও তো দুটি কথা থেকে যায়। আপনারা সমাজের শতকরা পাঁচজন যে বাকি পঁচানব্বই জনের ন্যায্য হিস্যা ছলে-বলে-কৌশলে গাপ্পু করে চলেছেন যুগ যুগ ধরে, সে হিসাব কে দেবে? (সেই আমাদের আমলের গানের কলি গুঞ্জরণ তোলে স্মৃতিতে : বকশিশ চাই না মালিক হিসাবের পাওনা চাই)। হিসাব আপনারা দেবেন না নিশ্চয়ই। আপনারা দেবেন চোখ রাঙানি : হিসাব? কিসের হিসাব? ভাগ ব্যাটা। বড় হিসাব চাইতে এসেছেন। গেলি? ...হাঁ, এভাবেই চলে এসেছে চিরকাল। কিন্তু আপনাকে যদি প্রশ্ন করি, আপনার-আমার—অর্থাৎ আমরা যারা ভাল খাই, ভাল পরি, অভাব কাকে বলে জীবনেও জানি না—কি একটু দায়িত্ব নেই ওই সব হতভাগ্যদের ব্যাপারে, যারা আপনার প্রাসাদের সিংহদ্বার থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রেললাইনের পাশের ঝুপড়িতে দিনের পর দিন জীবন নামক এক বিভীষিকার সঙ্গে বসবাস করে? তাদেরকে হিসাব দেবেন না বুঝলাম, কিন্তু একদিন যখন আপনাকে-আমাকে-ওদেরকে, এককথায় সকলকে, এক কাতারে দাঁড়িয়ে হিসাব দিতে হবে সেই শেষ বিচারের কাজীর কাছে, তখন কী করবেন? তখন দুনিয়াতে কৃত অপকর্মের শাস্তি লাঘবের একটা বড় সুযোগ হচ্ছে জীবদ্দশায় দরিদ্র মানবসন্তানের পাশে দাঁড়ানো। এই রমজানে, বিশেষ করে করোনার মহাদুর্যোগকালে, দান-খয়রাত করে, জাকাত প্রদান করে, আমরা পরকালে নিজেদের নাযাতের পথ সুগম করতে পারি।

করোনাকালে অগণিত হতদরিদ্র মানুষের আহাজারিতে অহর্নিশ বাতাস ভারি হচ্ছে এই কৃচ্ছ্রতার মাসে, সংযম সাধনার মাসে, আমরা তা দেখেও দেখি না। দেশ থেকে দারিদ্র্য ধীরে অথচ নিয়মিত লয়ে দূর হতে যাচ্ছিল। করোনা এসে এক বছরে দারিদ্র্য দূরীকরণের সচল চাকা দিয়েছে ঘুরিয়ে। কর্মহীন ক্ষুধার্ত মানুষ এখন আন্দোলনমুখী হয়ে উঠেছে। দুদিন পরে, খোদা না করুন, এসব মানুষ না আবার মরিয়া হয়ে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই শুরু করে দেয়। অতএব সময় থাকতে সাধু সাবধান। করোনাকে মোকাবেলা করার জন্য সারা বিশ্বে যখন চলছে নানা ধরনের গবেষণা, নেওয়া হচ্ছে সব রকমের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির মতো প্রস্তুতি, করোনা নামক ভয়ঙ্কর অদৃশ্য শত্রুও তখন প্রমাণ করে ছাড়ছে সে কম স্মার্ট না, সে তার তূণ থেকে বের করছে নিত্যনতুন বাণ। ফলে এ যুদ্ধ সহজে থামবে বলে মনে হয় না। আর যতই দিন গড়াবে, দেখা যাবে দেশের গরিব মানুষেরা করোনাতে যতটা না মরছে তার চেয়ে বেশি ঝরে পড়ছে অনাহার ও অনাহারজনিত নানা উপসর্গে। কাজেই আমি মনে করি, করোনাকে ঠেকানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে ক্ষুধার অনল থেকে বাঁচাতে হবে। আর এই বিশাল দায়িত্বটি একা সরকারের পক্ষে পালন করা সম্ভব না। সরকারের সম্পদ অবশ্যই সীমিত। সেই সীমিত সম্পদ সরকার কতজনকে দেবে? এখন তো করোনার দোহাই দিয়ে ধনিক-বণিক শ্রেণীও সরকারের কাছে হাত পাতছে। আর প্রণোদনা, সুদমুক্তি, ভর্তুকি ইত্যাদি নানা লেবেলের টনিকের বোতল সরকার তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এরপর যেটুকু তলানি অবশিষ্ট থাকবে তা দিয়ে কোটি কোটি মানুষের ক্ষুণ্নিবারণ করা যাবে কি? মনে হয় না। তাহলে কী করতে হবে? নিশ্চয়ই সম্পূরক উৎস খুঁজে বের করতে হবে। আর এই করোনাকালের মন্দায় তা বিদেশে খুঁজে লাভ নেই।

৩.

এখানেই দায়িত্ব পালন করতে হবে সমাজের বিত্তশালী শ্রেণীকে। তাঁরা চাইলেই নিজ নিজ পরিমণ্ডলে যথাসম্ভব পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। আর বিত্তশালীদের সংখ্যাও বাংলাদেশে মাশাল্লাহ এখন নেহাত কম নয়। শোনা যায়, পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানে যেখানে বাইশটি পরিবার দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করত, সেখানে আমাদের দেশে নাকি ইতিমধ্যেই তা বাইশ শ ছাড়িয়ে গেছে। এখানে ছোটবেলার সেই ‘লিটল ড্রপস অব ওয়াটার লিটল গ্রেইনস অব স্যান্ড/মেইক দ্য মাইটি ওউশন্, অ্যান্ড দ্য প্লেজেন্ট ল্যান্ড’ কবিতাটি স্মরণ করে চাল-ডাল-টাকা-পয়সা যার যা আছে তাই নিয়ে এই মুহূর্তে নেমে পড়তে হবে। আপনার দেখাদেখি আপনার এলাকার আরো অনেকেই দেখবেন এগিয়ে এসেছেন। এভাবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেঁচে যাবে স্ব স্ব এলাকার অনেকগুলো অভাবী অনাহারক্লিষ্ট মানুষের প্রাণ। দেখা যাবে বুভুক্ষু শিশুর মুখে স্বর্গীয় হাসির ছটা। আর দিনশেষে আপনি দেখবেন এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি—যা আপনি আপনার পর্বতসম সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কোনো দিন লাভ করেননি—ছড়িয়ে পড়েছে আপনার মনে, আপনার সমস্ত সত্তায়, সমগ্র অস্তিত্বে। যে সামাজিক দূরত্ব (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং) (স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রায়শই এই কথাটির ভুল প্রয়োগ করেন দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে ওটা সামাজিক নয়, ওটা হবে শারীরিক দূরত্ব)। আপনাকে এতকাল করে রেখেছিল ভিন্ন গ্রহের মানুষ, তাকে আপনি সারমেয় তাড়ানোর মতো তাড়িয়ে দিয়ে আপনার দেশবাসীকে—হোক না তারা গরিব ‘মূঢ় ম্লান মূক মুখের’ মানুষ—বুকে টেনে নিয়ে অনুভব করবেন এক অপার্থিব সুখ। তখন আপনার মনে পড়বে ছেলেবেলায় পড়া লালমনিরহাটের কবি শেখ ফজলুল করিমের কবিতা : কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর /মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেই সুরাসুর।/...প্রীতি ও প্রেমের পুণ্যবাঁধনে মিলি যবে পরস্পরে/স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদের কুঁড়েঘরে।

৪.

রোজা তো চলে যাচ্ছে রোজার নিয়মে। আবার আসবে এক বছর পর। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে রোজা এসেছিল তা কি সফল হয়েছে? আরবি শব্দ ‘রমজান’-এর একটি অর্থ কোনো কিছু পোড়ানো। রোজা কিন্তু প্রতিবছর আসে আমাদের জন্য এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে। কিসের সুযোগ? আমাদের অন্তর্গত হিংসা-বিদ্বেষ-ঘৃণা-লোভ-লালসা ও অন্যান্য যাবতীয় পাপাচারকে পুড়িয়ে ফেলার সুযোগ। এক মাস নিয়মানুগ উপবাসের দ্বারা আমাদের এই দহনক্রিয়া সম্পাদন করার কথা। তা কি আমরা করতে পেরেছি? না পারলে এই উপবাস কিন্তু ‘ষোলো আনাই বৃথা’।

 

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

[email protected]