kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

আলজাজিরার ব্যর্থ মিডিয়া ক্যু এবং তার একান্ত কুশীলব বার্গম্যানের কষ্ট সমীকরণ

ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আলজাজিরার ব্যর্থ মিডিয়া ক্যু এবং তার একান্ত কুশীলব বার্গম্যানের কষ্ট সমীকরণ

গত ১৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখে সিআইএ ফান্ডেড অনলাইন পোর্টাল ‘নেত্র’ নিউজে ‘জেনারেল আজিজকে কেন বরখাস্ত করেননি শেখ হাসিনা’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। লেখার পরবর্তী অংশে যাওয়ার আগে আপনাদের জেনে রাখা ভালো যে এই অনলাইন পোর্টালটি বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকার দুই সম্পাদক যথাক্রমে তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে যে উল্লিখিত দুজন ব্যক্তিই আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর অর্থায়নে নির্দেশিত সাংবাদিক। উল্লেখ্য, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল এন্ডৌমেন্ড ফর ডেমোক্রেসির সরাসরি অর্থায়নে এই পোর্টালটি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে এ-ও জেনে রাখা ভালো, সারা বিশ্বে মার্কিন ‘ইন্টারেস্ট’ বিরুদ্ধ যেসব দেশ রয়েছে কিংবা মার্কিন ‘পলিসি বিরুদ্ধ’ যে দেশগুলো রয়েছে কিংবা কাজ করছে, সেসব দেশগুলোর বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরি করার পেছনে সিআইএর এই ‘সুশীল ঘরানার’ অর্গানাইজেশনটির সরাসরি ভূমিকা আছে বলেই নানা সময়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আলোচ্য যে কলামটির বিষয়ে আজকে আমি লিখতে বসেছি সেটির লেখক যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ডেভিড বার্গম্যান, যিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মেয়ে জামাই। উল্লিখিত লেখাটির প্রথম দুই প্যারায়ই ডেভিড বার্গম্যান বিস্ময় নিয়ে আমাদের জানাচ্ছেন যে কাতারভিত্তিক সম্প্রচার মাধ্যম আলজাজিরা ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ নামের যে কল্পিত তথ্যচিত্র গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে প্রকাশ করেছিল সেটি নাকি ছিল বাংলাদেশের সমস্ত দুর্নীতির ‘অকল্পনীয়’ চিত্র এবং একই সঙ্গে ডেভিড বার্গম্যান মনে করেন এই কল্পিত তথ্যচিত্রটির পরিপ্রেক্ষিতে যে ‘আঘাত’ আলজাজিরা বাংলাদেশে করতে চেয়েছে সেটিকে ‘সামাল’ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ডেভিড বার্গম্যান একবারের জন্য তাঁর লেখায় উল্লেখ করেননি যে এই পুরো কল্পিত তথ্যচিত্রটিতে যে অভিযোগগুলো মাননীয় সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তা মূলত করেছিলেন যে তিনজন (ডেভিড, তাসনিম ও সামি) তাঁদেরই একজন হলেন এই ডেভিড। নিজেরাই মিথ্যাচার করে আবার এই নিজেরাই যখন বলছেন, ‘এটিকে কেন পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না’ এর থেকে বড় কৌতুক বোধকরি আর হয় না।

এই তিনজনের নানা ধরনের অসত্য ডকুমেন্ট প্রদর্শন, মিথ্যা বচন ও অসংলগ্ন বক্তব্যের ওপরেও গড়ে উঠেছিল আলজাজিরার সেই কল্পিত তথ্যচিত্রটি। এমন একটি কল্পিত তথ্যচিত্রের ফলে কেন বাংলাদেশের সরকার ‘টালমাটাল’ হয়ে ওঠেনি এই বিস্ময় না কাটতেই ডেভিড বার্গম্যান আমাদের জানাচ্ছেন, এই ঘটনায় কেন বাংলাদেশ সরকারের কেউ পদত্যাগ করেনি। ডেভিড বার্গম্যানের অন্তর্নিহিত বিস্ময়ের খুব সরল হাহাকারটির মূল ভাষ্য দাঁড়ায় এমন, ‘বাংলাদেশ সরকার আমাদের মিথ্যাচারে পাত্তা দিল না কেন?’

CIA এই ‘এন্টি-এস্টাবলিশমেন্ট’ গ্রান্টগুলো মূলত রিলিজ করা হয় ন্যাশনাল এন্ডৌমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (National Endowment for Democracy-NED)  নামের একটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে। এ নিয়ে এর আগে বহুবার মূলত লাতিন আমেরিকান দেশগুলো থেকে গুরুতর ধরনের আপত্তি তোলা হয়েছিল। একই সঙ্গে চীন তো বলতে বলতে অনেকটা মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে এই সংস্থাকে নিয়ে। চায়নার অভিযোগ ছিল, চীন সরকারের যারা বিরোধীপক্ষ রয়েছে আশপাশের দেশে, এদের  NED  নিয়মিত ফান্ডিং করছে চীন সরকারের বিরুদ্ধে।  NED কিভাবে বিভিন্ন দেশে অপারেট করে সেটার নানা ধরনের রকমফের রয়েছে। তবে এদের কাজ কোথাও ধীরগতির, কোথাও দ্রুত। ন্যাশনাল এন্ডৌমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির  (NED)  বিধি রচয়িতা এলেন ওয়েইস্টেইন ১৯৯১ সালে যথার্থই বলেছিলেন, ‘A lot of  what we do today was done covertly 25 years ago by the CIA.’|  NED তাদের ওয়েবসাইটে তারা কী করে কিংবা কী করতে চায় এমন বিভাগে লিখে রেখেছে এমন— ‘To move beyond successful elections toward mature and resilient democracies, NED takes a long-term approach’

। এই যে এরা লিখে রেখেছে 'Long Term Approach' এটার আরেকটা সহজ বাংলা হচ্ছে, ‘ধীরগতিতে বিষ ঢালব’। যেই দেশকে টার্গেট করবে এরা, সেই দেশের সুনির্দিষ্ট স্তম্ভ যেমন জুডিশিয়ারি, এক্সিকিউটিভ, লেজিসলেচার ইত্যাদি অর্গানকে এরা টার্গেট করবে। এই ‘লং টাইম অ্যাপ্রোচ’ কিংবা ‘ধীরগতির বিষ’ ফলাতে বেছে নেয় এমন একটা দল বা ব্যক্তিকে, যাদের প্রচণ্ড ক্রোধ রয়েছে বিদ্যমান সরকারের প্রতি কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি।

এর মধ্যে একটি তথ্য এখানে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি যে ডেভিড বার্গম্যানের সহকর্মী তাসনিম খলিল ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান চায়নিজ ব্লকে হেলে গেছে’ এমন ধরনের প্রোপাগান্ডা প্রাণপণে চালিয়ে গেছেন দীর্ঘ সময় ধরে। তাসনিম প্রাণপণে যে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেটা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশ আসলে চীনের কলকাঠিতেই নড়ছে এবং ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক নেই’। পাঠক ভেবে দেখুন হিসাব আসলে মিলছে কি না। ১. বাংলাদেশ সরকারকে চীনা ব্লকের বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, ২. ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে প্রচার করা আর ৩. অন্যদিকে আমেরিকার ফান্ডে নেত্র নিউজ চালানো যেখানে সিআইএ ইস্যুটি উঠে এসেছে।

ডেভিড বার্গম্যান তাঁর আলোচ্য কলামে বাংলাদেশ সরকারকে আবার পথ বাতলে দিচ্ছেন এই বলে যে আলজাজিরার এই কল্পিত তথ্যচিত্রের রেশ ধরে মাননীয় সেনাপ্রধানকে পদচ্যুত করলেই নাকি তথ্যচিত্রের ‘আলোড়ন’ কমে যেতে পারত এবং তাঁর সরকারের কাছ থেকে দায় কমে যেতে পারত। মানে দাঁড়ায়, ডেভিড বার্গম্যান ভেবেই নিচ্ছেন এই একটি কল্পিত তথ্যচিত্র হচ্ছে ‘আলোড়িত’ এবং এই তথ্যচিত্রটি প্রকাশের মাধ্যমেই ‘দুর্নীতির প্রমাণ হয়ে যায় এবং শুধুমাত্র এটির পরিপ্রেক্ষিতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে পদচ্যুত করতে পারেন।’

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই পুরো প্রক্রিয়া বাতলে দেওয়ার একটা নামও সামগ্রিকভাবে ডেভিড দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে ‘কৌশল’। যার সরল বাংলা দাঁড়ায়, তিনি যা যা করতে পারেন বলে ডেভিড মনে করছেন, সেটি আসলে কোনো পদক্ষেপই হতে পারত না, যা হতে পারত তা হচ্ছে রাজনৈতিক কৌশল। একই সঙ্গে ডেভিড মনে করেন, এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারের কাছে তাঁর নিজের চেহারা ‘একটু উজ্জ্বল’ করতে পারতেন।

ডেভিড তাঁর কলামে একটি অদ্ভুত সাক্ষী আমাদের সামনে হাজির করেছেন। যেই সাক্ষী বার্গম্যানকে সরকারের ভেতরের তথ্য দিচ্ছেন বলে দাবি করছেন; কিন্তু সেই সূত্রটির নাম আমাদের বলছেন না। এই কল্পিত সূত্রকে ডেভিড আবার আমাদের সামনে তুলে আনছেন ‘নাম না প্রকাশ করার শর্তে’ নামের এক অতি প্রচলিত কিছু শব্দ দ্বারা। এই ‘নাম না প্রকাশ করার শর্তে’ কিংবা ‘একজন অমুক আমাকে বলেছেন’, একজন ‘তমুক আমাকে বলেছেন’ এই সব সূত্র মূলত ঠুনকো ও হাস্যকর সূত্র। এই ‘নাম না প্রকাশ করার শর্তে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা’ পুরো বাক্যটির উদ্দেশ্য হচ্ছে এটি বুঝিয়ে দেওয়া যে, ১. আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা ডেভিড বার্গম্যানের মতো একজন যুদ্ধাপরাধীর বন্ধু ও সিআইএ এজেন্টকে তথ্য দিচ্ছে। ২. সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা সমস্যা চলছে।

লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে, ডেভিড বারবার তাঁর লেখায় একটি স্পস্ট ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করছেন আর সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতর ‘তীব্র’ অন্তঃকোন্দল রয়েছে, মতবিরোধ রয়েছে এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর সঙ্গে বর্তমান সেনাপ্রধানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। শুধু ডেভিডই যে এই কথা বলছেন তা নয়, ডেভিডের ক্রাইম পার্টনার তাসনিম খলিলও এই ব্যাপারটি একটা দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার করে যাচ্ছেন।

ডেভিড বার্গম্যান যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেনাপ্রধানের ক্ষমা চাওয়া কিংবা ক্ষমা করে দেওয়া কিংবা সিনিয়র নেতার সূত্র কিংবা তারেক সিদ্দিকীর সঙ্গে মনোমালিন্য কিংবা সেনাবাহিনীর ভেতর বিরোধ নিষ্পত্তির শর্তে সেনাপ্রধানকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে চাউর করছেন—এটা সরল অর্থে একটি ‘মাইন্ড-গেইম’ ছাড়া আর কিছুই নয়। মার্কিন যে ‘শ্যাডো নীতি’ বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাংলাদেশকে যেভাবে চীন কিংবা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় সেটির লম্বা ও কৌশলী প্রক্রিয়ার একটি অংশেই কাজ করছেন এই ডেভিড বার্গম্যান। সেই পুরো প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর এই লেখা ও চেষ্টা। যেটিকে আমি ওপরে অভিহিত করেছি ‘ধীরে বিষ ঢালা প্রক্রিয়া’ হিসেবে।

ডেভিডের কলামের যে শব্দগুলো পাঠকদের লক্ষ করতে বলব সেটি হচ্ছে, ‘শোনা যায়’, ‘জানা যায়’, ‘বলা হয়’, ‘হয়তো’ ইত্যাদি শব্দ। অর্থাৎ একটি লেখাকে কাল্পনিক সমস্ত তথ্যসমৃদ্ধ করে সেগুলোর ভেতর ফাঁকে ফাঁকে যখন এসব শব্দ সন্নিবেশিত করা হয়, তখন লেখাটিকে একটি ফরমায়েশি ও ষড়যন্ত্র ঘরানার লেখা ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এই কলামটির মধ্যে ডেভিডের সেই পুরনো কাসুন্দিই আবার নতুনভাবে প্রকাশিত হয়েছে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সুরে, তবে এই লেখায় সবচেয়ে যে অংশ হাস্যকর হয়েছে, সেটি একেবারে শেষের দিকে লিখেছেন ডেভিড। আমি সেই অংশটি হুবহু তুলে দিচ্ছি। ডেভিডের ভাষ্যমতে—

‘সেই সঙ্গে আজিজকে অপসারণ করা মানে তার ভাইদেরও শাস্তি দেওয়া। আজিজের ভাইয়েরা সাধারণ কোনো ব্যক্তি নন। তারা ছিলেন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য এবং এখনো এসব কাজে যুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সরকারের অনেক গোপন বিষয়ও নিশ্চয় তাদের জানা রয়েছে। আজিজকে অপসারণ করলে তার ভাইদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়েও হয়তো উদ্বিগ্ন হয়েছেন হাসিনা।’

ডেভিড ও তাঁর অনুসারীরা কিছু বিষয় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন। সেগুলো হচ্ছে—১. সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ মাফিয়া পরিবারের সদস্য। এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। ২. জেনারেল আজিজ আর্মি চিফ হয়ে হাঙ্গেরিতে শহরে বসবাসরত তাঁর ভাইকে অবৈধ ব্যবসা করতে সহায়তা করেছেন। তাঁরা স্পাই ওয়্যার ইকুইপমেন্ট চুক্তির একটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। মজার বিষয় হলো যখন চুক্তিটি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছিল এবং যখন এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তখন আজিজ সেনাবাহিনী প্রধানই ছিলেন না। ৩. জেনারেল আজিজ বিদেশে পলাতক ভাইদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এ ধরনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ডেভিডের উল্লেখ করা তারিখগুলো একেবারেই তাৎপর্যহীন। জেনারেল আজিজের ভাইদের সেই তারিখের আগেই শাস্তি কিংবা অভিযোগ যাই-ই বলি না কেন, সেগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ৪. আজিজ পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত। তাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রমাণই আলজাজিরা দিতে পারেনি। ৫. সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে গ্রুপিং/অসন্তুষ্টি রয়েছে। অথচ সেনাবাহিনী COVID-যুদ্ধের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েনের সময় সবচেয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করেছিল এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে তাই ‘আলজাজিরা’ নিয়ে সামান্যতম মাথা ব্যথা নেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকার কেন সেনাবাহিনী প্রধানকে বরখাস্ত করবে? ভিত্তিহীন গল্পের ভিত্তিতে? এই গোষ্ঠীর দ্বারা প্রচারিত আলজাজিরা পর্বটি ছিল ষড়যন্ত্র, যা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যেকোনো সংস্থার প্রধান হিসেবে যে কাউকে বেছে নিতে পারে। জেনারেল আজিজ ছিলেন একজন সফল ডিজি-বিজিবি, যিনি চার বছরের জন্য এই বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আজিজ সেনাবাহিনী পরিচালনা করছেন। তাঁর নেতৃত্বের যোগ্যতা ও বুদ্ধিই তাঁকে সফল সেনাবাহিনী প্রধান করেছে।

ডেভিড বার্গম্যান গংদের আসলে হয়েছে এক ‘দিবাস্বপ্ন রোগ’। নিজেরাই একটি কল্পিত তথ্যচিত্র বানালেন। লাভ হলো না। এরপর সেই তথ্যচিত্রের প্রতি মিনিট ধরে ধরে আলাদা আলাদা কলাম লিখলেন। লাভ হলো না। এরপর তথ্যচিত্রের চরিত্রদের ধরে ধরে কলাম লিখলেন। লাভ হলো না। এরপর সেই তথ্যচিত্রের বিভিন্ন ডকুমেন্ট নিয়ে কলাম লিখলেন। লাভ হলো না। এবার কলাম লিখলেন এই বলে যে ‘প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছে’।

এইবার অবশ্য লাভ হয়েছে। হাসির মাধ্যমে যে থেরাপির কথা করোনাকালে চিকিৎসকরা বারবার বলছেন, সেটা জনতা মুফতে পেয়ে গেছেন।

 

লেখক : আইনজীবী



সাতদিনের সেরা