kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

কলাবউ বা নবপত্রিকা আসলে কী?

মাধবী রাণী চন্দ

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলাবউ বা নবপত্রিকা আসলে কী?

দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে গেলে গণেশের পাশে লালপাড় সাদা শাড়িতে অথবা লালপাড় হলুদ শাড়িতে ঘোমটা ঢাকা একটি কলাগাছ দেখা যায়। অনেকেই এটিকে কলাবউ বা গণেশের স্ত্রী বলেন। কিন্তু আদৌ এটি গণেশের স্ত্রী নয়। এটিকে ‘নবপত্রিকা’ বলা হয়। এটি মা দুর্গা অর্থাৎ গণেশের জননী। গণেশের স্ত্রীদের নাম রিদ্ধি ও সিদ্ধি। নবপত্রিকা দুর্গাপূজার একটি বিশেষ অঙ্গ। নবপত্রিকার আক্ষরিক অর্থ ৯টি পাতা। তবে বাস্তবে নবপত্রিকা ৯টি পাতা নয়, ৯টি গাছ। এই ৯টি গাছ বা উদ্ভিদ হলো—

রম্ভা কচ্চী হরিদ্রাচ জয়ন্তী বিল্ব দাড়িমৌ।

অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা

১. কদলী বা রম্ভা (কলা) ২. কচু  ৩. হরিদ্রা (হলুদ) ৪. জয়ন্তী ৫. দাড়িম্ব (ডালিম) ৬. অশোক ৭. মান ৮. ধান ৯. বিল্ব (বেল)

এই ৯টি উদ্ভিদ মা দুর্গার ৯টি শক্তির প্রতীক।

এই ৯টি বিভিন্ন গাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম যথাক্রমে—

১. কদলী বা কলাগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—ব্রহ্মাণী, ২. কচুগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—কালিকা, ৩. হরিদ্রাগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—উমা, ৪. জয়ন্তীগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—কার্তিকী, ৫. বিল্ব বা বেলগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—শিবা, ৬. দাড়িম্বগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—রক্তদন্তিকা, ৭. অশোকগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—শোকরহিতা, ৮. মানগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—চামুণ্ডা, ৯. ধানগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—লক্ষ্মী।

এই নব দেবী একত্রে ‘নবপত্রিকাবাসিনী নবদুর্গা’।

একটি সপত্র কলাগাছের সঙ্গে অপর আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একত্র করে এক জোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি বা লালপাড় হলুদ শাড়ি পরিয়ে ঘোমটা দিয়ে বধূর আকার দেওয়া হয় এবং তাকে ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বেলগাছের নিচে রাখা হয়। তাকেই বলা হয় নবপত্রিকা। এই নবপত্রিকাকে প্রচলিত ভাষায় বলা হয় কলাবউ।

মহাসপ্তমীর দিন সকালে কোনো নদী বা কোনো জলাশয়ে এই নবপত্রিকাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরোহিত নিজেই কাঁধে করে নবপত্রিকা নিয়ে যান। তাঁর পেছন পেছন ঢাকিরা ঢাক বাজাতে বাজাতে এবং মহিলারা শঙ্খ ও উলুধ্বনি করতে করতে যান। শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান করানো হয়। এরপর নবপত্রিকাকে পরানো হয় নতুন শাড়ি। পরে পূজামণ্ডপে নিয়ে এসে নবপত্রিকাকে মা দুর্গার ডান দিকে অর্থাৎ গণেশের ডান পাশে একটি সিংহাসনে বসানো হয়। পূজামণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠানটির প্রথাগত সূচনা হয়।

নবপত্রিকার পূজা একাধারে কৃষিপ্রধান ভারতবর্ষের বৃক্ষপূজা বা শস্যদেবীর পূজা, অন্যদিকে রোগব্যাধি বিনাশকারী বনৌষধির পূজা।

‘নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নম :’ মন্ত্রে পূজিতা হন এই নবদুর্গা।

লেখক : অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা